ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
ঈদকে সামনে রেখে টেকনাফে জাল টাকার কারখানায় বিজিবির অভিযান, ৫১ লাখ টাকার জাল নোটসহ আটক ২ টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের বাড়ি রাজশাহী এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন

সংসদে গৃহীত হলো কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬

 

অপরিকল্পিত নগরায়নের বেড়াজাল ছিঁড়ে কুমিল্লাকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও দুর্যোগসহনশীল মহানগরে রূপান্তরিত করার স্বপ্ন এবার আইনি রূপ পেতে চলেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের প্রথম পর্বে আজ শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের মহান জাতীয় সংসদে ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬’ উত্থাপন করেন। সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।

 

স্পিকারের আহ্বান ও বিল উত্থাপন
অধিবেশনের শুরুতে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী মাননীয় স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “মাননীয় সদস্যবৃন্দ, দিনের সম্পূরক কার্যসূচি অনুসারে আমি মাননীয় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরকে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ উত্থাপনের অনুমতির জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।”

 

স্পিকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ। আমি জাকারিয়া তাহের, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী; কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ উত্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করছি।”

 

বিলের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট
বিলটি উত্থাপন করতে গিয়ে মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সংসদে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, কুমিল্লা ও তৎসংলগ্ন এলাকাসমূহ সমন্বয় করে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই বিলটি আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যেসব লক্ষ্য অর্জন করা হবে, সেগুলো হলো—সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা; অপরিকল্পিত নগরায়ন কঠোরভাবে রোধ করা; দুর্যোগসহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা; তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্পের সুষম বিকাশ ঘটানো; নাগরিকদের উন্নত ও মানসম্পন্ন জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা।

 

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ঐতিহাসিক ও সম্ভাবনাময় এই নগরীকে ঘিরে একটি স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠন করা হলে কুমিল্লা অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও গতিশীল, সুশৃঙ্খল ও টেকসই হবে।

 

কণ্ঠভোটে বিল গৃহীত
বিল উত্থাপনের পর মাননীয় স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “সংসদের সামনে প্রশ্ন হচ্ছে— সংসদে উত্থাপিত আকারে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হোক। যাঁরা এই প্রস্তাবের পক্ষে আছেন, তাঁরা ‘হ্যাঁ’ বলুন; যাঁরা বিপক্ষে আছেন, তাঁরা ‘না’ বলুন।”

 

কণ্ঠভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষের সুস্পষ্ট জয় হলে স্পিকার ঘোষণা করেন, “কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গৃহীত হলো।”

 

তাৎপর্য ও প্রত্যাশা
রাজধানী ঢাকার বাইরে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশ্লেষকেরা কুমিল্লা অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, প্রস্তাবিত কর্তৃপক্ষ কার্যকর হলে কুমিল্লা শুধু একটি আঞ্চলিক শহর নয়; বরং দেশের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি ও পর্যটন হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।

 

বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে কুমিল্লার লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন— একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরজীবন— বাস্তবে রূপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

ঈদকে সামনে রেখে টেকনাফে জাল টাকার কারখানায় বিজিবির অভিযান, ৫১ লাখ টাকার জাল নোটসহ আটক ২

সংসদে গৃহীত হলো কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬

আপডেট : ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

 

অপরিকল্পিত নগরায়নের বেড়াজাল ছিঁড়ে কুমিল্লাকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও দুর্যোগসহনশীল মহানগরে রূপান্তরিত করার স্বপ্ন এবার আইনি রূপ পেতে চলেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের প্রথম পর্বে আজ শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের মহান জাতীয় সংসদে ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬’ উত্থাপন করেন। সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।

 

স্পিকারের আহ্বান ও বিল উত্থাপন
অধিবেশনের শুরুতে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী মাননীয় স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “মাননীয় সদস্যবৃন্দ, দিনের সম্পূরক কার্যসূচি অনুসারে আমি মাননীয় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরকে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ উত্থাপনের অনুমতির জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।”

 

স্পিকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ। আমি জাকারিয়া তাহের, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী; কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ উত্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করছি।”

 

বিলের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট
বিলটি উত্থাপন করতে গিয়ে মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সংসদে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, কুমিল্লা ও তৎসংলগ্ন এলাকাসমূহ সমন্বয় করে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই বিলটি আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যেসব লক্ষ্য অর্জন করা হবে, সেগুলো হলো—সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা; অপরিকল্পিত নগরায়ন কঠোরভাবে রোধ করা; দুর্যোগসহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা; তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্পের সুষম বিকাশ ঘটানো; নাগরিকদের উন্নত ও মানসম্পন্ন জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা।

 

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ঐতিহাসিক ও সম্ভাবনাময় এই নগরীকে ঘিরে একটি স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠন করা হলে কুমিল্লা অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও গতিশীল, সুশৃঙ্খল ও টেকসই হবে।

 

কণ্ঠভোটে বিল গৃহীত
বিল উত্থাপনের পর মাননীয় স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “সংসদের সামনে প্রশ্ন হচ্ছে— সংসদে উত্থাপিত আকারে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হোক। যাঁরা এই প্রস্তাবের পক্ষে আছেন, তাঁরা ‘হ্যাঁ’ বলুন; যাঁরা বিপক্ষে আছেন, তাঁরা ‘না’ বলুন।”

 

কণ্ঠভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষের সুস্পষ্ট জয় হলে স্পিকার ঘোষণা করেন, “কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গৃহীত হলো।”

 

তাৎপর্য ও প্রত্যাশা
রাজধানী ঢাকার বাইরে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশ্লেষকেরা কুমিল্লা অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, প্রস্তাবিত কর্তৃপক্ষ কার্যকর হলে কুমিল্লা শুধু একটি আঞ্চলিক শহর নয়; বরং দেশের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি ও পর্যটন হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।

 

বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে কুমিল্লার লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন— একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরজীবন— বাস্তবে রূপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।