ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
কুরআনের শিক্ষা মানুষকে বিশ্বে নন্দিত করে: মাসুদ সাঈদী নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে ভোলায় ৬ হাজার মিটার জাল জব্দ পিরোজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ সেন্ট মার্টিনে ৪২ কোটি টাকার ইয়াবা-হেরোইন জব্দ প্যালেস্টাইন টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ৫ হাজার মিটার জাল ধ্বংস, জরিমানা ১০ হাজার টাকা আজ থেকে বন্ধ হচ্ছে মাছ ধরা, অনিশ্চয়তায় ভোলার জেলেরা গণপরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে বৈঠক মোরেলগঞ্জে সদর ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল সতীর্থদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে শেষ বিদায়ে মেসি

আজ থেকে বন্ধ হচ্ছে মাছ ধরা, অনিশ্চয়তায় ভোলার জেলেরা

 

আজ মধ্যরাত থেকে মা ইলিশ রক্ষায় সব ধরনের মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত থাকবে এই নিষেধাজ্ঞা।

 

এই ২২ দিন ভোলার মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার ও তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে ভোলার ২ লক্ষাধিক জেলে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

 

এই সময়ে মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখতে গত কয়েকদিন ধরেই মাছঘাটগুলোতে সচেতনামূলক মাইকিং ও ঘাটে ঘাটে ব্যানার টানিয়ে দিয়েছে মৎস্য বিভাগ। জেলে ও মৎস্যজীবীদের নিয়ে করা হয়েছে সভা-সেমিনারও।

 

বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোলার বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমজুড়ে নদীতে তেমন মাছের দেখা না পাওয়ায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার খবরে জেলেদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। সংসারের খরচের পাশাপাশি আড়তদারের দাদন ও এনজিওর ঋণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

 

নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকার জেলেদের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিলেও সব জেলে এ চাল পায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। যে সব জেলে সরকারি বরাদ্দের চাল পায় তারাও এক সপ্তহের বেশি এই চাল দিয়ে সংসার চালাতে পারেন না। ফলে অভিযানকালীন ঋণের বোঝা আরো ভারী হয় জেলেদের। সরেজমিনে বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে জেলেরা নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নদী থেকে মাছ শিকার করে ঘাটে বিক্রি করে আবার নদীতে ছুটে যাচ্ছেন। আবার সাগর মোহনার জেলেরা আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি হিসেবে জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম ঘুছিয়ে রাখছেন। শেষ সময়ে প্রতিটি ঘটেই চলছে জেলেদের কর্মব্যস্ততা।

 

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখ ৬৮হাজার ৩৭০ জন। নিবন্ধনের বাইরেও আরো প্রায় ৩০-৪০ হাজার জেলে রয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্রগামী জেলে রয়েছেন ৬৪ হাজার। মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালীন এক লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলের জন্য ২৫ কেজি করে মোট তিন লাখ ৫৯০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভোলা সদর উপজেলার জেলে মো. হারুন মাঝি জানান, এ বছর ভড়া মৌসুমে নদীতে তেমন মাছের দেখা মেলেনি। মৌসুমের শেষে এসে গত ১০-১৫ আগ থেকে নদীতে কিছুটা মাছ ধরা পড়লেও গত বছরের তুলনায় অনেক কম। যা দিয়ে ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। ৬ সদস্যের পরিবারের খরচ যুগিয়ে সপ্তাহে দুই হাজার টাকা এনজিওর কিস্তি দিতে হয়। এতে করে অনেকটা টানাপোড়নের মধ্যেই দিন পার করতে হয়। এর মধ্যে সরকার ২২ দিনের মা-ইলিশ রক্ষা অভিযান দিয়েছে। এ ২২ দিনে নতুন করে আরো দেনা করতে হবে। সরকার যে চাল দেয় এ দিয়ে সর্বোচ্চ ৮-৯দিন চলে। উপজেলার ধনিয়া তুলাতুলি এলাকার জেলে মো. বাবুল মাঝি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার নদীতে মাছ অনেক কম। তাই পুরো বছর ঋণের বোঝা টানতে হয়। বর্তমানে নদীকে যে মাছ পাওয়া তা বিক্রি করে সংসার চালানো কঠিন। এর মধ্যে আবার সরকারি নিষেধাজ্ঞাকালিন সময়ে নতুন করে ধারদেনা করতে হবে। এ ছাড়াও জেলে পেশা ছাড়া তিনি আর কোনো কাজ করতে পারেন না। তাই বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ শিকার করেই জীবিকা চলে তার। একই এলাকার ছিডু মাঝি জানান, তিনি ৪০ বছর ধরে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নদীতে মাছ শিকার করে স্ত্রী ও ছেলে-সন্তান নিয়ে তিন বেলা খেয়ে কোনো মতে দিন চলে। প্রায় চার দশক নদীতে মাছ শিকার করেও কিছুই করতে পারেননি। উল্টো বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে বছরে তিন থেকে চারবার নদীতে অভিযান থাকে। অন্য সময়েও নদীতে তেমন মাছ ধরা পরেনা। প্রতি বছরই মাছের পরিমান কমে যাচ্ছে। দিন দিন ঋণের বোঝা ভারী হওয়ায় অনেকে জেলে পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। এ রকম চলতে থাকলে এক সময় জেলে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখন যারা আছে তারা বাধ্য হয়েই এ পেশা ধরে রেখেছেন। সদর উপজেলার তুলাতুলি মাছঘাটের আড়তদার মো. জসিম বেপারী জানান, গত বছর তার আড়তে প্রায় ৮০-৯০ লাখ টাকার মাছ ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত অর্ধেকও হয়নি। গত বছর অভিযানের আগ মূহুর্ত মাছ বিক্রি করার জন্য দম ফালানোর সময় পাওয়া যায়নি। এ বছর সারাদিন বসে থেকেও ৫০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করতে কষ্ট হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর নদীতে মাছ অনেক কম ধরা পড়েছে। জেলেরা যে মাছ পায় তা দিয়ে তাদের সংসারও ঠিকমতো চালাতে পারে না।

