সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি তার প্রয়াত স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজকে শেষ বিদায় জানাতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন।
এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম তার চার দিনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। পরে মুন্সিগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য তার প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেন।
দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ ১৮ আগস্ট রাত ১০টা ২৭ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভার সংক্রান্ত নানা জটিলতায় আক্রান্ত ছিলেন এবং ২০১৯ সালে স্ট্রোক করার পর থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। বর্তমানে দীপু মনি মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন; যেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ ২০ আগস্ট সকালে ঢাকার কলাবাগানে তার নিজ বাসভবনে নেওয়া হবে, যেখানে দীপু মনি তার প্রয়াত স্বামীকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পাবেন। এরপর মরদেহটি গুলশানের আজাদ মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে, সেখানে বাদ জোহর জানাজা ও দোয়া মোনাজাত শেষে বনানী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হবে।
দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম উল্লেখ করেন, প্রচলিত কারা আইন ও কারাবিধি অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারে দিনের আলোতে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির স্পষ্ট বিধান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি হয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী ছিলেন দীপু মনি। দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী তৌফিক নেওয়াজ কিডনি ও লিভারের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। স্বামীর সঙ্গে কারাগারের বাইরে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে একাধিকবার আবেদন করেও তিনি অনুমতি পাননি। আদালতে তাকে হাজির করা হলে স্বামী তৌফিক নেওয়াজ শয্যাশায়ী অবস্থায় স্ট্রেচারে করে তার সঙ্গে দেখা করতে যেতেন।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 



















