ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে সিএনজির গোপন চেম্বারে ১৩ হাজার ইয়াবা, আটক চালক সরকারি দাপ্তরিক খরচ কমলে শ্রমিকদের ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব: মাসুদুজ্জামান মাসুদ টেকনাফ পৌরসভাকে স্মার্ট পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সংসারের বোঝা বইতে বৃদ্ধ বারেকের ভরসা জাতীয় ফুল শাপলা নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতের তাগিদ টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলা: কারাগারে ডিবিসি চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে মোরেলগঞ্জ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বাগেরহাটে কেএম মহিউদ্দিন রিপন এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে: রাষ্ট্রপতি

নীলফামারীতে আদালত থেকে রায়ের পরও জমি নিয়ে বিরোধ, ৪’শ কলাগাছ উপড়ে ফেললো প্রতিপক্ষ

 

নীলফামারীতে আদালত থেকে জমির মালিকানা পেলেও জমি দখলের পায়তারা করছে প্রতিপক্ষ। নিজস্ব জমিতে লাগানো প্রায় চার’শ কলাগাছ উপড়ে নস্ট করার অভিযোগ উঠে ওই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের দুবাছুরি সরকারপাড়া এলাকার শ্যামল চন্দ্র সরকার। তিনি দ্বীজেন্দ্র নাথ সরকারের ছেলে।

 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একই এলাকার জেএল নং ২৬, সিএস খতিয়ান নং ২৬২, এসএ খতিয়ান ১৯৯, বিএস খতিয়ান নং ৬৫৫/১, এসএ দাগ নং ৬৬৫৩, ৬৬৫০, বিএস দাগ নং ৯০৪৬, ৯০৩৯-য়ে ৩২ শতক জমির মালিক লিপি রানী সরকার। এই জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো প্রতিপক্ষ দুলাল চন্দ্র শীল গংদের সাথে। জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা হলে বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত নীলফামারী থেকে লিপি রানী সরকারের পক্ষে রায় ও ডিক্রি প্রদান করা হয়। (মামলা নং- ৬৮/২০২১ইং)। আদালত থেকে রায় পেলেও নিজস্ব জমিতে কলা গাছ রোপণ করা হয়। গত শুক্রবার(১৯ডিসেম্বর) বিকেলে প্রতিপক্ষ দুলাল চন্দ্র শীলসহ আরো কয়েকজন মিলে প্রায় ৪’শ কলা গাছ উপড়ে ফেলে নস্ট করে। যার আনুমানিক মুল্য প্রায় দুই লাখ ৫০হাজার টাকা। খবর পেয়ে লিপি রানীর ভাই শ্যামল চন্দ্র সরকার কলা ক্ষেতে গেলে প্রতিপক্ষ স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানীর উপস্থিতিতে এবং দুলাল চন্দ্র শীল, শান্ত শীল, সাগর শীল, নির্মল চন্দ্র সরকার, হিমাংশু চন্দ্র সরকার, সুধাংশু সরকারের নেতৃত্বে আরো কয়েকজন অকথ্য গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও হত্যার  হুমকী দেয়। শ্যামল চন্দ্র সরকার অভিযোগ করে বলেন, মহামান্য আদালত থেকে রায় পেয়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান মহোদয়ের সাথে পরামর্শ করে ওই জমিতে চাষাবাদ শুরু করি। কিন্তু প্রতিপক্ষরা আদালতের রায় উপেক্ষা করে তাদের জমি বলে বল প্রয়োগ করছে। যা বেআইনি। জমি নিয়ে আমরা চরম শংকায় রয়েছি। প্রতিপক্ষরা যেকোন সময় আমাদের উপর হামলা চালাতে পারে। মুঠোফোনে বিভিন্ন সময় আমাকে হত্যার হুমকী দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমি নীলফামারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। প্রতিবেশী মৃত খগেন্দ্রনাথ রায়ের পুত্র প্রকাশ রায়, রফিকুল ইসলামের পুত্র মোঃ লিটন আলী ও মৃত আব্দুল আজিজের পুত্র রবিউল ইসলাম জানান, দুলাল চন্দ্র শীলসহ আরো অনেকে কলা গাছ উপড়ে ফেলে নস্ট করে দেয়। এবিষয়ে জানতে চাইলে দুলাল চন্দ্র শীল বলেন, আমি আমার জমি দখল করেছি। কার্তিক চন্দ্রের জমির সাথে তাদের (লিপি রানী সরকার) জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্ধ চলছে। আদালতে আমার কোন মামলা নেই। লক্ষীচাপ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গোলাম রব্বানী জানান, এখানে ব্যাপার রয়েছে। এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে পারবো না।

