সংগৃহীত ছবি
বাগেরহাট সদর উপজেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম কারাফটকে শেষবারের মতো স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখেছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে দূর থেকে তাকে স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের ৬ সদস্যকে কারাফটকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। স্ত্রী-সন্তানকে দেখতে সাদ্দামকে মিনিট পাঁচেক সময় দেওয়া হয়।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী নামে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই নিথর পড়েছিল স্বর্ণালীর ৯ মাসের শিশু নাজিম।
পুলিশ ও সাদ্দামের পরিবারের দাবি, হতাশাগ্রস্ত হয়ে শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বর্ণালী। পুলিশ জানায়, সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে থাকা অবস্থায় এবং ছেলেকে মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই মৃত্যুর পর স্বজনরা সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন। তবে তাদের আবেদন নাকচ করা হয়।
এদিকে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে সাদ্দামের স্বজনরা আসেন। সব কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের ছয় সদস্যসহ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, সাদ্দামের স্ত্রী সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। উনি তো হত্যা মামলার আসামি না।
রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। মুক্তি না পাওয়ায় আমরা অনেকেই এসেছি কারাগারে। কিন্তু ছয়জনের বেশি প্রবেশ করতে দেয়নি। সাদ্দামের সঙ্গে এমন আচরণ না করে মানবিক দিক বিবেচনায় প্যারোলে মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল।
সাদ্দামের শ্যালিকা কারাফটকে আহাজারি করতে করতে বলেন, সে তো খুনি না। রাজনৈতিক মামলা। তাও প্রশাসন তাকে ছাড়ল না। সাদ্দাম আমার দুলাভাই না, বড় ভাই ছিল। তাকে কিছুক্ষণ জামিন দিয়ে স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে দেওয়া উচিত ছিল।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, কারাফটকে লাশ নিয়ে আসার পর আমরা ৬ জনকে প্রবেশ করতে দিই। সাধারণত অনুমতি না নিলেও কোনো কারাবন্দির স্বজন মারা গেলে, তার মরদেহ যদি স্বজনরা কারাফটকে আনেন, তাহলে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে দেখতে দেই।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, যেহেতু তিনি যশোর কারাগারে বন্দি, বিষয়টি যশোর জেলা প্রশাসন দেখবে। সময় স্বল্পতার কারণে আমরা পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিই, শেষবারের মতো জেল গেটে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখানো হবে।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, যেহেতু সাদ্দাম যশোর কারাগারে রয়েছেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি যশোর জেলা প্রশাসনের এখতিয়ার। এ বিষয়ে আমাদের করার কিছু নেই।
বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান বলেন, সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা ও একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। নিহত কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এ ছাড়া পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ 



















