ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
বাগেরহাট বিআরটিএ কার্যালয়ে দুদকের অভিযান, মিলেছে অনিয়মের তথ্য তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় মোংলায় কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবি অর্থাভাবে অনিশ্চিত এসএসসি, শুভকে সহায়তা করল এবিজি ফাউন্ডেশন মোরেলগঞ্জে খাল থেকে উদ্ধার মরদেহের পরিচয় মিলেছে, নিহত কিশোর মফিজুল পিরোজপুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‍্যালি ও সমাবেশ যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে জলঢাকার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের পরিচিতি ও মতবিনিময় পিরোজপুরে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেশে ফিরে নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা আনসার-ভিডিপি একাডেমি পরিদর্শনে চার বন্ধুপ্রতিম দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল; বৈশ্বিক কর্মসংস্থানে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত

গিটারের জাদুকর আইয়ুব বাচ্চুর জন্মবার্ষিকী আজ

আইয়ুব বাচ্চু

​

আজ ১৬ আগস্ট, বাংলা ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী, সুরকার ও অনবদ্য গিটারবাদক আইয়ুব বাচ্চুর জন্মবার্ষিকী। জীবিত থাকলে আজ ৬৪ বছরে পা দিতেন তিনি। ১৯৬২ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন সংগীতের এই কালজয়ী পুরুষ।

​

মাত্র ৫৬ বছরের জীবনে আইয়ুব বাচ্চু বাংলা সংগীতকে যা দিয়েছেন, তা তাঁকে নিয়ে গেছে অনন্য এক উচ্চতায়। গিটার হাতে মঞ্চে তাঁর পরিবেশনা যেমন দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করত, তেমনি তাঁর কণ্ঠের গান ছুঁয়ে যেত অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়। ভক্তদের কাছে তিনি ছিলেন ‘বস’, অনেকের কাছে ‘স্যার’—আর সংগীতাঙ্গনে সর্বজনবিদিত ছিলেন ‘গিটারের জাদুকর’ হিসেবে।

​

১৯৮৩ সালে মাত্র ৬০০ টাকা সম্বল করে ঢাকায় এসেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। নিজ প্রতিভা, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা হিসেবে। ‘সোলস’সহ বিভিন্ন ব্যান্ডে বাজানোর পর ১৯৯০ সালে তিনি গড়ে তোলেন নিজের ব্যান্ড ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’, যা পরবর্তী সময়ে ‘লাভ রান্স ব্লাইন্ড’ বা সংক্ষেপে ‘এলআরবি’ (LRB) নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।

​

মূলত রক সংগীতের শিল্পী হলেও নিজেকে কখনো কোনো নির্দিষ্ট ঘরানায় আটকে রাখেননি আইয়ুব বাচ্চু। আধুনিক গান, লোকসংগীত ও চলচ্চিত্রের গানেও তিনি শ্রোতাদের বিমোহিত করেছেন। তাঁর কণ্ঠ, সুর ও গিটারের অনন্য মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয়েছে কালজয়ী অসংখ্য গান।

​

আইয়ুব বাচ্চুর সবচেয়ে বড় ভালোবাসা ছিল গিটার। তিনি এটিকে কেবল একটি বাদ্যযন্ত্র মনে করতেন না, বরং নিজের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখতেন। দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান গিটারের দোকান ঘুরে বিরল সব গিটার সংগ্রহ করা ছিল তাঁর অন্যতম আবেগ।

​

জীবনের শেষভাগে নিজের সংগ্রহে থাকা প্রিয় গিটারগুলো নিয়ে দেশব্যাপী একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। চেয়েছিলেন, তরুণ ও প্রতিভাবান গিটারবাদকেরা এসে তাঁর প্রিয় গিটারগুলো বাজাবেন। তবে সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়নের সুযোগ পাননি তিনি।

​

২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট নিজের শেষ জন্মদিন পালন করেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। স্বজন ও সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত সেই দিনেও নতুন কিছু করার স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু জন্মদিনের মাত্র দুই মাস পর, ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর হঠাৎ করেই না-ফেরার দেশে চলে যান বাংলা রকের এই প্রাণপুরুষ।
​

তিনি পরপারে পাড়ি জমালেও থেমে নেই তাঁর গান। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আজও তাঁর সুর, কণ্ঠ ও গিটারের জাদুতে বুঁদ হয়ে আছে। আইয়ুব বাচ্চু শারীরিকভাবে বেঁচে নেই, কিন্তু তাঁর সৃষ্টিতে বারবার ফিরে আসবেন এই জাদুকর।

​

এদিকে আইয়ুব বাচ্চুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর ২০টি কালজয়ী গান নতুন সংগীতায়োজনে প্রকাশ পাচ্ছে। ‘উত্তরাধিকার’ নামের বিশেষ এই অ্যালবামে দেশের আটটি উদীয়মান ব্যান্ড ও ১২ জন একক শিল্পী কণ্ঠ দিয়েছেন। অ্যালবামে স্থান পাচ্ছে—‘চলো বদলে যাই’, ‘রুপালি গিটার’, ‘নীল বেদনা’, ‘গতকাল রাতে’, ‘চাঁদ মামা’, ‘অচেনা জীবন’, ‘মাধবী’ ও ‘বাংলাদেশ’-এর মতো তুমুল জনপ্রিয় গানগুলো।

