কচা নদীতে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় একটি ট্রলার জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে মোট ২২ হাজার ৫৮১ পিস শাড়ি ও লেহেঙ্গা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব মালামাল ৩০৩টি বস্তায় ছিল।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ডের একটি টহল দল পাথরঘাটা উপজেলার মধ্য চরদোয়ানি ইউনিয়ন সংলগ্ন বলেশ্বর নদীতে অভিযান শুরু করে।
এ সময় একটি সন্দেহভাজন ট্রলারকে ধাওয়া করে কচা নদীর পুরাতন বেকুটিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন কুমিরমারা এলাকায় আটক করা হয়।
পরে কোস্ট গার্ড ও পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ ট্রলারটিতে তল্লাশি চালিয়ে বস্তাভর্তি ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গা উদ্ধার করে। জব্দ করা ট্রলারটির নাম এফবি হাজী পেয়ার, যার নম্বর এফ-১১৫৪৯।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, অভিযান চলাকালে ট্রলারে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। কোস্ট গার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. আশরাফুল আলম জানান, বলেশ্বর নদীতে অভিযান শুরু করার পর সন্দেহভাজন ট্রলারটিকে ধাওয়া করে কচা নদীর পুরাতন বেকুটিয়া ফেরিঘাট এলাকায় আটক করা হয়। পরে ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও লেহেঙ্গা পাওয়া যায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন জাহান জানান, কোস্ট গার্ড ও সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে উদ্ধার করা মালামাল গণনা ও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে মোট ২২ হাজার ৫৮১ পিস শাড়ি, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গা পাওয়া যায়। এসব মালামাল ৩০৩টি বস্তায় ছিল।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার করা শাড়ি, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গার আনুমানিক বাজারমূল্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। উদ্ধার করা মালামাল ও জব্দ ট্রলার পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মামলার বাদী সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ ফরহাদ আলী জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। তবে মামলার নম্বর ও ধারাসহ অন্যান্য আইনগত বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। তাদের পরিচয় সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জব্দ করা ট্রলার ও উদ্ধার হওয়া মালামাল নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ তালেবুর রহমান।

দক্ষিণাঞ্চল প্রতিনিধিঃ 


















