ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
বাগেরহাট বিআরটিএ কার্যালয়ে দুদকের অভিযান, মিলেছে অনিয়মের তথ্য তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় মোংলায় কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবি অর্থাভাবে অনিশ্চিত এসএসসি, শুভকে সহায়তা করল এবিজি ফাউন্ডেশন মোরেলগঞ্জে খাল থেকে উদ্ধার মরদেহের পরিচয় মিলেছে, নিহত কিশোর মফিজুল পিরোজপুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‍্যালি ও সমাবেশ যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে জলঢাকার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের পরিচিতি ও মতবিনিময় পিরোজপুরে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেশে ফিরে নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা আনসার-ভিডিপি একাডেমি পরিদর্শনে চার বন্ধুপ্রতিম দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল; বৈশ্বিক কর্মসংস্থানে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত

এক মিনিটের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্প, ব্যাপক হতাহতের শঙ্কা

সংগৃহীত ছবি

 

এক মিনিটের ব্যবধানে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হেনেছে দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প দুটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.২ এবং ৭.৫। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এই জোড়া ভূমিকম্পে দেশটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

​

ইউএসজিএস-এর তথ্যমতে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয়। ৭.২ মাত্রার এই প্রথম ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল দেশটির ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে শহর। এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পর আরও একটি শক্তিশালী ভূকম্পন আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল ৭.৫। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভেনেজুয়েলার ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।

​

ইউএসজিএস তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং নিহতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ। ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসের পালোস গ্রান্দেস এবং আল্তামিরা সহ বেশ কিছু এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়েছে। ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের সাহায্যের জন্য আকুল আবেদন জানাতে দেখা গেছে। শহরের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

​

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার তদারকির জন্য একজন জেনারেলকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন।

​

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মাদক পাচারের অভিযোগে মার্কিন বাহিনী আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করছেন। ভাষণে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানালেও এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেননি।

 

​প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দেশের ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা আপাতত বন্ধ থাকবে। এছাড়া চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর জন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। কারাকাসের উপকণ্ঠে অবস্থিত মাইকুয়েতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ছাদের একাংশ ধসে পড়ায় বিমানবন্দরটির কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

​

ভেনেজুয়েলার ত্রুহিয়ো, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, আরাগুয়া, মিরান্দা এবং লা গুইরা অঞ্চলে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। প্রথম কম্পনটি যখন আঘাত হানে, তখন সাধারণত রাস্তায় তীব্র যানজট থাকার কথা। তবে ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সিমন বলিভারের ঐতিহাসিক ‘কারাবোবো যুদ্ধ’ জয়ের স্মরণে জাতীয় ছুটি থাকায়, সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় বেশিরভাগ মানুষ নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন।

​

ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে বড় ভূমিকম্পের আঘাত এটাই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৬৭ সালে কারাকাসে এক ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সে সময়ও পালোস গ্রান্দেস এবং আল্তামিরা নামক দুটি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং বুধবারেও এই দুটি এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৬৭ সালের মতোই এবারও বাসিন্দারা একাধিকবার আফটারশক বা কম্পন অনুভব করার কথা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

বাগেরহাট বিআরটিএ কার্যালয়ে দুদকের অভিযান, মিলেছে অনিয়মের তথ্য

এক মিনিটের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্প, ব্যাপক হতাহতের শঙ্কা

আপডেট : ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

 

এক মিনিটের ব্যবধানে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হেনেছে দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প দুটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.২ এবং ৭.৫। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এই জোড়া ভূমিকম্পে দেশটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

​

ইউএসজিএস-এর তথ্যমতে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয়। ৭.২ মাত্রার এই প্রথম ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল দেশটির ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে শহর। এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পর আরও একটি শক্তিশালী ভূকম্পন আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল ৭.৫। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভেনেজুয়েলার ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।

​

ইউএসজিএস তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং নিহতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ। ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসের পালোস গ্রান্দেস এবং আল্তামিরা সহ বেশ কিছু এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়েছে। ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের সাহায্যের জন্য আকুল আবেদন জানাতে দেখা গেছে। শহরের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

​

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার তদারকির জন্য একজন জেনারেলকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন।

​

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মাদক পাচারের অভিযোগে মার্কিন বাহিনী আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করছেন। ভাষণে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানালেও এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেননি।

 

​প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দেশের ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা আপাতত বন্ধ থাকবে। এছাড়া চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর জন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। কারাকাসের উপকণ্ঠে অবস্থিত মাইকুয়েতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ছাদের একাংশ ধসে পড়ায় বিমানবন্দরটির কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

​

ভেনেজুয়েলার ত্রুহিয়ো, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, আরাগুয়া, মিরান্দা এবং লা গুইরা অঞ্চলে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। প্রথম কম্পনটি যখন আঘাত হানে, তখন সাধারণত রাস্তায় তীব্র যানজট থাকার কথা। তবে ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সিমন বলিভারের ঐতিহাসিক ‘কারাবোবো যুদ্ধ’ জয়ের স্মরণে জাতীয় ছুটি থাকায়, সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় বেশিরভাগ মানুষ নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন।

​

ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে বড় ভূমিকম্পের আঘাত এটাই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৬৭ সালে কারাকাসে এক ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সে সময়ও পালোস গ্রান্দেস এবং আল্তামিরা নামক দুটি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং বুধবারেও এই দুটি এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৬৭ সালের মতোই এবারও বাসিন্দারা একাধিকবার আফটারশক বা কম্পন অনুভব করার কথা জানিয়েছেন।