জনপ্রিয়

বাগেরহাট বিআরটিএ কার্যালয়ে দুদকের অভিযান, মিলেছে অনিয়মের তথ্য

গিটারের জাদুকর আইয়ুব বাচ্চুর জন্মবার্ষিকী আজ

আপডেট : ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
আইয়ুব বাচ্চু

​

আজ ১৬ আগস্ট, বাংলা ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী, সুরকার ও অনবদ্য গিটারবাদক আইয়ুব বাচ্চুর জন্মবার্ষিকী। জীবিত থাকলে আজ ৬৪ বছরে পা দিতেন তিনি। ১৯৬২ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন সংগীতের এই কালজয়ী পুরুষ।

​

মাত্র ৫৬ বছরের জীবনে আইয়ুব বাচ্চু বাংলা সংগীতকে যা দিয়েছেন, তা তাঁকে নিয়ে গেছে অনন্য এক উচ্চতায়। গিটার হাতে মঞ্চে তাঁর পরিবেশনা যেমন দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করত, তেমনি তাঁর কণ্ঠের গান ছুঁয়ে যেত অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়। ভক্তদের কাছে তিনি ছিলেন ‘বস’, অনেকের কাছে ‘স্যার’—আর সংগীতাঙ্গনে সর্বজনবিদিত ছিলেন ‘গিটারের জাদুকর’ হিসেবে।

​

১৯৮৩ সালে মাত্র ৬০০ টাকা সম্বল করে ঢাকায় এসেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। নিজ প্রতিভা, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা হিসেবে। ‘সোলস’সহ বিভিন্ন ব্যান্ডে বাজানোর পর ১৯৯০ সালে তিনি গড়ে তোলেন নিজের ব্যান্ড ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’, যা পরবর্তী সময়ে ‘লাভ রান্স ব্লাইন্ড’ বা সংক্ষেপে ‘এলআরবি’ (LRB) নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।

​

মূলত রক সংগীতের শিল্পী হলেও নিজেকে কখনো কোনো নির্দিষ্ট ঘরানায় আটকে রাখেননি আইয়ুব বাচ্চু। আধুনিক গান, লোকসংগীত ও চলচ্চিত্রের গানেও তিনি শ্রোতাদের বিমোহিত করেছেন। তাঁর কণ্ঠ, সুর ও গিটারের অনন্য মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয়েছে কালজয়ী অসংখ্য গান।

​

আইয়ুব বাচ্চুর সবচেয়ে বড় ভালোবাসা ছিল গিটার। তিনি এটিকে কেবল একটি বাদ্যযন্ত্র মনে করতেন না, বরং নিজের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখতেন। দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান গিটারের দোকান ঘুরে বিরল সব গিটার সংগ্রহ করা ছিল তাঁর অন্যতম আবেগ।

​

জীবনের শেষভাগে নিজের সংগ্রহে থাকা প্রিয় গিটারগুলো নিয়ে দেশব্যাপী একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। চেয়েছিলেন, তরুণ ও প্রতিভাবান গিটারবাদকেরা এসে তাঁর প্রিয় গিটারগুলো বাজাবেন। তবে সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়নের সুযোগ পাননি তিনি।

​

২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট নিজের শেষ জন্মদিন পালন করেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। স্বজন ও সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত সেই দিনেও নতুন কিছু করার স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু জন্মদিনের মাত্র দুই মাস পর, ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর হঠাৎ করেই না-ফেরার দেশে চলে যান বাংলা রকের এই প্রাণপুরুষ।
​

তিনি পরপারে পাড়ি জমালেও থেমে নেই তাঁর গান। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আজও তাঁর সুর, কণ্ঠ ও গিটারের জাদুতে বুঁদ হয়ে আছে। আইয়ুব বাচ্চু শারীরিকভাবে বেঁচে নেই, কিন্তু তাঁর সৃষ্টিতে বারবার ফিরে আসবেন এই জাদুকর।

​

এদিকে আইয়ুব বাচ্চুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর ২০টি কালজয়ী গান নতুন সংগীতায়োজনে প্রকাশ পাচ্ছে। ‘উত্তরাধিকার’ নামের বিশেষ এই অ্যালবামে দেশের আটটি উদীয়মান ব্যান্ড ও ১২ জন একক শিল্পী কণ্ঠ দিয়েছেন। অ্যালবামে স্থান পাচ্ছে—‘চলো বদলে যাই’, ‘রুপালি গিটার’, ‘নীল বেদনা’, ‘গতকাল রাতে’, ‘চাঁদ মামা’, ‘অচেনা জীবন’, ‘মাধবী’ ও ‘বাংলাদেশ’-এর মতো তুমুল জনপ্রিয় গানগুলো।