পবিত্র রমজানের এক অনন্য সন্ধ্যায় কলম ও ক্যামেরার যোদ্ধারা একত্রিত হলেন এক দস্তরখানে। ভেদাভেদ ভুলে, পদমর্যাদার দূরত্ব মুছে দিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইফতারের আসরে বসলেন কুমিল্লায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনটি শুধু একটি ইফতার মাহফিল নয় — এটি ছিল কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজের ঐক্য ও সংহতির এক উজ্জ্বল ঘোষণা।
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের কমিউনিটি সেন্টারে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে কুমিল্লার পাঁচটি সাংবাদিক সংগঠন — কুমিল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব, কুমিল্লা ইয়ুথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, কুমিল্লা জার্নালিস্ট ইউনিয়ন, কুমিল্লা ফটোসাংবাদিক ফোরাম এবং কুমিল্লা স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। জেলায় কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার শতাধিক সাংবাদিক এই আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ইফতারের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা রক্ষা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে সোচ্চার কণ্ঠে কথা বলেন। রমজানের পবিত্র আবহে এই একত্রিত হওয়াকে তাঁরা কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং একটি পেশাদার পরিবারের পুনর্মিলন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফারুক বলেন, “সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয় — এটি একটি দায়িত্ব, একটি প্রতিশ্রুতি। যাঁরা প্রতিদিন নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে সত্যের পক্ষে কলম ধরছেন, তাঁদের প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা। পবিত্র রমজান মাসে একসাথে ইফতার করার এই সুযোগ আমাদের পেশাদার সম্পর্কের পাশাপাশি মানবিক বন্ধনকেও আরও গভীর করবে। কুমিল্লার সাংবাদিকরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন — এই বিশ্বাস আমার অটল।”
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ বলেন, “পাঁচটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আজকের এই আয়োজন আমাদের সকলের হৃদয়কে স্পর্শ করেছে। এটি প্রমাণ করে — বিভেদ নয়, ঐক্যই আমাদের শক্তি। আমরা চাই, রমজানের এই সৌহার্দ্যের উত্তাপ সারাবছর আমাদের মাঝে বহমান থাকুক। সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার আদায়ে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় আমরা সবসময় একটি কণ্ঠে কথা বলব — এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”
পাঁচটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বলেন, সাংবাদিকতার এই কঠিন যাত্রায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমর্থনই পারে এই পেশাকে আরও মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে। তাঁরা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পেশাগত মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
ইফতারের পূর্বমুহূর্তে আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সাংবাদিক সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ কামনা করা হয়। তারপর একসাথে ইফতারের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই হৃদয়ছোঁয়া আয়োজন।
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর এই সন্ধ্যাটি কুমিল্লার সাংবাদিক পরিবারের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন অম্লান হয়ে থাকবে — যেখানে একটি দস্তরখান হয়ে উঠেছিল ঐক্যের প্রতীক, একটি ইফতার হয়ে উঠেছিল সংহতির ঘোষণাপত্র।

মোঃ আনজার শাহ, স্টাফ রিপোর্টারঃ 



















