ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার মানবপাচার প্রতিরোধ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জোর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে IOM-এর নবনিযুক্ত মিশন প্রধানের সাক্ষাৎ সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে: বরিশালে তথ্যমন্ত্রী টেকনাফের হোয়াইক্যং প্রাইভেটকারের বাম্পারে ১ লাখ ৬ হাজার ইয়াবা, আটক ১ পিরোজপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত একরাম হত্যা মামলা: র‍্যাবের সাবেক অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার মিফতাহ সেনা হেফাজতে গঠনমূলক সমালোচনা ও ইতিবাচক কাজ তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী ক্লিনিক সিলগালার পর এবার মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

কবরবাসীর জন্য চোখের জলে দোয়া — বরুড়ার পশ্চিম পদুয়ারপাড়ে ঈদের ভিন্ন আবেগ

 

ঈদুল ফিতরের আনন্দ-উৎসবের মাঝেও এক গভীর আবেগের দৃশ্য রচিত হলো কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পশ্চিম পদুয়ারপাড় গ্রামে। আজ শনিবার (২১ মার্চ) সকালে বাইতুল আমান জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে গ্রামবাসী ছুটে যান ঈদগাহ-সংলগ্ন কবরস্থানে। সেখানে তাঁরা তাদের প্রয়াত পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং কবরবাসী আত্মীয়-স্বজনদের রুহের মাগফেরাত কামনায় প্রাণভরে দোয়া করেন। অনেকের চোখে তখন অশ্রু, ঠোঁটে মোনাজাত — এক অসাধারণ আবেগময় মুহূর্তে পরিণত হয় ঈদের সকাল।

 

ঈদের নতুন পোশাকে সজ্জিত গ্রামের মানুষেরা নামাজ শেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কবরস্থানের দিকে এগিয়ে যান। কেউ ফুল হাতে, কেউ তসবি হাতে — সকলেই এক মনে দোয়ায় মশগুল। যে মানুষগুলো একদিন এই গ্রামেরই ঈদের আনন্দে অংশ নিয়েছিলেন, আজ তাঁদের স্মৃতিতে চোখ ভেজে ওঠে জীবিতদের। এই দৃশ্য যেন এক কথায় মনে করিয়ে দেয় — ঈদের আনন্দ শুধু জীবিতদের জন্য নয়, প্রয়াত স্বজনদের জন্যও হৃদয়ে একটু জায়গা রাখা চাই।

 

গ্রামের বাসিন্দা ডাঃ আবুল বাশার বলেন, এটি তাদের বংশপরম্পরায় চলে আসা একটি সুন্দর রীতি। প্রতি বছর ঈদের নামাজ শেষে গ্রামের সবাই মিলে কবরস্থানে গিয়ে প্রয়াত স্বজনদের জন্য দোয়া করেন। এই ঐতিহ্য তাদের পারস্পরিক বন্ধনকে আরও মজবুত করে এবং পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়।

 

কবরে দোয়া শেষে গ্রামবাসী একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান, বুকে জড়িয়ে ধরেন। ছোট-বড়, ধনী-গরিব সকলে মিলে হাসি-খুশিতে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন। গ্রামের অলিগলিতে তখন শুধু কোলাকুলি আর প্রাণোচ্ছল কথার রেশ। শিশুরা ছোটাছুটি করছে, বয়োজ্যেষ্ঠরা বসে আছেন উঠানে — পুরো পশ্চিম পদুয়ারপাড় যেন এক পারিবারিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

 

এই গ্রামের এই চিরায়ত ঐতিহ্য আজকের যান্ত্রিক জীবনে এক অনন্য উদাহরণ। যেখানে ঈদের আনন্দ কেবল ভোগ-উপভোগে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রয়াত মানুষদের স্মরণ করে, তাদের জন্য দোয়া করে ঈদকে আরও অর্থবহ করে তোলা হয়।

 

