জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টার মামলায় যুব মহিলা লীগের নেত্রী শিল্পী বেগমকে আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) হাজির করা হয় ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। দেড় মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে আদালতে আসেন তিনি।
উভয়পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি নিয়ে অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন। কোলে শিশু নিয়ে শিল্পী বেগমের কান্নারত ছবি সম্বলিত খবর আসে গণমাধ্যমে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। মানবিক বিবেচনায় সন্ধ্যায় শিল্পী বেগমের জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।
শিল্পী বেগমের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আশা করছি, আগামীকাল তারা কারামুক্ত হবেন।’
আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুরের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পী বেগম। আদালতে এ সময় শিল্পীর স্বামী রহিম হোসেন সোহাগ, বোন, ননদ, খালাসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
তারা বলছিলেন, গত ৪ মার্চ একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ানের মাধ্যমে শিল্পী বেগম কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটি মাতৃদুগ্ধ পান করে। এছাড়া বাথরুমে পড়ে শিল্পী বেগমের বাম হাত ভেঙে গেছে। শিশু সন্তানটিকে ঠিকমত কোলেও নিতে পারে না। শিল্পী বেগমকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলতে থাকেন, ‘সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমত খাওয়াতে পারি না। কারাগারে গেলে আমার বাচ্চাটা মরে যাবে। আমার হাতে সমস্যা, বাচ্চা পালতে পারি না। ওকে আমি আমার সাথে নেব না।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতির কারণে আমার এ অবস্থা, রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে।’ পরে শিশু সন্তানসহ শিল্পী বেগমকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে থাকেন পুলিশ সদস্যরা।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল। সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। সেখানে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী তাদের আক্রমণ করেন। ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় ১২০/১৩০ জন ওই শিক্ষার্থীর তেজগাঁওয়ের বাসায় হামলা চালান। পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে ও তিন লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান আসামিরা। গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০৩ জনের বিরুদ্ধে রাতুলের মা শাহনুর খানম তেজগাঁও থানায় এ মামলাটি করেন।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 

