 

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে ২২ দিন ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মা-ইলিশ রক্ষা অভিযান চলবে। অভিযান সফল করার লক্ষে জেলেদের নিয়ে সচেতনা সভা করা হয়েছে। ঘাটে ঘাটে মাইকিংয়ের পাশাপাশি প্রচারপত্র বিলি করা হয়েছে। জেলেদেরকে নদী যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পুলিশ, নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তিনি আরো জানান, নিষেধাজ্ঞাকালীন এক লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় এ চাল পাঠানো হয়েছে। আশা করি অভিযানের শুরু দিন থেকেই চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু কার হবে। এ ছাড়াও অভিযান চলাকালে জেলের ব্যাংক ও এনজিওর ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

কুরআনের শিক্ষা মানুষকে বিশ্বে নন্দিত করে: মাসুদ সাঈদী

আজ থেকে বন্ধ হচ্ছে মাছ ধরা, অনিশ্চয়তায় ভোলার জেলেরা

আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে

 

আজ মধ্যরাত থেকে মা ইলিশ রক্ষায় সব ধরনের মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত থাকবে এই নিষেধাজ্ঞা।

 

এই ২২ দিন ভোলার মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার ও তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে ভোলার ২ লক্ষাধিক জেলে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

 

এই সময়ে মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখতে গত কয়েকদিন ধরেই মাছঘাটগুলোতে সচেতনামূলক মাইকিং ও ঘাটে ঘাটে ব্যানার টানিয়ে দিয়েছে মৎস্য বিভাগ। জেলে ও মৎস্যজীবীদের নিয়ে করা হয়েছে সভা-সেমিনারও।

 

বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোলার বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমজুড়ে নদীতে তেমন মাছের দেখা না পাওয়ায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার খবরে জেলেদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। সংসারের খরচের পাশাপাশি আড়তদারের দাদন ও এনজিওর ঋণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

 

নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকার জেলেদের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিলেও সব জেলে এ চাল পায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। যে সব জেলে সরকারি বরাদ্দের চাল পায় তারাও এক সপ্তহের বেশি এই চাল দিয়ে সংসার চালাতে পারেন না। ফলে অভিযানকালীন ঋণের বোঝা আরো ভারী হয় জেলেদের। সরেজমিনে বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে জেলেরা নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নদী থেকে মাছ শিকার করে ঘাটে বিক্রি করে আবার নদীতে ছুটে যাচ্ছেন। আবার সাগর মোহনার জেলেরা আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি হিসেবে জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম ঘুছিয়ে রাখছেন। শেষ সময়ে প্রতিটি ঘটেই চলছে জেলেদের কর্মব্যস্ততা।

