ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ

বাবার মরদেহ কারাগারের ফটকে, প্যারোলে মুক্তি মেলেনি ছেলের

সংগৃহীত ছবি

 

বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও অনুমতি না পাওয়ায় কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের ফটকে বাবার মরদেহ দেখার সুযোগ পান কারাবন্দী আওয়ামী লীগ কর্মী মিলন মিয়া। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনার ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা করা হয়।

 

মিলন মিয়া (৪৫) কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী। ওই মামলায় তিনি জামিন পেলেও পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হলেও কোনো পদ-পদবিতে নেই।

 

স্বজন ও আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, মিলনের বাবা ফুল মিয়া (৭০) দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর বাবার জানাজায় অংশ নিতে মিলন মিয়ার প্যারোলে মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। তবে আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। পরে বাবার মরদেহ কারাগারের ফটকে নিয়ে গিয়ে দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

মিলনের চাচা মতিউর রহমান বলেন, ‘কারাফটকে বাবার মরদেহ দেখে মিলন কান্নায় ভেঙে পড়ে। প্যারোলে মুক্তির জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মরদেহ কারাগারে আনতে হয়।’ তিনি জানান, তার ভাতিজাকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ভৈরব থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করে। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি একটি মামলায় জামিন পেলেও বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেক মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূঁইয়া বলেন, ‘মিলনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

 

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের ফটকে মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

জনপ্রিয়

এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর

বাবার মরদেহ কারাগারের ফটকে, প্যারোলে মুক্তি মেলেনি ছেলের

আপডেট : ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

 

বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও অনুমতি না পাওয়ায় কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের ফটকে বাবার মরদেহ দেখার সুযোগ পান কারাবন্দী আওয়ামী লীগ কর্মী মিলন মিয়া। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনার ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা করা হয়।

 

মিলন মিয়া (৪৫) কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী। ওই মামলায় তিনি জামিন পেলেও পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হলেও কোনো পদ-পদবিতে নেই।

 

স্বজন ও আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, মিলনের বাবা ফুল মিয়া (৭০) দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর বাবার জানাজায় অংশ নিতে মিলন মিয়ার প্যারোলে মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। তবে আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। পরে বাবার মরদেহ কারাগারের ফটকে নিয়ে গিয়ে দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

মিলনের চাচা মতিউর রহমান বলেন, ‘কারাফটকে বাবার মরদেহ দেখে মিলন কান্নায় ভেঙে পড়ে। প্যারোলে মুক্তির জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মরদেহ কারাগারে আনতে হয়।’ তিনি জানান, তার ভাতিজাকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ভৈরব থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করে। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি একটি মামলায় জামিন পেলেও বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেক মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূঁইয়া বলেন, ‘মিলনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

 

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের ফটকে মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়।