ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের বাড়ি রাজশাহী এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল

স্বামীকে মৃত দেখিয়ে শেখ হাসিনার নামে হত্যা মামলা করা সেই কুলসুম গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি

 

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাভার-আশুলিয়ার বাইপাইলে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিজের জীবিত স্বামী আল আমিনকে (২২) মৃত দেখিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করানো হয় দাবি করেছেন মামলার বাদী কুলসুম বেগম।

 

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের আলেকজাহান এসএম পাড়ার মোস্তাক আহমেদের বাড়ি থেকে মিথ্যা মামলা দায়েরকারী কুলসুম বেগম (২১) ও তার দুই সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ওইদিন রাতেই তাদের আশুলিয়া থানায় নিয়ে আসেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রকিবুল ইসলাম।

 

জানা যায়, ৫ আগস্ট আশুলিয়ার বাইপাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে স্বামী আল আমিন নিহত হয়েছেন দাবি করে কুলসুম বেগম গত ২৪ অক্টোবর ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করেন তিনি। আদালত মামলাটি আশুলিয়া থানাকে নথিভুক্ত করতে নির্দেশ দিলে ৮ নভেম্বর তা নথিভুক্ত হয়। এর পাঁচদিন পর কুলসুম বেগমের স্বামী আল আমিন আশুলিয়া থানায় এসে দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী (কুলসুম বেগম) তাঁকে মৃত দেখিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে আশুলিয়া থানা-পুলিশ আল আমিনকে জীবিত থাকার জবানবন্দি দিতে আদালতে পাঠায়। এরপরই মামলার বাদী কুলসুম বেগমকে গ্রেপ্তারে শুরু অভিযান শুরু করে পুলিশ।

 

আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে মিথ্যা মামলার বাদী কুলসুম বেগম জানান, ৪ বছরের সন্তানকে নিয়ে স্বামী আল-আমীনের সঙ্গে শ্বশুর বাড়ি সিলেটে থাকতেন তিনি। গত ২৮ আগস্ট দাম্পত্য কলহের জেরে সিলেট থেকে সাভারে বোনের কাছে চলে আসেন কুলসুম। আসার পথে গাড়িতে শফিকুরের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তিনি চাকরির জন্য সাভারে আসেন বলে জানান।

 

কুলসুম বেগম দাবি করে বলেন, ‘এই সুযোগে শফিক আমাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রুহুল আমীনের কাছে নিয়ে যান। পরে রুহুল আমীন ও শফিকুর আমার চাকরির জন্য জন্ম নিবন্ধন চেয়ে সাভারের সেনা শপিং কমপ্লেক্সে দেখা করেন। এসময় তারা জন্ম নিবন্ধন দিয়ে আমার স্বামীকে মৃত দেখিয়ে মামলা প্রস্তত করেছে বলে জানায়। এতে রাজি না হলে তারা নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে আদালতে নিয়ে উকিলের সামনে কাগজে স্বাক্ষর নেন। রুহুল আমীন ও শফিকুর রহমান ব্ল্যাকমেইল করে মামলা করতে বাধ্য করেছে এবং আমাকে কক্সবাজারে বাসা ভাড়া করে দিয়ে থাকতে বলে।’

 

বাদী কুলসুমের বোন ফাতেমা বলেন, ‘আমার বোনকে রুহুল আমীন নানাভাবে ভয় দেখিয়েছেন। তিনি মামলা, ফাঁসি এমনকি সবসময় রুহুলের কাছে পিস্তল থাকে বলে ভয়ভীতি দেখান। রুহুল আমীন বেশ কয়েকজনের নাম মামলা থেকে কেটে দিয়েছেন। সে সময় আমার ছোটবোনকে আদালতে নিয়ে যান তারা। তারা বলতো যে অজ্ঞাত ছেলেটা মারা গেছে সে যেন বিচার পায় সেজন্য এই মামলা দায়ের করেছেন। পরে বুঝতে পারি তারা একটি চক্র ও মামলা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। আমার বোন আশুলিয়া কিংবা সাভারে থাকতো না। সে থাকতো সিলেটে। শফিক ও রুহুল আমার বোনকে ফাঁসিয়েছ।’

 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শফিকুর রহমান বলেন, ‘কুলসুমের সঙ্গে আমার গাড়িতে পরিচয় হয়। পরে তাকে নিয়ে আমি রুহুল আমীনের কাছে যাই। তিনি মামলার সব কাজ করেছেন।’

 

অপর অভিযুক্ত রুহুল আমীন বলেন, ‘কুলসুমই আমার কাছে মামলা করার জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন। টাকার বিনিময়ে আসামির নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে রুহুল জানায় মনোয়ার মাস্টার, বাশার, ইলিয়াস শাহী ও সারোয়ার তালুকদারের নাম মামলা থেকে বাতিলের জন্য এভিডেভিড করা হয়েছে। তবে তাদের কাছে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।’

 

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর বলেন, ‘জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় শফিক, রুহুল আমীন ও কুলসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মিথ্যা মামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। আগামীকাল শনিবার মামলার বাদী কুলসুমকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য আদালতে পাঠানো হবে।’

 

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছোড়া হলে অন্তত অর্ধশতাধিক লোক মারা যায়। তাদের মধ্যে বেওয়ারিশ হিসেবে একজনের মরদেহ দাফন করা হয়। সেই লাশটিকে নিজের স্বামী আল-আমিন দাবি করে ১৩০ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন কুলসুম বেগম।