 

জানতে চাইলে নীলফামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, দুই পক্ষ থানায় অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়

টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে সিএনজির গোপন চেম্বারে ১৩ হাজার ইয়াবা, আটক চালক

নীলফামারীতে আদালত থেকে রায়ের পরও জমি নিয়ে বিরোধ, ৪’শ কলাগাছ উপড়ে ফেললো প্রতিপক্ষ

আপডেট : ০২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

 

নীলফামারীতে আদালত থেকে জমির মালিকানা পেলেও জমি দখলের পায়তারা করছে প্রতিপক্ষ। নিজস্ব জমিতে লাগানো প্রায় চার’শ কলাগাছ উপড়ে নস্ট করার অভিযোগ উঠে ওই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের দুবাছুরি সরকারপাড়া এলাকার শ্যামল চন্দ্র সরকার। তিনি দ্বীজেন্দ্র নাথ সরকারের ছেলে।

 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একই এলাকার জেএল নং ২৬, সিএস খতিয়ান নং ২৬২, এসএ খতিয়ান ১৯৯, বিএস খতিয়ান নং ৬৫৫/১, এসএ দাগ নং ৬৬৫৩, ৬৬৫০, বিএস দাগ নং ৯০৪৬, ৯০৩৯-য়ে ৩২ শতক জমির মালিক লিপি রানী সরকার। এই জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো প্রতিপক্ষ দুলাল চন্দ্র শীল গংদের সাথে। জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা হলে বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত নীলফামারী থেকে লিপি রানী সরকারের পক্ষে রায় ও ডিক্রি প্রদান করা হয়। (মামলা নং- ৬৮/২০২১ইং)। আদালত থেকে রায় পেলেও নিজস্ব জমিতে কলা গাছ রোপণ করা হয়। গত শুক্রবার(১৯ডিসেম্বর) বিকেলে প্রতিপক্ষ দুলাল চন্দ্র শীলসহ আরো কয়েকজন মিলে প্রায় ৪’শ কলা গাছ উপড়ে ফেলে নস্ট করে। যার আনুমানিক মুল্য প্রায় দুই লাখ ৫০হাজার টাকা। খবর পেয়ে লিপি রানীর ভাই শ্যামল চন্দ্র সরকার কলা ক্ষেতে গেলে প্রতিপক্ষ স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানীর উপস্থিতিতে এবং দুলাল চন্দ্র শীল, শান্ত শীল, সাগর শীল, নির্মল চন্দ্র সরকার, হিমাংশু চন্দ্র সরকার, সুধাংশু সরকারের নেতৃত্বে আরো কয়েকজন অকথ্য গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও হত্যার  হুমকী দেয়। শ্যামল চন্দ্র সরকার অভিযোগ করে বলেন, মহামান্য আদালত থেকে রায় পেয়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান মহোদয়ের সাথে পরামর্শ করে ওই জমিতে চাষাবাদ শুরু করি। কিন্তু প্রতিপক্ষরা আদালতের রায় উপেক্ষা করে তাদের জমি বলে বল প্রয়োগ করছে। যা বেআইনি। জমি নিয়ে আমরা চরম শংকায় রয়েছি। প্রতিপক্ষরা যেকোন সময় আমাদের উপর হামলা চালাতে পারে। মুঠোফোনে বিভিন্ন সময় আমাকে হত্যার হুমকী দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমি নীলফামারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। প্রতিবেশী মৃত খগেন্দ্রনাথ রায়ের পুত্র প্রকাশ রায়, রফিকুল ইসলামের পুত্র মোঃ লিটন আলী ও মৃত আব্দুল আজিজের পুত্র রবিউল ইসলাম জানান, দুলাল চন্দ্র শীলসহ আরো অনেকে কলা গাছ উপড়ে ফেলে নস্ট করে দেয়। এবিষয়ে জানতে চাইলে দুলাল চন্দ্র শীল বলেন, আমি আমার জমি দখল করেছি। কার্তিক চন্দ্রের জমির সাথে তাদের (লিপি রানী সরকার) জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্ধ চলছে। আদালতে আমার কোন মামলা নেই। লক্ষীচাপ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গোলাম রব্বানী জানান, এখানে ব্যাপার রয়েছে। এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে পারবো না।

 

জানতে চাইলে নীলফামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, দুই পক্ষ থানায় অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।