ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ

৫ আগস্টের আগে-পরে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন গ্রহণযোগ্য নয়: ভলকার তুর্ক

ভলকার তুর্ক। ফাইল ছবি

 

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার তুর্ক বলেছেন, গত ৫ আগস্টের আগে বা পরে এবং কারও কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশে সফররত ভলকার তুর্ক বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

 

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন গত ৫ থেকে ১৫ আগস্ট বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগও তদন্ত করছে।

 

গত জুলাই ও আগস্টে বর্বর সহিংসতায় শহীদসহ আহতের কথা স্মরণ করে তুর্ক বলেন, তাদের ন্যায়বিচার পাওয়া একটি অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘যে কোনো দমন-পীড়ন, অভ্যুত্থান ও সহিংসতার পর এগিয়ে যাওয়ার জন্য সত্য অনুসন্ধান ও নিরাময়ের জাতীয় প্রক্রিয়া থাকা দরকার।’

 

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা বঞ্চনার শিকার হয়ে তাদের বক্তব্য প্রকাশ করতে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমে ইতিহাসের অনন্য এই নজিরবিহীন মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে।’

 

‘যথেষ্ট ভিন্নমত দমন করা হয়েছে। দেশে যথেষ্ট বৈষম্য, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার ছিল তাদের মূল দাবি,’ বলেন তিনি।

 

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশ হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য নিহতের ঘটনায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বা কার্যত দায়মুক্তি প্রসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে সংবাদ সম্মেলনে। জবাবে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের প্রধান বলেন, ‘যেকোনো হত্যার ক্ষেত্রে, হত্যা যে-ই করুক না কেন, তদন্ত হতে হবে। এটি খুবই স্পষ্ট।

 

গত আগস্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘মব জাস্টিস’ প্রসঙ্গে ভলকার তুর্ক বলেন,‘আরেকজন মানুষকে আঘাত—সহিংসতা যে-ই করুক না কেন, অবশ্যই তদন্ত হতে হবে। কোনো ধরনের মব জাস্টিস গ্রহণযোগ্য নয়।

 

ভলকার তুর্ক বলেন, ‘এবার ন্যায়বিচার হতে হবে। এবারের সংস্কার অবশ্যই টেকসই হতে হবে, যেন গত কয়েক দশকের অপমানজনক চর্চার পুনরাবৃত্তি না হয়।’

 

তুর্ক বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক হওয়া বা সম্পৃক্ততার কারণেই কারো বিরূদ্ধে ফৌজদারি মামলা যেন করা না হয়, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, যথাযথ তদন্ত ছাড়াই বেশ কয়েকজন সাংবাদিকসহ অনেকের নামে অভিযোগ দায়ের হওয়া উদ্বেগের।অতীতের এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি প্রসঙ্গে হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, ‘ন্যাশনাল হিলিং প্রসেস’ (জাতীয় নিরাময় প্রক্রিয়া)-এর উদ্ভব সব সময় ওই দেশ থেকেই হতে হয়। এই নিরাময়ের জন্য জবাবদিহি, ন্যায়বিচার ও ভালো উপলব্ধি প্রয়োজন। এ জন্য অতীতের ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি না হওয়াটা জরুরি।

 

সংবাদ সম্মেলনে গায়েবি ও হয়রানিমূলক মামলা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে ভলকার তুর্ক বলেন, ‘এটিকে ইস্যু হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। আমি একে স্বাগত জানাই। তুর্ক বলেন, ‘আমরা অতীতের পুনরাবৃত্তি হতে দিতে পারি না। অভিযোগ ও মামলা যথার্থ হওয়া উচিত। তাঁরাও ন্যায়বিচার ও যথার্থ প্রক্রিয়া পাওয়ার অধিকার রাখেন।’

 

বাংলাদেশের মতো দেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর কেন কার্যালয় খুলতে চায়—এ প্রশ্নও উঠেছিল ব্রিফিংয়ে। জবাবে হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, ‘যখন একটি দেশ রূপান্তরের পথে থাকে তখন অনেক অভিজ্ঞতা, পরামর্শ প্রয়োজন হয়। দেশগুলোর প্রয়োজন নিয়ে সহযোগিতা করাই মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের কাজ।’

 

