ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপ রাজধানীতে এক রাতে ৮ ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন বাগেরহাটে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৭ প্রবাসীর মৃত্যু ​ বাগেরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত ​ পিরোজপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশ ঝালকাঠিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তিন মাসের প্রশিক্ষণে দক্ষতা অর্জন, এবার আয়ের সুযোগ ১০০ নারীর মোরেলগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

বাবার মরদেহ কারাগারের ফটকে, প্যারোলে মুক্তি মেলেনি ছেলের

সংগৃহীত ছবি

 

বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও অনুমতি না পাওয়ায় কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের ফটকে বাবার মরদেহ দেখার সুযোগ পান কারাবন্দী আওয়ামী লীগ কর্মী মিলন মিয়া। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনার ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা করা হয়।

 

মিলন মিয়া (৪৫) কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী। ওই মামলায় তিনি জামিন পেলেও পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হলেও কোনো পদ-পদবিতে নেই।

 

স্বজন ও আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, মিলনের বাবা ফুল মিয়া (৭০) দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর বাবার জানাজায় অংশ নিতে মিলন মিয়ার প্যারোলে মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। তবে আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। পরে বাবার মরদেহ কারাগারের ফটকে নিয়ে গিয়ে দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

মিলনের চাচা মতিউর রহমান বলেন, ‘কারাফটকে বাবার মরদেহ দেখে মিলন কান্নায় ভেঙে পড়ে। প্যারোলে মুক্তির জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মরদেহ কারাগারে আনতে হয়।’ তিনি জানান, তার ভাতিজাকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ভৈরব থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করে। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি একটি মামলায় জামিন পেলেও বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেক মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূঁইয়া বলেন, ‘মিলনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

 

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের ফটকে মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

জনপ্রিয়

এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপ

বাবার মরদেহ কারাগারের ফটকে, প্যারোলে মুক্তি মেলেনি ছেলের

আপডেট : ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

 

বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও অনুমতি না পাওয়ায় কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের ফটকে বাবার মরদেহ দেখার সুযোগ পান কারাবন্দী আওয়ামী লীগ কর্মী মিলন মিয়া। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনার ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা করা হয়।

 

মিলন মিয়া (৪৫) কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী। ওই মামলায় তিনি জামিন পেলেও পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হলেও কোনো পদ-পদবিতে নেই।

 

স্বজন ও আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, মিলনের বাবা ফুল মিয়া (৭০) দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর বাবার জানাজায় অংশ নিতে মিলন মিয়ার প্যারোলে মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। তবে আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। পরে বাবার মরদেহ কারাগারের ফটকে নিয়ে গিয়ে দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

মিলনের চাচা মতিউর রহমান বলেন, ‘কারাফটকে বাবার মরদেহ দেখে মিলন কান্নায় ভেঙে পড়ে। প্যারোলে মুক্তির জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মরদেহ কারাগারে আনতে হয়।’ তিনি জানান, তার ভাতিজাকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ভৈরব থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করে। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি একটি মামলায় জামিন পেলেও বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেক মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূঁইয়া বলেন, ‘মিলনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

 

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের ফটকে মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়।