কুমিল্লা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে (জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড) পাশাপাশি রাখা তিনটি পরিত্যক্ত বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ একসঙ্গে তিনটি বাসে আগুন লাগলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা গেছে, রয়েল কোচ পরিবহনের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) তিনটি বাস দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। ঢাকা-কুমিল্লাসহ বেশ কয়েকটি সড়কে চলাচলকারী এই পরিবহনের বাসগুলো অচল হয়ে পড়ার পর থেকে টার্মিনালেই রাখা ছিল। রোববার দুপুরে হঠাৎ বাসগুলোতে আগুনের সূত্রপাত হলে স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। এরপর নগরের ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট বাসচালক ও চালকের সহকারীরা জানান, পরিত্যক্ত বাসগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের অবাধ যাতায়াত ছিল। বাসের ভেতরে বসে তারা নিয়মিত মাদক সেবন করত।
তাদের ধারণা, মাদকসেবীদের ব্যবহৃত আগুন থেকে অথবা কোনো দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কারণ স্বাভাবিকভাবে পরিত্যক্ত বাসে হঠাৎ আগুন ধরার কোনো কারণ নেই বলে তারা মনে করেন।
কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, পরিত্যক্ত বাসগুলোতে মাদকসেবীদের আনাগোনা ছিল। তাদের মাধ্যমেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান।
এই ঘটনায় টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। পরিত্যক্ত যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালে ফেলে রাখা এবং সেখানে মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়াকেই এই দুর্ঘটনার পেছনের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোঃ আনজার শাহ 



















