টেকনাফ সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে সশস্ত্র রোহিঙ্গা চক্রের গুলিবর্ষণ ও রহস্যজনক নৌকা ডুবির ঘটনায় দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে হ্নীলা ইউনিয়নের সুলিশপাড়া-কাব্যিক চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্র জানায়, বিকেল পৌনে ৬টার দিকে নাফ নদীর কাব্যিক চর সংলগ্ন এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিকে বহনকারী একটি নৌকা সুলিশপাড়া বেড়িবাঁধের দিকে আসছিল। এ সময় অপর একটি নৌকায় থাকা তিন সদস্যের একটি সশস্ত্র রোহিঙ্গা দল তাদের ধাওয়া করে এবং থামানোর উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি নদীতে ঝাঁপ দেন।
খবর পেয়ে হ্নীলা বিওপির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা নদীর ভেতরের দিকে সরে যায়। পরে নদীতে ভাসমান অবস্থায় দুই রোহিঙ্গাকে আটক করে বিজিবি সদস্যরা।
বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সময় ঈদ উপলক্ষে বেড়িবাঁধ এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্থান করছিলেন। বেসামরিক লোকজনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা গুলি চালানো হয়নি। তবে পরে হামলাকারীদের ধাওয়া করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বিজিবি। এতে সশস্ত্র দলটি চর কাব্যিকের দিকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার পর আটক হওয়া ব্যক্তিদের নৌকা থেকে কিছু মালামাল অপর নৌকায় স্থানান্তর করা হয়। এরপর নৌকাটি নদীর মাঝামাঝি নিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মাদক-সংশ্লিষ্ট কোনো বিরোধ বা ছিনতাইয়ের ঘটনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আটকরা হলেন– কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা ইমাম হোসেন (২৫) এবং জোহা ক্যাম্প-৪-এর বাসিন্দা নুরুল আমিন (২৩)।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।”
এদিকে নাফ নদীতে সশস্ত্র চক্রের এমন প্রকাশ্য তৎপরতায় স্থানীয় জেলে ও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদীপথে টহল ও নজরদারি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ফরহাদ রহমান, টেকনাফ প্রতিনিধিঃ 



