 

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা এক লাখ ৬৮হাজার ৩৭০ জন। নিবন্ধনের বাইরেও আরো প্রায় ৩০-৪০ হাজার জেলে রয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্রগামী জেলে রয়েছেন ৬৪ হাজার। মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালীন এক লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলের জন্য ২৫ কেজি করে মোট তিন লাখ ৫৯০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভোলা সদর উপজেলার জেলে মো. হারুন মাঝি জানান, এ বছর ভড়া মৌসুমে নদীতে তেমন মাছের দেখা মেলেনি। মৌসুমের শেষে এসে গত ১০-১৫ আগ থেকে নদীতে কিছুটা মাছ ধরা পড়লেও গত বছরের তুলনায় অনেক কম। যা দিয়ে ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। ৬ সদস্যের পরিবারের খরচ যুগিয়ে সপ্তাহে দুই হাজার টাকা এনজিওর কিস্তি দিতে হয়। এতে করে অনেকটা টানাপোড়নের মধ্যেই দিন পার করতে হয়। এর মধ্যে সরকার ২২ দিনের মা-ইলিশ রক্ষা অভিযান দিয়েছে। এ ২২ দিনে নতুন করে আরো দেনা করতে হবে। সরকার যে চাল দেয় এ দিয়ে সর্বোচ্চ ৮-৯দিন চলে। উপজেলার ধনিয়া তুলাতুলি এলাকার জেলে মো. বাবুল মাঝি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার নদীতে মাছ অনেক কম। তাই পুরো বছর ঋণের বোঝা টানতে হয়। বর্তমানে নদীকে যে মাছ পাওয়া তা বিক্রি করে সংসার চালানো কঠিন। এর মধ্যে আবার সরকারি নিষেধাজ্ঞাকালিন সময়ে নতুন করে ধারদেনা করতে হবে। এ ছাড়াও জেলে পেশা ছাড়া তিনি আর কোনো কাজ করতে পারেন না। তাই বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ শিকার করেই জীবিকা চলে তার। একই এলাকার ছিডু মাঝি জানান, তিনি ৪০ বছর ধরে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নদীতে মাছ শিকার করে স্ত্রী ও ছেলে-সন্তান নিয়ে তিন বেলা খেয়ে কোনো মতে দিন চলে। প্রায় চার দশক নদীতে মাছ শিকার করেও কিছুই করতে পারেননি। উল্টো বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে বছরে তিন থেকে চারবার নদীতে অভিযান থাকে। অন্য সময়েও নদীতে তেমন মাছ ধরা পরেনা। প্রতি বছরই মাছের পরিমান কমে যাচ্ছে। দিন দিন ঋণের বোঝা ভারী হওয়ায় অনেকে জেলে পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। এ রকম চলতে থাকলে এক সময় জেলে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখন যারা আছে তারা বাধ্য হয়েই এ পেশা ধরে রেখেছেন। সদর উপজেলার তুলাতুলি মাছঘাটের আড়তদার মো. জসিম বেপারী জানান, গত বছর তার আড়তে প্রায় ৮০-৯০ লাখ টাকার মাছ ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত অর্ধেকও হয়নি। গত বছর অভিযানের আগ মূহুর্ত মাছ বিক্রি করার জন্য দম ফালানোর সময় পাওয়া যায়নি। এ বছর সারাদিন বসে থেকেও ৫০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করতে কষ্ট হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর নদীতে মাছ অনেক কম ধরা পড়েছে। জেলেরা যে মাছ পায় তা দিয়ে তাদের সংসারও ঠিকমতো চালাতে পারে না।

 

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে ২২ দিন ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মা-ইলিশ রক্ষা অভিযান চলবে। অভিযান সফল করার লক্ষে জেলেদের নিয়ে সচেতনা সভা করা হয়েছে। ঘাটে ঘাটে মাইকিংয়ের পাশাপাশি প্রচারপত্র বিলি করা হয়েছে। জেলেদেরকে নদী যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পুলিশ, নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তিনি আরো জানান, নিষেধাজ্ঞাকালীন এক লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় এ চাল পাঠানো হয়েছে। আশা করি অভিযানের শুরু দিন থেকেই চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু কার হবে। এ ছাড়াও অভিযান চলাকালে জেলের ব্যাংক ও এনজিওর ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চিঠি দেওয়া হয়েছে।