ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
সরকারি দাপ্তরিক খরচ কমলে শ্রমিকদের ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব: মাসুদুজ্জামান মাসুদ টেকনাফ পৌরসভাকে স্মার্ট পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সংসারের বোঝা বইতে বৃদ্ধ বারেকের ভরসা জাতীয় ফুল শাপলা নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতের তাগিদ টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত পিরোজপুরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলা: কারাগারে ডিবিসি চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে মোরেলগঞ্জ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বাগেরহাটে কেএম মহিউদ্দিন রিপন এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে: রাষ্ট্রপতি সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে: পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মানব পাচারকারী চক্রের ৪ সদস্য আটক ৮ রোহিঙ্গা উদ্ধার

 

টেকনাফ সীমান্তে মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাঁড়াশি অভিযানে চার পাচারকারী আটক হয়েছে। একই অভিযানে সমুদ্র পথে পাচারের অপেক্ষায় থাকা ৬ নারী ও ২ শিশুসহ মোট ৮ রোহিঙ্গাকে অক্ষত উদ্ধার করা হয়েছে।

 

সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়ায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

 

বিজিবি জানায়, মানব পাচারকারী চক্রের গোপন তৎপরতার বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নজরদারি বাড়ানো হয়। উদ্ধারকৃতদের বয়ান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায়—মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মোতালেব ওরফে “কালা বদ্দা”-র বাড়িতে বিদেশ গমনেচ্ছুদের অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে গভীর রাতে অভিযান দল বাড়িটি ঘিরে ফেলে।

 

বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পাচারকারী পালিয়ে গেলেও চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার করা হয় আটজন ভুক্তভোগীকে, যাদের সবাই বিভিন্ন এফডিএমএন ক্যাম্পের কার্ডধারী।

 

আটক ব্যক্তিরা—
আসমা (১৯), শাবনূর (২০), জহুরা (৪৩) এবং সাহারা খাতুন (৬২) ঠিকানা: সাবরাং ইউনিয়ন, পানছড়ি পাড়া, টেকনাফ, কক্সবাজার।

 

পলাতক—
আব্দুল মোতালেব ওরফে “কালা বদ্দা” (৩০)
ঠিকানা: একই এলাকা।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা জানায়, তাদের উচ্চ বেতনের চাকরি, কম খরচে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ ও দ্রুত আয়—এসব দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয়। আটক আসামিরা দাবি করে, পাহাড়ি পথ কঠোর নজরদারির কারণে চক্রটি এখন লোকালয়ের ভেতর দিয়ে নতুন রুটে পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছিল।

 

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,“টেকনাফ সীমান্তের পাহাড় থেকে সমুদ্র—কোথাও মানব পাচারকারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নেই। মানববিরোধী এ ‌চক্রকে নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে।”

 

আটক আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জনপ্রিয়

সরকারি দাপ্তরিক খরচ কমলে শ্রমিকদের ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব: মাসুদুজ্জামান মাসুদ

মানব পাচারকারী চক্রের ৪ সদস্য আটক ৮ রোহিঙ্গা উদ্ধার

আপডেট : ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

 

টেকনাফ সীমান্তে মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাঁড়াশি অভিযানে চার পাচারকারী আটক হয়েছে। একই অভিযানে সমুদ্র পথে পাচারের অপেক্ষায় থাকা ৬ নারী ও ২ শিশুসহ মোট ৮ রোহিঙ্গাকে অক্ষত উদ্ধার করা হয়েছে।

 

সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়ায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

 

বিজিবি জানায়, মানব পাচারকারী চক্রের গোপন তৎপরতার বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নজরদারি বাড়ানো হয়। উদ্ধারকৃতদের বয়ান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায়—মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মোতালেব ওরফে “কালা বদ্দা”-র বাড়িতে বিদেশ গমনেচ্ছুদের অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে গভীর রাতে অভিযান দল বাড়িটি ঘিরে ফেলে।

 

বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পাচারকারী পালিয়ে গেলেও চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার করা হয় আটজন ভুক্তভোগীকে, যাদের সবাই বিভিন্ন এফডিএমএন ক্যাম্পের কার্ডধারী।

 

আটক ব্যক্তিরা—
আসমা (১৯), শাবনূর (২০), জহুরা (৪৩) এবং সাহারা খাতুন (৬২) ঠিকানা: সাবরাং ইউনিয়ন, পানছড়ি পাড়া, টেকনাফ, কক্সবাজার।

 

পলাতক—
আব্দুল মোতালেব ওরফে “কালা বদ্দা” (৩০)
ঠিকানা: একই এলাকা।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা জানায়, তাদের উচ্চ বেতনের চাকরি, কম খরচে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ ও দ্রুত আয়—এসব দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয়। আটক আসামিরা দাবি করে, পাহাড়ি পথ কঠোর নজরদারির কারণে চক্রটি এখন লোকালয়ের ভেতর দিয়ে নতুন রুটে পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছিল।

 

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,“টেকনাফ সীমান্তের পাহাড় থেকে সমুদ্র—কোথাও মানব পাচারকারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নেই। মানববিরোধী এ ‌চক্রকে নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে।”

 

আটক আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।