ঢাকা , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
এবার এইচএসসিতে বরিশাল বোর্ডে ১১ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস পিরোজপুরে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা বাগেরহাটের কাটাখালী গোলচত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমাগম বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি বাংলাদেশের গত ২২ বছরের মধ্যে এইচএসসিতে সর্বনিম্ন পাসের হার তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন, আমি পালিয়ে আসি: পিবিআইকে দীপ ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪ মোরেলগঞ্জে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে আইডিয়াল জেনারেল হাসপাতালের উদ্বোধন বন্ধ শিল্পকারখানা সচল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের বহুমুখী পরিকল্পনা মোরেলগঞ্জে বেতকাশি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে শিক্ষা অফিস

সন্তানের ভবিষ্যৎ যেন এক নির্মম বাস্তবতা এবং আদালতের রায়

 

একটি ফুটফুটে শিশুর মমতাময় শৈশব ছিন্নভিন্ন করে দেয়ার মতো ঘটনা প্রায়ই আদালতের চৌকাঠে উঠে আসে। পারিবারিক কলহের জেরে বাবা-মায়ের মধ্যে আইনি লড়াইয়ের শিকার হয় অনেক শিশু।

 

সম্প্রতি এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের তরুণী ফারহানা করিম এবং তার আমেরিকান নাগরিক স্বামী গ্যারিসন রবার্ট ল্যুট্রেলের জীবনে। এই ঘটনায় আদালতের রায় একটি শিশুর জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

একটি সুখময় শুরুর গল্প
ফারহানা করিম, ঢাকার উত্তরায় বেড়ে ওঠা এক প্রতিভাবান তরুণী, উচ্চশিক্ষা এবং নিজের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে পাড়ি জমান আমেরিকায়। প্রবাসে পরিচয় হয় গ্যারিসন রবার্ট ল্যুট্রেলের সঙ্গে। কথা থেকে ভালো লাগা, আর ভালো লাগা থেকে গড়ে ওঠে ভালোবাসার সম্পর্ক। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সুখী সংসার শুরু করেন তারা।

 

 

এই সুখময় জীবনের পূর্ণতা আসে এক ফুটফুটে সন্তানের জন্মের মাধ্যমে। কিন্তু বছর চারেক যেতে না যেতেই সম্পর্কের মাঝে ঝড় আসে। পারিবারিক কলহ ক্রমেই তীব্র হয়, যা তাদের ঠেলে দেয় আদালতের দ্বারপ্রান্তে।

 

আদালতের রায় ও বাস্তবতা
২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের হাইকোর্ট রায় দেন, সন্তান সপ্তাহের নির্দিষ্ট সময়ে বাবার কাছে থাকবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ফারহানা করিমকে তার সন্তানকে শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাবার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

 

এই নির্দেশনা অনুসারে, ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর ফারহানা করিম তার সন্তানকে গ্যারিসনের বাসভবন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি ব্লকে হস্তান্তর করেন।

 

বাবার অনুভূতি
সন্তানকে নিজের কাছে পেয়ে গ্যারিসন রবার্ট ল্যুট্রেল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমি বহুদিন ধরে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। সন্তানের দায়িত্ব পালন আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি বাংলাদেশের আইনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল।”

 

মায়ের অনুভূতি
অন্যদিকে, সন্তানকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হস্তান্তর করার পর ফারহানা করিম বলেন, “মায়ের মমতা কখনো কমে না। সন্তানের মঙ্গল কামনা করি, যদিও তাকে ছেড়ে থাকা আমার জন্য সহজ নয়।”

 

শিশুর মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ শিশুটিকে মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর অভিযোগ উঠেছে, সে বাবার কাছে আতঙ্কগ্রস্ত থাকে। কান্নারত অবস্থায় তাকে জোর করে ধরে রাখার কারণে তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে।

 

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, মায়ের স্নেহ থেকে দূরে থাকা একটি শিশুর মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি শিশুটি বারবার মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানাচ্ছে, যা তার মানসিক যন্ত্রণার প্রমাণ।

 

বিদেশে নিয়ে যাওয়ার শঙ্কা
গ্যারিসনের কাছে শিশুটির পাসপোর্ট থাকার কারণে, ফারহানা করিম উদ্বিগ্ন যে, গ্যারিসন গোপনে শিশুটিকে বিদেশে নিয়ে যেতে পারেন। এই শঙ্কা মা এবং তার পরিবারের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

 

বউ ও সন্তানের খরচ না দেওয়ার অভিযোগ
ফারহানা করিমের পরিবার থেকে অভিযোগ উঠেছে, গত এক বছর ধরে গ্যারিসন সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনি সন্তানদের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা প্রদান করেননি। এমনকি স্ত্রী ফারহানার ন্যায্য খরচের দাবিও উপেক্ষা করেছেন।

 

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সন্তানের ভরণপোষণ বাবার মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু গ্যারিসন এই দায়িত্ব থেকে পিছু হটেছেন। এতে সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং মায়ের ন্যায্য অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

