ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আব্দুর রহমান খানের দাফন সম্পন্ন মোরেলগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু: আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তদন্তে পুলিশ টাঙ্গাইলে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন বাগেরহাটে সারের ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন গোপালগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে নিহত ২ গুলশান ও বনানী থানায় নতুন ওসি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুর রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে পিরোজপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জলঢাকায় খালি শ্যাম্পুর প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫; মানববন্ধন ও বিক্ষোভ স্পীকারের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত

ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে কৃষিতে বড় ধাক্কা: উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে দিশেহারা কৃষক

এআই ছবি

 

দেশের কৃষি খাতে একের পর এক জোড়া ধাক্কা কৃষকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। সম্পতি সারের মূল্য বৃদ্ধি ও বাজারে কৃত্রিম সংকটের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার প্রতি লিটারে ডিজেলের বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি দেশের প্রান্তিক কৃষকদের ওপর চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। সরকার সম্প্রতি প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে এক লাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জমি চাষাবাদ থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণের পুরো সরবরাহ প্রক্রিয়ায়।

 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী দেশে বাৎসরিক ব্যবহৃত ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেলের প্রায় ২৪ শতাংশই ব্যবহার হয় কৃষিকাজে। ফলে জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বছরে দেশের কৃষকদের অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার ৮৮ কোটি টাকা বাড়তি গুণতে হবে।

 

দেশের ৮০ শতাংশ সেচ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক কৃষি যন্ত্রপাতির প্রায় ৭৫ শতাংশই সরাসরি ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। মাঠে থাকা আমন ধান কাটার মৌসুমের মুখে মাড়াই ও পরিবহন খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বড় সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সামনে আসা পুরোপুরি সেচনির্ভর বোরো মৌসুমে, কারণ দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে এই মৌসুম থেকে। বোরো চাষে অগভীর নলকূপ ও শ্যালো পাম্প দিয়ে বারবার জমিতে পানি সেচ দিতে হয়, যেখানে লিটারপ্রতি বাড়তি দাম উৎপাদন খরচকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাবে। জমি চাষের পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, ফসল মাড়াইয়ের পাওয়ার থ্রেসার কিংবা কম্বাইন হারভেস্টার—সবকিছুর ভাড়া বৃদ্ধিতে বিঘা প্রতি কৃষি ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

 

উৎপাদন খরচ দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও বাজারে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত বা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। একদিকে সারের বাড়তি দাম ও সংকট, অন্যদিকে জ্বালানির আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক চাষাবাদ কমিয়ে দেওয়ার বা বিকল্প কম পানির ফসল চাষের কথা ভাবছেন, যা দেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এছাড়া মাঠ থেকে বাজারে ফসল পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সেচ ও কৃষি খাতে সরাসরি ক্যাশ ব্যাক বা প্রণোদনা প্রদান, বিদ্যুতায়িত সেচ ব্যবস্থার বিস্তার এবং সৌরচালিত পাম্পের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

জনপ্রিয়

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আব্দুর রহমান খানের দাফন সম্পন্ন

ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে কৃষিতে বড় ধাক্কা: উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে দিশেহারা কৃষক

আপডেট : ০২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই ছবি

 

দেশের কৃষি খাতে একের পর এক জোড়া ধাক্কা কৃষকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। সম্পতি সারের মূল্য বৃদ্ধি ও বাজারে কৃত্রিম সংকটের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার প্রতি লিটারে ডিজেলের বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি দেশের প্রান্তিক কৃষকদের ওপর চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। সরকার সম্প্রতি প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে এক লাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জমি চাষাবাদ থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণের পুরো সরবরাহ প্রক্রিয়ায়।

 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী দেশে বাৎসরিক ব্যবহৃত ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেলের প্রায় ২৪ শতাংশই ব্যবহার হয় কৃষিকাজে। ফলে জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বছরে দেশের কৃষকদের অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার ৮৮ কোটি টাকা বাড়তি গুণতে হবে।

 

দেশের ৮০ শতাংশ সেচ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক কৃষি যন্ত্রপাতির প্রায় ৭৫ শতাংশই সরাসরি ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। মাঠে থাকা আমন ধান কাটার মৌসুমের মুখে মাড়াই ও পরিবহন খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বড় সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সামনে আসা পুরোপুরি সেচনির্ভর বোরো মৌসুমে, কারণ দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে এই মৌসুম থেকে। বোরো চাষে অগভীর নলকূপ ও শ্যালো পাম্প দিয়ে বারবার জমিতে পানি সেচ দিতে হয়, যেখানে লিটারপ্রতি বাড়তি দাম উৎপাদন খরচকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাবে। জমি চাষের পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, ফসল মাড়াইয়ের পাওয়ার থ্রেসার কিংবা কম্বাইন হারভেস্টার—সবকিছুর ভাড়া বৃদ্ধিতে বিঘা প্রতি কৃষি ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

 

উৎপাদন খরচ দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও বাজারে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত বা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। একদিকে সারের বাড়তি দাম ও সংকট, অন্যদিকে জ্বালানির আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক চাষাবাদ কমিয়ে দেওয়ার বা বিকল্প কম পানির ফসল চাষের কথা ভাবছেন, যা দেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এছাড়া মাঠ থেকে বাজারে ফসল পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সেচ ও কৃষি খাতে সরাসরি ক্যাশ ব্যাক বা প্রণোদনা প্রদান, বিদ্যুতায়িত সেচ ব্যবস্থার বিস্তার এবং সৌরচালিত পাম্পের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।