পশ্চিম পদুয়ারপাড়ের এই মানবিক ও আবেগময় ঈদ উদযাপন সত্যিকার অর্থেই ইসলামের সেই শিক্ষাকে ধারণ করে — যেখানে জীবিত ও মৃত উভয়ের জন্যই রয়েছে ভালোবাসা, দোয়া এবং হৃদয়ের উষ্ণতা।

জনপ্রিয়

পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

কবরবাসীর জন্য চোখের জলে দোয়া — বরুড়ার পশ্চিম পদুয়ারপাড়ে ঈদের ভিন্ন আবেগ

আপডেট : ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

 

ঈদুল ফিতরের আনন্দ-উৎসবের মাঝেও এক গভীর আবেগের দৃশ্য রচিত হলো কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পশ্চিম পদুয়ারপাড় গ্রামে। আজ শনিবার (২১ মার্চ) সকালে বাইতুল আমান জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে গ্রামবাসী ছুটে যান ঈদগাহ-সংলগ্ন কবরস্থানে। সেখানে তাঁরা তাদের প্রয়াত পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং কবরবাসী আত্মীয়-স্বজনদের রুহের মাগফেরাত কামনায় প্রাণভরে দোয়া করেন। অনেকের চোখে তখন অশ্রু, ঠোঁটে মোনাজাত — এক অসাধারণ আবেগময় মুহূর্তে পরিণত হয় ঈদের সকাল।

 

ঈদের নতুন পোশাকে সজ্জিত গ্রামের মানুষেরা নামাজ শেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কবরস্থানের দিকে এগিয়ে যান। কেউ ফুল হাতে, কেউ তসবি হাতে — সকলেই এক মনে দোয়ায় মশগুল। যে মানুষগুলো একদিন এই গ্রামেরই ঈদের আনন্দে অংশ নিয়েছিলেন, আজ তাঁদের স্মৃতিতে চোখ ভেজে ওঠে জীবিতদের। এই দৃশ্য যেন এক কথায় মনে করিয়ে দেয় — ঈদের আনন্দ শুধু জীবিতদের জন্য নয়, প্রয়াত স্বজনদের জন্যও হৃদয়ে একটু জায়গা রাখা চাই।

 

গ্রামের বাসিন্দা ডাঃ আবুল বাশার বলেন, এটি তাদের বংশপরম্পরায় চলে আসা একটি সুন্দর রীতি। প্রতি বছর ঈদের নামাজ শেষে গ্রামের সবাই মিলে কবরস্থানে গিয়ে প্রয়াত স্বজনদের জন্য দোয়া করেন। এই ঐতিহ্য তাদের পারস্পরিক বন্ধনকে আরও মজবুত করে এবং পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়।

 

কবরে দোয়া শেষে গ্রামবাসী একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান, বুকে জড়িয়ে ধরেন। ছোট-বড়, ধনী-গরিব সকলে মিলে হাসি-খুশিতে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন। গ্রামের অলিগলিতে তখন শুধু কোলাকুলি আর প্রাণোচ্ছল কথার রেশ। শিশুরা ছোটাছুটি করছে, বয়োজ্যেষ্ঠরা বসে আছেন উঠানে — পুরো পশ্চিম পদুয়ারপাড় যেন এক পারিবারিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

 

এই গ্রামের এই চিরায়ত ঐতিহ্য আজকের যান্ত্রিক জীবনে এক অনন্য উদাহরণ। যেখানে ঈদের আনন্দ কেবল ভোগ-উপভোগে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রয়াত মানুষদের স্মরণ করে, তাদের জন্য দোয়া করে ঈদকে আরও অর্থবহ করে তোলা হয়।

 

পশ্চিম পদুয়ারপাড়ের এই মানবিক ও আবেগময় ঈদ উদযাপন সত্যিকার অর্থেই ইসলামের সেই শিক্ষাকে ধারণ করে — যেখানে জীবিত ও মৃত উভয়ের জন্যই রয়েছে ভালোবাসা, দোয়া এবং হৃদয়ের উষ্ণতা।