জনপ্রিয়

টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের বাড়ি রাজশাহী

স্বামীকে মৃত দেখিয়ে শেখ হাসিনার নামে হত্যা মামলা করা সেই কুলসুম গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৬:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪
সংগৃহীত ছবি

 

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাভার-আশুলিয়ার বাইপাইলে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিজের জীবিত স্বামী আল আমিনকে (২২) মৃত দেখিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করানো হয় দাবি করেছেন মামলার বাদী কুলসুম বেগম।

 

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের আলেকজাহান এসএম পাড়ার মোস্তাক আহমেদের বাড়ি থেকে মিথ্যা মামলা দায়েরকারী কুলসুম বেগম (২১) ও তার দুই সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ওইদিন রাতেই তাদের আশুলিয়া থানায় নিয়ে আসেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রকিবুল ইসলাম।

 

জানা যায়, ৫ আগস্ট আশুলিয়ার বাইপাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে স্বামী আল আমিন নিহত হয়েছেন দাবি করে কুলসুম বেগম গত ২৪ অক্টোবর ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করেন তিনি। আদালত মামলাটি আশুলিয়া থানাকে নথিভুক্ত করতে নির্দেশ দিলে ৮ নভেম্বর তা নথিভুক্ত হয়। এর পাঁচদিন পর কুলসুম বেগমের স্বামী আল আমিন আশুলিয়া থানায় এসে দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী (কুলসুম বেগম) তাঁকে মৃত দেখিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে আশুলিয়া থানা-পুলিশ আল আমিনকে জীবিত থাকার জবানবন্দি দিতে আদালতে পাঠায়। এরপরই মামলার বাদী কুলসুম বেগমকে গ্রেপ্তারে শুরু অভিযান শুরু করে পুলিশ।

 

আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে মিথ্যা মামলার বাদী কুলসুম বেগম জানান, ৪ বছরের সন্তানকে নিয়ে স্বামী আল-আমীনের সঙ্গে শ্বশুর বাড়ি সিলেটে থাকতেন তিনি। গত ২৮ আগস্ট দাম্পত্য কলহের জেরে সিলেট থেকে সাভারে বোনের কাছে চলে আসেন কুলসুম। আসার পথে গাড়িতে শফিকুরের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তিনি চাকরির জন্য সাভারে আসেন বলে জানান।

 

কুলসুম বেগম দাবি করে বলেন, ‘এই সুযোগে শফিক আমাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রুহুল আমীনের কাছে নিয়ে যান। পরে রুহুল আমীন ও শফিকুর আমার চাকরির জন্য জন্ম নিবন্ধন চেয়ে সাভারের সেনা শপিং কমপ্লেক্সে দেখা করেন। এসময় তারা জন্ম নিবন্ধন দিয়ে আমার স্বামীকে মৃত দেখিয়ে মামলা প্রস্তত করেছে বলে জানায়। এতে রাজি না হলে তারা নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে আদালতে নিয়ে উকিলের সামনে কাগজে স্বাক্ষর নেন। রুহুল আমীন ও শফিকুর রহমান ব্ল্যাকমেইল করে মামলা করতে বাধ্য করেছে এবং আমাকে কক্সবাজারে বাসা ভাড়া করে দিয়ে থাকতে বলে।’

 

বাদী কুলসুমের বোন ফাতেমা বলেন, ‘আমার বোনকে রুহুল আমীন নানাভাবে ভয় দেখিয়েছেন। তিনি মামলা, ফাঁসি এমনকি সবসময় রুহুলের কাছে পিস্তল থাকে বলে ভয়ভীতি দেখান। রুহুল আমীন বেশ কয়েকজনের নাম মামলা থেকে কেটে দিয়েছেন। সে সময় আমার ছোটবোনকে আদালতে নিয়ে যান তারা। তারা বলতো যে অজ্ঞাত ছেলেটা মারা গেছে সে যেন বিচার পায় সেজন্য এই মামলা দায়ের করেছেন। পরে বুঝতে পারি তারা একটি চক্র ও মামলা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। আমার বোন আশুলিয়া কিংবা সাভারে থাকতো না। সে থাকতো সিলেটে। শফিক ও রুহুল আমার বোনকে ফাঁসিয়েছ।’

 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শফিকুর রহমান বলেন, ‘কুলসুমের সঙ্গে আমার গাড়িতে পরিচয় হয়। পরে তাকে নিয়ে আমি রুহুল আমীনের কাছে যাই। তিনি মামলার সব কাজ করেছেন।’

 

অপর অভিযুক্ত রুহুল আমীন বলেন, ‘কুলসুমই আমার কাছে মামলা করার জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন। টাকার বিনিময়ে আসামির নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে রুহুল জানায় মনোয়ার মাস্টার, বাশার, ইলিয়াস শাহী ও সারোয়ার তালুকদারের নাম মামলা থেকে বাতিলের জন্য এভিডেভিড করা হয়েছে। তবে তাদের কাছে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।’

 

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর বলেন, ‘জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় শফিক, রুহুল আমীন ও কুলসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মিথ্যা মামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। আগামীকাল শনিবার মামলার বাদী কুলসুমকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য আদালতে পাঠানো হবে।’

 

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছোড়া হলে অন্তত অর্ধশতাধিক লোক মারা যায়। তাদের মধ্যে বেওয়ারিশ হিসেবে একজনের মরদেহ দাফন করা হয়। সেই লাশটিকে নিজের স্বামী আল-আমিন দাবি করে ১৩০ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন কুলসুম বেগম।