তথ্য উপদেষ্টার উপর আক্রমনকারী মোহাম্মদ হুসাইনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছ। ডিবি অফিসে তার সাথে ও তার পরিবারের সাথে কথা বলেছেন তথ্য উপদেষ্টা। আন্দোলন শেষে তিনি তাকে বাসায় আসার দাওয়াত দিয়েছেন। এর আগে দুপুরে তিনি হুসাইনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, “আমি কোনো ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নই। আমার ব্যাপারে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।”
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকাল তিনি এসব কথা বলেন।
জানা গেছে, জবির অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হুসাইন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
হুসাইন বলেন, “গতকালের (১৪ মে) ঘটনাটি ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বোতল ছুড়ে মারি নাই। বোতলটি আকাশের দিকে নিক্ষেপ করি। কাউকে আহত বা অপমান করার জন্য কাজটি করি নাই।”
ওই জবি শিক্ষার্থী বলেন, “আমার নামে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। আমি শিবির কিংবা ছাত্রলীগ, কোনো ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নই। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় পুলিশ আমাকে পেটায়। সেখানে আজকে আমাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। আমি নিজের খরচ চালানোর জন্য টিউশন, পার্ট টাইম জব করি। এ ছাড়া পড়াশোনায় আমার অনেক সময় চলে যায়। আমার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দলে সময় দেওয়া সম্ভব না।”
হুসাইন আরও বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর আমাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে কল দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা ক্যাম্পাসের আশপাশেই থাকেন বলে জানাচ্ছেন। ক্যাম্পাসে গেলে মব দিয়ে আমাকে হেনস্তা করার হুমকি দিচ্ছেন অনেকে।”
এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে বুধবার রাতে কাকরাইল মসজিদের সামনে যান অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। রাত ১০টার দিকে তিনি সেখানে পুলিশি ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। হঠাৎই তাকে লক্ষ্য করে একটি পানির বোতল নিক্ষেপ করা হয়। বোতলটি গিয়ে উপদেষ্টার মাথায় লাগে।
শিক্ষা উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই জবির সমস্যার সমাধান নিয়ে সরকারের স্পষ্ট রোডম্যাপ জানানো হবে। জবির শিক্ষার্থীদের আবাসন সঙ্কট দ্রুতই সমাধান হোক।

মোঃ আনজার শাহ 



















