ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ

রাজশাহীতে ইপিজেড ও কর্মসংস্থান নিয়ে জামায়াত প্রার্থী ডা. জাহাঙ্গীরের বড় ঘোষণা

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে জনমনে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এলাকায় ‘গরীবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত এই চিকিৎসক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আগামীর লক্ষ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

 

ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি রাজশাহীর দীর্ঘদিনের চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। বিশেষ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিদ্যমান শয্যা সংকট দূর করতে ১২০০ বেড থেকে ৩ হাজারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, রাজশাহীতে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ থাকলেও রোগীর চাপের তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। ৩ হাজার রোগী থাকলেও বেড মাত্র ১২০০, ফলে রোগীদের মেঝেতে থাকতে হয়। তিনি নির্বাচিত হলে বেড সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে মানসম্মত ওষুধ ও পথ্য নিশ্চিত করবেন। এছাড়া একটি সদর হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং ডেন্টাল ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ কলেজে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

রাজশাহীর বেকারত্ব দূরীকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিল্ক সিটি’ বা ‘ম্যাঙ্গো সিটি’ বলা হলেও এখানে কর্মসংস্থানের অভাব প্রকট। তাই এখানে ইপিজেড প্রতিষ্ঠা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প (এগ্রোবেসড ইন্ডাস্ট্রি) গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে কৃষকেরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং অনেকের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি হাইটেক পার্ককে কার্যকর করে আইটি খাতের উন্নয়ন এবং মৃতপ্রায় বিসিক ও রেশম শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার কথা জানান তিনি।

পদ্মা নদী ও সমাজ সংস্কার নিয়ে এই প্রার্থী জানান, পদ্মার পানি পরিকল্পিতভাবে সেচের আওতায় এনে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো হবে। এছাড়া নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

 

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের সকল কর্মী ও সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে আইন মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জুলাই সনদ ও গণভোট বিষয়ে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, “আমরা সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্যের পক্ষে। দেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরতে না পারে, সেজন্য আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করছি।”

 

তিনি প্রত্যাশা করেন, গত কয়েকটি নির্বাচনের মতো এবার আর ‘ডামি’ নির্বাচন হবে না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়ে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করবে।

 

উল্লেখ্য, ​রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৫১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৩০৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন।

 

রাজশাহী-২ (মহানগরী) আসনটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। এ আসনে প্রতিষ্ঠিত বড় দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদধারী নেতারা অতীতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং তাদের অনেকেই নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে একজন চিকিৎসক এবং সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়াকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয়

এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর

রাজশাহীতে ইপিজেড ও কর্মসংস্থান নিয়ে জামায়াত প্রার্থী ডা. জাহাঙ্গীরের বড় ঘোষণা

আপডেট : ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে জনমনে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এলাকায় ‘গরীবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত এই চিকিৎসক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আগামীর লক্ষ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

 

ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি রাজশাহীর দীর্ঘদিনের চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। বিশেষ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিদ্যমান শয্যা সংকট দূর করতে ১২০০ বেড থেকে ৩ হাজারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, রাজশাহীতে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ থাকলেও রোগীর চাপের তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। ৩ হাজার রোগী থাকলেও বেড মাত্র ১২০০, ফলে রোগীদের মেঝেতে থাকতে হয়। তিনি নির্বাচিত হলে বেড সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে মানসম্মত ওষুধ ও পথ্য নিশ্চিত করবেন। এছাড়া একটি সদর হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং ডেন্টাল ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ কলেজে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

রাজশাহীর বেকারত্ব দূরীকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিল্ক সিটি’ বা ‘ম্যাঙ্গো সিটি’ বলা হলেও এখানে কর্মসংস্থানের অভাব প্রকট। তাই এখানে ইপিজেড প্রতিষ্ঠা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প (এগ্রোবেসড ইন্ডাস্ট্রি) গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে কৃষকেরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং অনেকের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি হাইটেক পার্ককে কার্যকর করে আইটি খাতের উন্নয়ন এবং মৃতপ্রায় বিসিক ও রেশম শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার কথা জানান তিনি।

পদ্মা নদী ও সমাজ সংস্কার নিয়ে এই প্রার্থী জানান, পদ্মার পানি পরিকল্পিতভাবে সেচের আওতায় এনে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো হবে। এছাড়া নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

 

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের সকল কর্মী ও সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে আইন মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জুলাই সনদ ও গণভোট বিষয়ে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, “আমরা সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্যের পক্ষে। দেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরতে না পারে, সেজন্য আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করছি।”

 

তিনি প্রত্যাশা করেন, গত কয়েকটি নির্বাচনের মতো এবার আর ‘ডামি’ নির্বাচন হবে না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়ে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করবে।

 

উল্লেখ্য, ​রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৫১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৩০৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন।

 

রাজশাহী-২ (মহানগরী) আসনটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। এ আসনে প্রতিষ্ঠিত বড় দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদধারী নেতারা অতীতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং তাদের অনেকেই নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে একজন চিকিৎসক এবং সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়াকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।