ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
বাগেরহাট বিআরটিএ কার্যালয়ে দুদকের অভিযান, মিলেছে অনিয়মের তথ্য তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় মোংলায় কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবি অর্থাভাবে অনিশ্চিত এসএসসি, শুভকে সহায়তা করল এবিজি ফাউন্ডেশন মোরেলগঞ্জে খাল থেকে উদ্ধার মরদেহের পরিচয় মিলেছে, নিহত কিশোর মফিজুল পিরোজপুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‍্যালি ও সমাবেশ যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে জলঢাকার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের পরিচিতি ও মতবিনিময় পিরোজপুরে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেশে ফিরে নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা আনসার-ভিডিপি একাডেমি পরিদর্শনে চার বন্ধুপ্রতিম দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল; বৈশ্বিক কর্মসংস্থানে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ দিয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের আগে ভেন্যুটির মাঠ, উইকেট, ড্রেসিংরুম, চিকিৎসাসেবা ও গণমাধ্যমের সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রতিনিধি দল।

 

আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ। এ আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে সোমবার স্টেডিয়ামের সার্বিক প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত সুবিধা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন বিসিবির ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনে যেসব বিষয়ে সামান্য পরিবর্তন বা উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

বিসিবির গ্রাউন্ডস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ন্যাশনাল ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে। পরিদর্শন শেষে ভেন্যুটির সুযোগ-সুবিধা ও এবিজি স্পোর্টস সিটির সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।

 

সৈয়দ আব্দুল বাতেন বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভেন্যুতে বিসিবির প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম। এ উদ্যোগের জন্য এবিজি স্পোর্টস সিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা অসাধারণ একটি ভেন্যু। আমরা অনেক দিন ধরেই খেলাধুলার আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। তবে এই প্রথম বিসিবি এ ধরনের একটি ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভেন্যুতে আয়োজন করছে।’

 

স্টেডিয়ামের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘এখানকার সুযোগ-সুবিধা অসাধারণ। সবাই সহযোগিতাপরায়ণ ও সহায়তাপ্রবণ। আমরা উইকেট, আউটফিল্ড, ড্রেসিংরুম, চিকিৎসা ও লজিস্টিক সুবিধা, সাংবাদিকদের বসার জায়গা এবং সংবাদ কাভারেজের ব্যবস্থা দেখেছি। বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেসব জায়গায় সামান্য পরিবর্তন বা উন্নয়ন প্রয়োজন, সেগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে।’

 

আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক দলের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ক্রিকেট পরিচালনার সম্ভাবনা যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা। এবিজি স্পোর্টস সিটিতে আরও একটি ক্রিকেট মাঠ নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি সেখানে রয়েছে অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা। সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে ক্রিকেট আয়োজনের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল বাতেন বলেন, ‘দুই দিনের এই প্রস্তুতি ম্যাচ আমাদের জন্য একটি টেস্ট কেস। বসুন্ধরায় আরও একটি মাঠ তৈরি হচ্ছে। তাদের ভালো অনুশীলন সুবিধাও রয়েছে।’

 

পরিদর্শনকালে এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মোঃ ইমরুল হাসান, এবিজির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার লেফটেন্যান্ট কর্নেল শোয়েব শফিকসহ প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনকে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও এবিজি স্পোর্টস সিটির জন্য বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন পরিচালক মোঃ ইমরুল হাসান। তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে দুই দিনের একটি ম্যাচ হবে। এবিজি স্পোর্টস সিটি ও আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য এটি অবশ্যই গৌরবের বিষয়।’

 

বিসিবির প্রতিনিধি দলকে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেখানোর কথা উল্লেখ করে মোঃ ইমরুল হাসান বলেন, ‘মাঠ থেকে শুরু করে ড্রেসিংরুম, সাংবাদিকদের কক্ষ, মেডিকেল রুমসহ সবকিছুই আমরা তাদের দেখিয়েছি। বিসিবি এ ধরনের আয়োজন করতে অভ্যস্ত, আর আমরা একেবারেই নতুন। তাই তাদের দিকনির্দেশনা নিয়েই কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। তাদের কথাবার্তা থেকে আমার মনে হয়েছে, তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট।’

 