অধিকারের দ্বন্দ্ব: মা ও সন্তানের অধিকার উপেক্ষিত ফারহানা করিমের পরিবারের অভিযোগ, গ্যারিসনের আর্থিক প্রভাবের কারণে মায়ের এবং সন্তানের অধিকার অবহেলিত হচ্ছে। যেখানে মা এবং শিশুর অধিকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার কথা, সেখানে বাবার আর্থিক প্রভাবকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

 

নির্মম বাস্তবতার প্রশ্ন
একটি নাবালক শিশু যখন বাবার ভালোবাসা এবং মায়ের মমতার মাঝে বিভক্ত হয়ে যায়, তখন তার শৈশব কতটা প্রভাবিত হয়? মায়ের আঁচল এবং বাবার সুরক্ষার মাঝে বিচ্ছিন্ন এই শিশুর মানসিক বিকাশ কতটা সঠিক পথে এগোবে, সেটি এখন বড় প্রশ্ন।

 

এটি কি সেই বাস্তবতা যেখানে একটি শিশুকে শৈশব থেকেই মায়ের মমতা এবং বাবার সান্নিধ্য ভাগাভাগি করতে হয়? এমনকি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মালেও জীবন তাকে নির্মম পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়।

 

সন্তানের কল্যাণের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রয়োজন আইনের রায় হয়তো ন্যায়বিচারের কাঠামো নিশ্চিত করে, তবে একটি শিশুর জন্য এটি কি সর্বোত্তম সমাধান? বাবা-মায়ের সম্পর্কের জটিলতায় শিশুটির ভবিষ্যৎ যেন কখনো অনিশ্চয়তায় না হারায়।

 

জীবন শত রূপে সাজে, কিন্তু প্রতিটি শিশুর জন্য তা যেন মমতার এক অনন্য আশীর্বাদ হয়ে থাকে। একটি শিশুর মানসিক এবং শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মায়ের মমতা, বাবার দায়িত্ব এবং সমাজের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এই তিনটি উপাদান অপরিহার্য।

 

বিগত সময় আদালত কর্তৃক রায়ের
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নাবালক বা নাবালিকা তাদের হেফাজত নির্ণয় সবচেয়ে বেশি মঙ্গল যেটি তার গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক মানসিক ও পারিপার্শ্বিক তথা সবকিছু বিবেচনায় রেখে মামলা নিষ্পত্তিতে গুরুত্ব দেয়া হয়। এছাড়া বাবার কাছে থাকলে সন্তানের মঙ্গল হবে কিনা তা প্রমাণ সাপেক্ষ বিষয় এক্ষেত্রে গ্যারিসন সন্তানের এবং স্ত্রী ফারহানের ন্যায্য খরচ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন সেহেতু সন্তানের হেফাজত এবং তাদের শারীরিক মানসিক নিরাপত্তা মায়ের কাছে সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করা হয় পর্যবেক্ষণে।

জনপ্রিয়

এবার এইচএসসিতে বরিশাল বোর্ডে ১১ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস

সন্তানের ভবিষ্যৎ যেন এক নির্মম বাস্তবতা এবং আদালতের রায়

আপডেট : ১২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৫

 

একটি ফুটফুটে শিশুর মমতাময় শৈশব ছিন্নভিন্ন করে দেয়ার মতো ঘটনা প্রায়ই আদালতের চৌকাঠে উঠে আসে। পারিবারিক কলহের জেরে বাবা-মায়ের মধ্যে আইনি লড়াইয়ের শিকার হয় অনেক শিশু।

 

সম্প্রতি এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের তরুণী ফারহানা করিম এবং তার আমেরিকান নাগরিক স্বামী গ্যারিসন রবার্ট ল্যুট্রেলের জীবনে। এই ঘটনায় আদালতের রায় একটি শিশুর জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

একটি সুখময় শুরুর গল্প
ফারহানা করিম, ঢাকার উত্তরায় বেড়ে ওঠা এক প্রতিভাবান তরুণী, উচ্চশিক্ষা এবং নিজের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে পাড়ি জমান আমেরিকায়। প্রবাসে পরিচয় হয় গ্যারিসন রবার্ট ল্যুট্রেলের সঙ্গে। কথা থেকে ভালো লাগা, আর ভালো লাগা থেকে গড়ে ওঠে ভালোবাসার সম্পর্ক। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সুখী সংসার শুরু করেন তারা।

 

 

এই সুখময় জীবনের পূর্ণতা আসে এক ফুটফুটে সন্তানের জন্মের মাধ্যমে। কিন্তু বছর চারেক যেতে না যেতেই সম্পর্কের মাঝে ঝড় আসে। পারিবারিক কলহ ক্রমেই তীব্র হয়, যা তাদের ঠেলে দেয় আদালতের দ্বারপ্রান্তে।

 

আদালতের রায় ও বাস্তবতা
২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের হাইকোর্ট রায় দেন, সন্তান সপ্তাহের নির্দিষ্ট সময়ে বাবার কাছে থাকবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ফারহানা করিমকে তার সন্তানকে শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাবার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

 

