কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম চন্ডিপুর এলাকায় একটি ইউক্যালিপটাস গাছ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় অবৈধভাবে নির্মিত একটি দোকানঘর দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রশস্তকরণ ও সংস্কারকাজ আটকে রেখেছে। অনুমোদন পাওয়ার পরও কাজ শুরু করতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
যে সড়ক, যে পরিকল্পনা
গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ থেকে হবদন ভূইয়া বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৮ ফুট প্রশস্ত সড়কটি (সড়ক আইডি: ৪১৯১৫৪০৬৩) ১০ ফুটে উন্নীত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সড়ক-সংলগ্ন পুকুরের পাশে একটি সড়ক প্রতিরক্ষা প্রাচীরও নির্মাণ করার কথা রয়েছে। তবে বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন অংশের পূর্ব পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ইউক্যালিপটাস গাছ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় গড়ে ওঠা দোকানঘরটি এই উন্নয়নকাজে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুই বছরেও কাজ শুরু হয়নি
কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার জানান, প্রায় দুই বছর আগে সড়কটি প্রশস্ত ও সংস্কারের অনুমোদন পাওয়া গেলেও গাছটি অপসারণ না হওয়ায় কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, গাছটি এবং দোকানঘরটি অপসারণ করা হলে সড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
বারবার উচ্ছেদেও থামেনি অবৈধ দোকান
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান, বিল্লাল হোসেন, ইকবাল হোসেন, সাইফুল ও সৌরভ রহমান জানান, এর আগে একবার পানি উন্নয়ন বোর্ড দোকানটি ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সেটি পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে। তাঁরা দাবি করেন, দোকানটি সরিয়ে গাছটি কেটে নকশা অনুযায়ী সড়কটি নির্মাণ করা হোক।
চেয়ারম্যানের বক্তব্য
মালাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ওই গাছটি কেটে এবং অবৈধ দোকানঘরটি অপসারণ করা হলে সড়কটি পরিকল্পনামাফিক সঠিকভাবে নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
দুর্ভোগের শেষ নেই
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি সরু হওয়ায় প্রতিদিন চলাচলে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। তাঁরা দ্রুত গাছটি অপসারণ করে সড়ক প্রশস্তকরণ ও প্রতিরক্ষা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান।
কর্তৃপক্ষ কী বলছে
উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাপ হোসেন ভূইয়া বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা আছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রতিবন্ধকতা দূর করে সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্ত করা হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।

মোঃ আনজার শাহ 



