জনপ্রিয়

এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর

৫ আগস্টের আগে-পরে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন গ্রহণযোগ্য নয়: ভলকার তুর্ক

আপডেট : ১২:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪
ভলকার তুর্ক। ফাইল ছবি

 

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার তুর্ক বলেছেন, গত ৫ আগস্টের আগে বা পরে এবং কারও কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশে সফররত ভলকার তুর্ক বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

 

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন গত ৫ থেকে ১৫ আগস্ট বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগও তদন্ত করছে।

 

গত জুলাই ও আগস্টে বর্বর সহিংসতায় শহীদসহ আহতের কথা স্মরণ করে তুর্ক বলেন, তাদের ন্যায়বিচার পাওয়া একটি অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘যে কোনো দমন-পীড়ন, অভ্যুত্থান ও সহিংসতার পর এগিয়ে যাওয়ার জন্য সত্য অনুসন্ধান ও নিরাময়ের জাতীয় প্রক্রিয়া থাকা দরকার।’

 

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা বঞ্চনার শিকার হয়ে তাদের বক্তব্য প্রকাশ করতে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমে ইতিহাসের অনন্য এই নজিরবিহীন মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে।’

 

‘যথেষ্ট ভিন্নমত দমন করা হয়েছে। দেশে যথেষ্ট বৈষম্য, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার ছিল তাদের মূল দাবি,’ বলেন তিনি।

 

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশ হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য নিহতের ঘটনায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বা কার্যত দায়মুক্তি প্রসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে সংবাদ সম্মেলনে। জবাবে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের প্রধান বলেন, ‘যেকোনো হত্যার ক্ষেত্রে, হত্যা যে-ই করুক না কেন, তদন্ত হতে হবে। এটি খুবই স্পষ্ট।

 

গত আগস্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘মব জাস্টিস’ প্রসঙ্গে ভলকার তুর্ক বলেন,‘আরেকজন মানুষকে আঘাত—সহিংসতা যে-ই করুক না কেন, অবশ্যই তদন্ত হতে হবে। কোনো ধরনের মব জাস্টিস গ্রহণযোগ্য নয়।

 

ভলকার তুর্ক বলেন, ‘এবার ন্যায়বিচার হতে হবে। এবারের সংস্কার অবশ্যই টেকসই হতে হবে, যেন গত কয়েক দশকের অপমানজনক চর্চার পুনরাবৃত্তি না হয়।’

 

তুর্ক বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক হওয়া বা সম্পৃক্ততার কারণেই কারো বিরূদ্ধে ফৌজদারি মামলা যেন করা না হয়, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, যথাযথ তদন্ত ছাড়াই বেশ কয়েকজন সাংবাদিকসহ অনেকের নামে অভিযোগ দায়ের হওয়া উদ্বেগের।অতীতের এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি প্রসঙ্গে হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, ‘ন্যাশনাল হিলিং প্রসেস’ (জাতীয় নিরাময় প্রক্রিয়া)-এর উদ্ভব সব সময় ওই দেশ থেকেই হতে হয়। এই নিরাময়ের জন্য জবাবদিহি, ন্যায়বিচার ও ভালো উপলব্ধি প্রয়োজন। এ জন্য অতীতের ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি না হওয়াটা জরুরি।

 

সংবাদ সম্মেলনে গায়েবি ও হয়রানিমূলক মামলা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে ভলকার তুর্ক বলেন, ‘এটিকে ইস্যু হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। আমি একে স্বাগত জানাই। তুর্ক বলেন, ‘আমরা অতীতের পুনরাবৃত্তি হতে দিতে পারি না। অভিযোগ ও মামলা যথার্থ হওয়া উচিত। তাঁরাও ন্যায়বিচার ও যথার্থ প্রক্রিয়া পাওয়ার অধিকার রাখেন।’

 

বাংলাদেশের মতো দেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর কেন কার্যালয় খুলতে চায়—এ প্রশ্নও উঠেছিল ব্রিফিংয়ে। জবাবে হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, ‘যখন একটি দেশ রূপান্তরের পথে থাকে তখন অনেক অভিজ্ঞতা, পরামর্শ প্রয়োজন হয়। দেশগুলোর প্রয়োজন নিয়ে সহযোগিতা করাই মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের কাজ।’