এই নির্দেশনা অনুসারে, ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর ফারহানা করিম তার সন্তানকে গ্যারিসনের বাসভবন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি ব্লকে হস্তান্তর করেন।

 

বাবার অনুভূতি
সন্তানকে নিজের কাছে পেয়ে গ্যারিসন রবার্ট ল্যুট্রেল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমি বহুদিন ধরে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। সন্তানের দায়িত্ব পালন আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি বাংলাদেশের আইনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল।”

 

মায়ের অনুভূতি
অন্যদিকে, সন্তানকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হস্তান্তর করার পর ফারহানা করিম বলেন, “মায়ের মমতা কখনো কমে না। সন্তানের মঙ্গল কামনা করি, যদিও তাকে ছেড়ে থাকা আমার জন্য সহজ নয়।”

 

শিশুর মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ শিশুটিকে মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর অভিযোগ উঠেছে, সে বাবার কাছে আতঙ্কগ্রস্ত থাকে। কান্নারত অবস্থায় তাকে জোর করে ধরে রাখার কারণে তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে।

 

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, মায়ের স্নেহ থেকে দূরে থাকা একটি শিশুর মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি শিশুটি বারবার মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানাচ্ছে, যা তার মানসিক যন্ত্রণার প্রমাণ।

 

বিদেশে নিয়ে যাওয়ার শঙ্কা
গ্যারিসনের কাছে শিশুটির পাসপোর্ট থাকার কারণে, ফারহানা করিম উদ্বিগ্ন যে, গ্যারিসন গোপনে শিশুটিকে বিদেশে নিয়ে যেতে পারেন। এই শঙ্কা মা এবং তার পরিবারের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

 

বউ ও সন্তানের খরচ না দেওয়ার অভিযোগ
ফারহানা করিমের পরিবার থেকে অভিযোগ উঠেছে, গত এক বছর ধরে গ্যারিসন সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনি সন্তানদের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা প্রদান করেননি। এমনকি স্ত্রী ফারহানার ন্যায্য খরচের দাবিও উপেক্ষা করেছেন।

 

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সন্তানের ভরণপোষণ বাবার মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু গ্যারিসন এই দায়িত্ব থেকে পিছু হটেছেন। এতে সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং মায়ের ন্যায্য অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

অধিকারের দ্বন্দ্ব: মা ও সন্তানের অধিকার উপেক্ষিত ফারহানা করিমের পরিবারের অভিযোগ, গ্যারিসনের আর্থিক প্রভাবের কারণে মায়ের এবং সন্তানের অধিকার অবহেলিত হচ্ছে। যেখানে মা এবং শিশুর অধিকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার কথা, সেখানে বাবার আর্থিক প্রভাবকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

 

নির্মম বাস্তবতার প্রশ্ন
একটি নাবালক শিশু যখন বাবার ভালোবাসা এবং মায়ের মমতার মাঝে বিভক্ত হয়ে যায়, তখন তার শৈশব কতটা প্রভাবিত হয়? মায়ের আঁচল এবং বাবার সুরক্ষার মাঝে বিচ্ছিন্ন এই শিশুর মানসিক বিকাশ কতটা সঠিক পথে এগোবে, সেটি এখন বড় প্রশ্ন।

 

এটি কি সেই বাস্তবতা যেখানে একটি শিশুকে শৈশব থেকেই মায়ের মমতা এবং বাবার সান্নিধ্য ভাগাভাগি করতে হয়? এমনকি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মালেও জীবন তাকে নির্মম পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়।

 

সন্তানের কল্যাণের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রয়োজন আইনের রায় হয়তো ন্যায়বিচারের কাঠামো নিশ্চিত করে, তবে একটি শিশুর জন্য এটি কি সর্বোত্তম সমাধান? বাবা-মায়ের সম্পর্কের জটিলতায় শিশুটির ভবিষ্যৎ যেন কখনো অনিশ্চয়তায় না হারায়।

 

জীবন শত রূপে সাজে, কিন্তু প্রতিটি শিশুর জন্য তা যেন মমতার এক অনন্য আশীর্বাদ হয়ে থাকে। একটি শিশুর মানসিক এবং শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মায়ের মমতা, বাবার দায়িত্ব এবং সমাজের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এই তিনটি উপাদান অপরিহার্য।

 

বিগত সময় আদালত কর্তৃক রায়ের
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নাবালক বা নাবালিকা তাদের হেফাজত নির্ণয় সবচেয়ে বেশি মঙ্গল যেটি তার গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক মানসিক ও পারিপার্শ্বিক তথা সবকিছু বিবেচনায় রেখে মামলা নিষ্পত্তিতে গুরুত্ব দেয়া হয়। এছাড়া বাবার কাছে থাকলে সন্তানের মঙ্গল হবে কিনা তা প্রমাণ সাপেক্ষ বিষয় এক্ষেত্রে গ্যারিসন সন্তানের এবং স্ত্রী ফারহানের ন্যায্য খরচ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন সেহেতু সন্তানের হেফাজত এবং তাদের শারীরিক মানসিক নিরাপত্তা মায়ের কাছে সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করা হয় পর্যবেক্ষণে।