বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় এখনও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় ১২ ফেব্রুয়ারী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও উঠান বৈঠকে অস্ত্র প্রদর্শন ও হামলার অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় এই শঙ্কা আরও গভীর হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কার মধ্যেই একাধিক ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব ঘটনার পর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত ওই অস্ত্রগুলো উদ্ধার হয়নি। এতে ভোটের মাঠে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন ভোটাররা।
স্থানীয় ভোটাররা জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় কাজ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
এদিকে, সচেতন মহলের অভিমত—নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ ও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ভোটের মাঠে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
অন্যদিকে, সোমবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম অভিযোগ করে বলেন, খাউলিয়া ইউনিয়নের পথের বাজার এলাকায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সোমনাথ দে’র কর্মী-সমর্থকরা স্বশস্ত্র হামলা চালিয়ে সাতটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন রিমোট এলাকায় তার নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কামলা বাজার এলাকায় সম্প্রতি দুই ভাইকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অপরদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী খায়রুজ্জামান (শিপন) সাংবাদিকদের জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে তিনি নিজ বাসায় অবস্থানকালে একটি অজ্ঞাতনামা নম্বর (+৯১৯৭৪৮৮৯৪৬২২) থেকে তার মোবাইল ফোনে কল করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই নম্বরে কল দিলে তাকে গালাগালিসহ প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া বিভিন্ন সময় অপরিচিত একাধিক নম্বর থেকে তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এ কারণে বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য সাধারণ ডায়েরীভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি কর্মীদের জীবনমান নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

মো. নাজমুল, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ 



















