বাংলা নববর্ষের আবহে রাজধানীতে উৎসব, সংস্কৃতি আর মানবতার এক অনন্য মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল নগরবাসী। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ২ বৈশাখ উপলক্ষে এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বৈশাখী বর্ষবরণ আনন্দ আয়োজন, যেখানে আলোচনা সভা, গুণীজন সম্মাননা এবং নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ—সব মিলিয়ে দিনটি রূপ নেয় এক বহুমাত্রিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক আয়োজনে।
রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই জমে ওঠে অনুষ্ঠানের পরিবেশ। বর্ণিল সাজসজ্জা, উৎসবের আমেজ আর অংশগ্রহণকারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে করে তোলে প্রাণচঞ্চল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল মিয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, “সাংবাদিক সমাজের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস সময়ের দাবি।” এ প্রেক্ষাপটে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রেসক্লাব ইউনিটি-র আত্মপ্রকাশ বিশেষ গুরুত্ব পায়।
একই মঞ্চে গঠিত হয় একাধিক সংগঠনের সমন্বয়ে নতুন নেতৃত্ব কাঠামো। এতে তথ্যবাংলা ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ল্ড মিডিয়া ক্লাব এবং আয়োজক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ ঘোষণা করা হয়। এতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান মোঃ দুলাল মিয়া, সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত হন নূরুন্নাহার, এবং কার্যকরী সদস্য হিসেবে যুক্ত হন মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া।
ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২৫ সদস্যের কার্যকরী পরিষদের পাশাপাশি জেলা-উপজেলা সমন্বয়কদের অন্তর্ভুক্ত করে ১২৫ সদস্যের বিস্তৃত কাঠামো গড়ে তোলা হয়। এছাড়া ৭ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের নামও ঘোষণা করা হয়, যা ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল গুণীজন সম্মাননা প্রদান। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় পুলিশ কর্মকর্তা, সমাজসেবকসহ মোট ২৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে মানবাধিকার সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। আয়োজকদের ভাষায়, “মানবতার পক্ষে যারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের স্বীকৃতি দেওয়া এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।”
সবশেষে হোসাইনিয়া পাক দরবার শরীফ-এর তত্ত্বাবধানে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সার্বিক কল্যাণ কামনায় মিলাদ ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি ফেরদাউস খান।
উৎসবের আনন্দ, মানবতার বার্তা এবং সংগঠিত উদ্যোগ—এই তিনের সমন্বয়ে রাজধানীর এই বৈশাখী আয়োজন যেন নতুন প্রত্যয়ের কথাই বলছে। আয়োজকদের আশা, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।

মোঃ আনজার শাহ 


















