সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইকং ইউনিয়নের ঝিমংখালী এলাকার ৮৫ একর চিংড়িঘের পুনঃরুদ্ধারের মাধ্যমে প্রয়াত সাবেক এমপি আব্দুল গফুর চৌধুরী ও তার পরিবারের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম সফল হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনি সহায়তার মাধ্যমে, অবশেষে তাদের মালিকানা পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
গত শনিবার (৭ ডিসেম্বর ২০২৪) এই চিংড়িঘের পুনরুদ্ধারকে কেন্দ্র করে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, যা টেকনাফের ইতিহাসে একটি মাইলফলক।

এটি ৮৫ একর জমির এক ঐতিহাসিক সম্পত্তি, যা ১৯৭৭-৭৮ সালে সাবেক এমপি আব্দুল গফুর চৌধুরী লিজ নিয়ে চিংড়ি চাষের কাজ শুরু করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর, তার পুত্র সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, জলাল উদ্দিন চৌধুরী এবং মরহুম মাওলানা আব্দুসসালামের উদ্যোগে আইডিয়েল ফিশারী এবং ইউনাইটেড ফিশারী নামে দুটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সরকারের কাছ থেকে লিজ গ্রহণ করা হয়। এই কোম্পানিগুলি চিংড়ি চাষে ব্যাপক বিনিয়োগ করে এবং তাদের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠার ফলস্বরূপ তারা এই জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে পরিচিত।
এদিকে, গত ১৬ বছর ধরে এই জমি একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারা অবৈধভাবে দখল হয়ে যায়। বিশেষত, আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ এবং যুবলীগের একাংশ এবং সাবেক এমপি বদি নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে অস্ত্রশস্ত্রের সাহায্যে চিংড়িঘের দখল করা হয়। এই অবৈধ দখলকারীরা ক্ষমতার দাপটে দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিজেদের নামে ব্যবহার করে আসছিল।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন চৌধুরী এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে, জমির পুনরুদ্ধারের জন্য প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক স্তরে বহুবার আবেদন করা হয়েছিল। তবে, তারা প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক বাঁধার কারণে দীর্ঘদিন পর্যন্ত কোনো সুষ্ঠু প্রতিকার পায়নি। এই পরিস্থিতি তাদের জন্য এক বড় ধরনের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর, এই চিংড়িঘের পুনঃরুদ্ধারের পথ সুগম হয়। সরকার রাষ্ট্র পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেওয়ার পর, অবশেষে এই জমির মূল মালিক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী ও তার পরিবারের কাছে সুবিচার এবং আইনের শাসনের সুযোগ আসে।
গত শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টায়, সিনিয়র অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, আফসার উদ্দিন চৌধুরী, মাঈনুদ্দিন চৌধুরীসহ তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আত্মীয়স্বজন স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় চিংড়িঘেরটি পুনরুদ্ধার করেন।
এই পুনঃরুদ্ধার প্রক্রিয়া ছিল শান্তিপূর্ণ এবং কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও প্রশাসনিক সহায়তায়, অবৈধ দখলকারীদের সরে যেতে বাধ্য করা হয়। অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন চৌধুরী এই বিজয়ের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং প্রশাসনের প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই পুনঃরুদ্ধারের ঘটনা শুধুমাত্র আব্দুল গফুর চৌধুরী পরিবারের জন্যই নয়, বরং টেকনাফের সাধারণ মানুষের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি প্রমাণ করেছে যে, আইনের শাসন ও সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।
হেলাল উদ্দিন চৌধুরী এবং তার পরিবার এই ঘটনা থেকে এক বড় ধরনের মানসিক স্বস্তি পেয়েছেন, যা তাদের জন্য ভবিষ্যতে আরও ন্যায়বিচার এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক হবে।
এদিকে, এই ঘটনায় এলাকার জনগণও আশাবাদী হয়ে উঠেছে এবং তাদের মধ্যে আইন, প্রশাসন এবং সুশাসনের প্রতি এক নতুন বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।
এটি টেকনাফের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, যা এলাকাবাসীকে নিজেদের অধিকার আদায়ের পথে সাহস জোগাবে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলদারি প্রতিরোধে আরও সচেতন করবে।

সংবাদ360 প্রতিবেদকঃ 



