এর আগে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি এই মাঠে আয়োজন করা হয় জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচও। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভেন্যুটির কার্যক্রমে যুক্ত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক দলের অংশগ্রহণে ম্যাচ পরিচালনার নতুন অভিজ্ঞতা।

 

বিসিবির প্রতিনিধি দলের এই পরিদর্শন এবং আসন্ন প্রস্তুতি ম্যাচকে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও আয়োজনের সক্ষমতা প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

বাগেরহাট বিআরটিএ কার্যালয়ে দুদকের অভিযান, মিলেছে অনিয়মের তথ্য

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ দিয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম

আপডেট : ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের আগে ভেন্যুটির মাঠ, উইকেট, ড্রেসিংরুম, চিকিৎসাসেবা ও গণমাধ্যমের সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রতিনিধি দল।

 

আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ। এ আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে সোমবার স্টেডিয়ামের সার্বিক প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত সুবিধা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন বিসিবির ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনে যেসব বিষয়ে সামান্য পরিবর্তন বা উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

বিসিবির গ্রাউন্ডস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ন্যাশনাল ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে। পরিদর্শন শেষে ভেন্যুটির সুযোগ-সুবিধা ও এবিজি স্পোর্টস সিটির সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।

 

সৈয়দ আব্দুল বাতেন বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভেন্যুতে বিসিবির প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম। এ উদ্যোগের জন্য এবিজি স্পোর্টস সিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা অসাধারণ একটি ভেন্যু। আমরা অনেক দিন ধরেই খেলাধুলার আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। তবে এই প্রথম বিসিবি এ ধরনের একটি ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভেন্যুতে আয়োজন করছে।’

 

স্টেডিয়ামের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘এখানকার সুযোগ-সুবিধা অসাধারণ। সবাই সহযোগিতাপরায়ণ ও সহায়তাপ্রবণ। আমরা উইকেট, আউটফিল্ড, ড্রেসিংরুম, চিকিৎসা ও লজিস্টিক সুবিধা, সাংবাদিকদের বসার জায়গা এবং সংবাদ কাভারেজের ব্যবস্থা দেখেছি। বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেসব জায়গায় সামান্য পরিবর্তন বা উন্নয়ন প্রয়োজন, সেগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে।’

 

আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক দলের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ক্রিকেট পরিচালনার সম্ভাবনা যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা। এবিজি স্পোর্টস সিটিতে আরও একটি ক্রিকেট মাঠ নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি সেখানে রয়েছে অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা। সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে ক্রিকেট আয়োজনের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল বাতেন বলেন, ‘দুই দিনের এই প্রস্তুতি ম্যাচ আমাদের জন্য একটি টেস্ট কেস। বসুন্ধরায় আরও একটি মাঠ তৈরি হচ্ছে। তাদের ভালো অনুশীলন সুবিধাও রয়েছে।’

 

পরিদর্শনকালে এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মোঃ ইমরুল হাসান, এবিজির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার লেফটেন্যান্ট কর্নেল শোয়েব শফিকসহ প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনকে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও এবিজি স্পোর্টস সিটির জন্য বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন পরিচালক মোঃ ইমরুল হাসান। তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে দুই দিনের একটি ম্যাচ হবে। এবিজি স্পোর্টস সিটি ও আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য এটি অবশ্যই গৌরবের বিষয়।’

 

বিসিবির প্রতিনিধি দলকে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেখানোর কথা উল্লেখ করে মোঃ ইমরুল হাসান বলেন, ‘মাঠ থেকে শুরু করে ড্রেসিংরুম, সাংবাদিকদের কক্ষ, মেডিকেল রুমসহ সবকিছুই আমরা তাদের দেখিয়েছি। বিসিবি এ ধরনের আয়োজন করতে অভ্যস্ত, আর আমরা একেবারেই নতুন। তাই তাদের দিকনির্দেশনা নিয়েই কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। তাদের কথাবার্তা থেকে আমার মনে হয়েছে, তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট।’

 

এর আগে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি এই মাঠে আয়োজন করা হয় জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচও। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভেন্যুটির কার্যক্রমে যুক্ত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক দলের অংশগ্রহণে ম্যাচ পরিচালনার নতুন অভিজ্ঞতা।

 

বিসিবির প্রতিনিধি দলের এই পরিদর্শন এবং আসন্ন প্রস্তুতি ম্যাচকে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও আয়োজনের সক্ষমতা প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।