ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
সাজার শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে বাগেরহাটে সেলাই মেশিন ও ভ্যানগাড়ি বিতরণ টেকনাফে ৫ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ মিয়ানমার নাগরিক আটক ২ ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের প্রথম পর্যায় প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জন গ্রেপ্তার, প্রত্যেকের এক মাসের কারাদণ্ড লেখাপড়ার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি বলেশ্বর নদীতে যৌথ অভিযানে ৩টি অবৈধ বাধা জাল ধ্বংস মোরেলগঞ্জে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু ভোলায় আজও প্রতিষ্ঠা হয়নি আধুনিক ব্লাড ব্যাংক: ভোগান্তিতে চরাঞ্চলবাসীসহ ২০ লাখ মানুষ পিরোজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত টেকনাফে দমদমিয়া চেকপোস্টে বিজিবির অভিযানে চোলাই মদসহ বাস জব্দ, আটক ২

সাজার শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে বাগেরহাটে সেলাই মেশিন ও ভ্যানগাড়ি বিতরণ

 

অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক ও আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়ে তুলতে, সাজাভোগ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাগেরহাটে সেলাই মেশিন, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১০টায় বাগেরহাট জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়ের আয়োজনে এবং জেলা অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির উদ্যোগে এ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও বাগেরহাট জেলা কারাগার।

অনুষ্ঠানে চারজন উপকারভোগীর হাতে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি, চারটি সেলাই মেশিন এবং শুকনো খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে মোংলা উপজেলার জালাল শেখকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি প্রদান করা হয়। এছাড়া কচুয়া উপজেলার মোছাম্মৎ আকলিমা বেগম, মোরেলগঞ্জ উপজেলার লাইলী বেগম এবং চিতলমারী উপজেলার আয়েশা আক্তার ও চম্পা রানী পালের হাতে সেলাই মেশিন হস্তান্তর করা হয়।

জেলা প্রবেশন অফিসার শেখ সহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার মুহাম্মদ আবু সাদ্দাত। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শাওন, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটনসহ সমাজসেবা অধিদপ্তর, জেলা কারাগার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাজার মেয়াদ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে তাদের পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। এতে করে তারা আত্মসম্মানের সাথে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। তাই কেবল শাস্তি নয়, বরং মানবিক পুনর্বাসন কার্যক্রমই একটি অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

 

​উপকারভোগী জালাল শেখ তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ ২৩ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছি। জেলা কারাগারের পক্ষ থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি পেয়েছি। এটি চালিয়ে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”

অপর উপকারভোগী আকলিমা বেগম বলেন, “আমি ২৬ বছর কারাভোগ করেছি। একই মামলায় আমার স্বামীও কারাগারে ছিলেন এবং ২০০৬ সালে সেখানেই মারা যান। কারাগারে থাকাকালে আমি দর্জির কাজ শিখেছিলাম। মুক্তির পর আজ একটি সেলাই মেশিন পেলাম। এটি দিয়ে কাজ করে এখন থেকে সৎভাবে নিজের জীবিকা নির্বাহ করব।”

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, “পাপকে ঘৃণা করতে হবে, পাপীকে নয়। সাজাভোগ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতেই এই সেলাই মেশিন, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। সমাজ যদি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাদের গ্রহণ করে, তবে তারা নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারবে। অপরাধ দমনে শাস্তির পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক সহযোগিতাও সমান প্রয়োজনীয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

জনপ্রিয়

সাজার শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে বাগেরহাটে সেলাই মেশিন ও ভ্যানগাড়ি বিতরণ

সাজার শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে বাগেরহাটে সেলাই মেশিন ও ভ্যানগাড়ি বিতরণ

আপডেট : ২ ঘন্টা আগে

 

অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক ও আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়ে তুলতে, সাজাভোগ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাগেরহাটে সেলাই মেশিন, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১০টায় বাগেরহাট জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়ের আয়োজনে এবং জেলা অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির উদ্যোগে এ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও বাগেরহাট জেলা কারাগার।

অনুষ্ঠানে চারজন উপকারভোগীর হাতে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি, চারটি সেলাই মেশিন এবং শুকনো খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে মোংলা উপজেলার জালাল শেখকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি প্রদান করা হয়। এছাড়া কচুয়া উপজেলার মোছাম্মৎ আকলিমা বেগম, মোরেলগঞ্জ উপজেলার লাইলী বেগম এবং চিতলমারী উপজেলার আয়েশা আক্তার ও চম্পা রানী পালের হাতে সেলাই মেশিন হস্তান্তর করা হয়।

জেলা প্রবেশন অফিসার শেখ সহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার মুহাম্মদ আবু সাদ্দাত। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শাওন, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটনসহ সমাজসেবা অধিদপ্তর, জেলা কারাগার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাজার মেয়াদ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে তাদের পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। এতে করে তারা আত্মসম্মানের সাথে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। তাই কেবল শাস্তি নয়, বরং মানবিক পুনর্বাসন কার্যক্রমই একটি অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

 

​উপকারভোগী জালাল শেখ তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ ২৩ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছি। জেলা কারাগারের পক্ষ থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি পেয়েছি। এটি চালিয়ে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”

অপর উপকারভোগী আকলিমা বেগম বলেন, “আমি ২৬ বছর কারাভোগ করেছি। একই মামলায় আমার স্বামীও কারাগারে ছিলেন এবং ২০০৬ সালে সেখানেই মারা যান। কারাগারে থাকাকালে আমি দর্জির কাজ শিখেছিলাম। মুক্তির পর আজ একটি সেলাই মেশিন পেলাম। এটি দিয়ে কাজ করে এখন থেকে সৎভাবে নিজের জীবিকা নির্বাহ করব।”

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, “পাপকে ঘৃণা করতে হবে, পাপীকে নয়। সাজাভোগ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতেই এই সেলাই মেশিন, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। সমাজ যদি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাদের গ্রহণ করে, তবে তারা নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারবে। অপরাধ দমনে শাস্তির পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক সহযোগিতাও সমান প্রয়োজনীয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”