ঢাকা , শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
রাড্ডা সেন্টারে হামলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করছেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এমপি মিষ্টি ​ বাগেরহাটে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করে ভুয়া সিম বিক্রির চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, সরঞ্জাম উদ্ধার ​ বাগেরহাটে রিকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত ফুটপাত দখলমুক্তে আপসহীন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ফেনীতে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ’ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস আজ: নানা আয়োজনে উদযাপিত টেকনাফে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা সৈয়দ কবির আটক ২৫ বছর ধরে মেধার সন্ধানে মুকুন্দপুরের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলা ও লুটপাট: সাবেক মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার মিরপুরে হকার উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র: গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, পুলিশ-হকার সংঘর্ষ

মিরপুরে হকার উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র: গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, পুলিশ-হকার সংঘর্ষ

সংগৃহীত ছবি

 

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সিটি করপোরেশন কর্মী, পুলিশ ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে ডিএনসিসির ময়লার গাড়ি, পুলিশের গাড়ি ও বেসরকারি টেলিভিশনের যানবাহন ভাঙচুর এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

​

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও সংলগ্ন ফুটপাতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে। অভিযান চলার একপর্যায়ে হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

 

​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে হকারদের একটি দল ডিএনসিসির তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় একটি ভেকু (খননযন্ত্র) ও পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায় এবং দুটি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

​দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মিরপুর আইডিয়াল কলেজের সামনে ফুটপাত ব্যবসায়ীরা দলবদ্ধ হয়ে অবস্থান নেন এবং অন্যদিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশ অবস্থান গ্রহণ করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়লে ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। হকারদের ব্যাপক উপস্থিতির মুখে পুলিশ সদস্যরা সাময়িকভাবে পিছু হটতে বাধ্য হন।

​

ঘটনাস্থলে তথ্য পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের ওপরও চড়াও হন আন্দোলনকারীরা। এ সময় এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন সংবাদকর্মীকে লাঞ্ছিত করা হয়।

​

ঘটনার বিষয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে এই নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ফ্যাসিজমের আমল থেকে যারা ফুটপাত দখল করে রেখেছিল, তারা এবং তাদের ইন্ধনদাতারা সিটি করপোরেশনের পরিবহন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে তারা পালাতে বাধ্য হয়েছে।”

 

​তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, অরাজকতার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও ডিএনসিসির পক্ষ থেকে আলাদা মামলা দায়ের করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগানদানকারীদের “ফ্যাসিবাদের দোসর” উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবৈধ দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং ফুটপাত উদ্ধারে সিটি করপোরেশনের ডাইরেক্ট অ্যাকশন কর্মসূচি চলমান থাকবে।

জনপ্রিয়

রাড্ডা সেন্টারে হামলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করছেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এমপি মিষ্টি ​

মিরপুরে হকার উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র: গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, পুলিশ-হকার সংঘর্ষ

আপডেট : ২৩ ঘন্টা আগে
সংগৃহীত ছবি

 

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সিটি করপোরেশন কর্মী, পুলিশ ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে ডিএনসিসির ময়লার গাড়ি, পুলিশের গাড়ি ও বেসরকারি টেলিভিশনের যানবাহন ভাঙচুর এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

​

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও সংলগ্ন ফুটপাতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে। অভিযান চলার একপর্যায়ে হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

 

​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে হকারদের একটি দল ডিএনসিসির তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় একটি ভেকু (খননযন্ত্র) ও পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায় এবং দুটি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

​দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মিরপুর আইডিয়াল কলেজের সামনে ফুটপাত ব্যবসায়ীরা দলবদ্ধ হয়ে অবস্থান নেন এবং অন্যদিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশ অবস্থান গ্রহণ করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়লে ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। হকারদের ব্যাপক উপস্থিতির মুখে পুলিশ সদস্যরা সাময়িকভাবে পিছু হটতে বাধ্য হন।

​

ঘটনাস্থলে তথ্য পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের ওপরও চড়াও হন আন্দোলনকারীরা। এ সময় এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন সংবাদকর্মীকে লাঞ্ছিত করা হয়।

​

ঘটনার বিষয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে এই নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ফ্যাসিজমের আমল থেকে যারা ফুটপাত দখল করে রেখেছিল, তারা এবং তাদের ইন্ধনদাতারা সিটি করপোরেশনের পরিবহন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে তারা পালাতে বাধ্য হয়েছে।”

 

​তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, অরাজকতার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও ডিএনসিসির পক্ষ থেকে আলাদা মামলা দায়ের করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগানদানকারীদের “ফ্যাসিবাদের দোসর” উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবৈধ দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং ফুটপাত উদ্ধারে সিটি করপোরেশনের ডাইরেক্ট অ্যাকশন কর্মসূচি চলমান থাকবে।