ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
হামের টিকা সংকটে ইউনূস সরকারের ভূমিকা তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন তারেক রহমানের মোংলা সফর: জেটি নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর পিরোজপুরে চেরাগ গ্রন্থাগারের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ শহীদ জিয়ার শিক্ষাদর্শন ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরীর টেকনাফে এসআরবি-১৫-এর অভিযানে ১১ লাখ ইয়াবা ও ৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২ মোরেলগঞ্জে কৃষক দল নেতা জয়নাল আবেদিনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ, বাংলাদেশের প্রতি এইচআরডব্লিউর সতর্কবার্তা সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক কাল বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (র.) মাজার জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করা সেই সচিব মসিউর রহমানকে জনপ্রশাসনে ন্যস্ত

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আপন দুই ভাইসহ নিহত ৩

সংগৃহীত ছবি

 

মাদারীপুরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাইফুল সরদার (৪০) ও আতাউর সরদার (৩৫) নামে আপন দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আহত ৩ জনের মধ্যে পলাশ সরদার নামে একজনকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিহত আতাউর ও তার স্বজনদের বেশ কয়েকটি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

শনিবার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে মাদারীপুরের সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে এসব ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন আজিবর সরদারের ছেলে সাইফুল সরদার। বিগত সরকারের সময় এলাকায় সাইফুলের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। সেই প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তিনি। এমনকি স্থানীয় চেয়ারম্যানকেও পাত্তা দিতেন না। বৈধ-অবৈধ সব ধরনের ব্যবসা ও কারবার ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। এতে ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় অনেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন সাইফুলের ওপর।

 

আওয়ামী সরকার পতনের পরও সব কারবার নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন সাইফুল। এতে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ান একই এলাকার শাজাহান ও ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল মোল্লা। সাইফুল, শাজাহান এবং চেয়ারম্যান জয়নাল মোল্লা গ্রুপের সঙ্গে মাঝে মাঝে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো। এছাড়া কিছুদিন আগেও ড্রেজারের পাইপ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

এরই জেরে আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খোয়াজপুর সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সামনে একা পেয়ে সাইফুলের ওপর হামলা চালায় শাজাহানের লোকজন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সাইফুলের বড়ভাই আতাউর ও চাচাতো ভাই অলিল এবং প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসে। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বাঁচতে সাইফুল ও আতাউর পাশের মসজিদে ঢুকে পড়ে। তবে প্রতিপক্ষের লোকজন মসজিদে ঢুকে দুভাইকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এ সময় ওই দুজনকে বাঁচাতে গিয়ে চাচাতো ভাই অলিল সরদার, প্রতিবেশি মুজাম সরদারের ছেলে পলাশ সরদার, আজিজুল হকের ছেলে তাজেল সরদারও প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে গুরুতর আহত হয়।

 

নিহতদের মা সুফিয়া বেগম বলেন, হোসেন সরদার ও শাজাহান খা এর লোকজন আমার দুই ছেলেকে হত্যা করেছে। আরেক ছেলের অবস্থাও গুরুতর। এই হত্যার বিচার চাই।

 

এরপর হামলাকারীরা আতাউর ও সাইফুলের বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠান। পরে ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। ঢাকা যাওয়ার পথে পলাশের মৃত্যু হয়।

 

 

নিহত পলাশ সরদারের চাচাত ভাই জাফর সর্দার বলেন, মারামারির ঘটনা দেখতে গিয়ে পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন পলাশ। পলাশ কোন পক্ষের নয়।

 

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আতাউর ও সাইফুলের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে পাঠিয়েছে।

 

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকছেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাহিদা আক্তার বলেন, হাসপাতালে দুজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। এ ঘটনায় আহত আরও ৩ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

নিহতদের বোন হাফিজা বেগম বলেন, আমাদের সব শেষ করে দিল। আমাদের বংশ শেষ করে দিল। আল্লাহর ঘরে লুকিয়েও আমরা ভাইরা রক্ষা পেল না। তাদের আল্লাহর ঘর মসজিদের ভেতর থেকে বের করে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের বিচার আল্লাহই করবেন। হোসেন সরদার ও শাজাহান খা এর লোকজন আমাদের সব শেষ করে দিল।

 

 

মাদারীপুরের অতিরিক্ত সুপার চাতক চাকমা জানান, সংঘর্ষের পর নিহতদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

 

এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

জনপ্রিয়

হামের টিকা সংকটে ইউনূস সরকারের ভূমিকা তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আপন দুই ভাইসহ নিহত ৩

আপডেট : ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫
সংগৃহীত ছবি

 

মাদারীপুরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাইফুল সরদার (৪০) ও আতাউর সরদার (৩৫) নামে আপন দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আহত ৩ জনের মধ্যে পলাশ সরদার নামে একজনকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিহত আতাউর ও তার স্বজনদের বেশ কয়েকটি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

শনিবার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে মাদারীপুরের সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে এসব ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন আজিবর সরদারের ছেলে সাইফুল সরদার। বিগত সরকারের সময় এলাকায় সাইফুলের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। সেই প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তিনি। এমনকি স্থানীয় চেয়ারম্যানকেও পাত্তা দিতেন না। বৈধ-অবৈধ সব ধরনের ব্যবসা ও কারবার ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। এতে ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় অনেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন সাইফুলের ওপর।

 

আওয়ামী সরকার পতনের পরও সব কারবার নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন সাইফুল। এতে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ান একই এলাকার শাজাহান ও ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল মোল্লা। সাইফুল, শাজাহান এবং চেয়ারম্যান জয়নাল মোল্লা গ্রুপের সঙ্গে মাঝে মাঝে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো। এছাড়া কিছুদিন আগেও ড্রেজারের পাইপ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

এরই জেরে আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খোয়াজপুর সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সামনে একা পেয়ে সাইফুলের ওপর হামলা চালায় শাজাহানের লোকজন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সাইফুলের বড়ভাই আতাউর ও চাচাতো ভাই অলিল এবং প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসে। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বাঁচতে সাইফুল ও আতাউর পাশের মসজিদে ঢুকে পড়ে। তবে প্রতিপক্ষের লোকজন মসজিদে ঢুকে দুভাইকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এ সময় ওই দুজনকে বাঁচাতে গিয়ে চাচাতো ভাই অলিল সরদার, প্রতিবেশি মুজাম সরদারের ছেলে পলাশ সরদার, আজিজুল হকের ছেলে তাজেল সরদারও প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে গুরুতর আহত হয়।

 

নিহতদের মা সুফিয়া বেগম বলেন, হোসেন সরদার ও শাজাহান খা এর লোকজন আমার দুই ছেলেকে হত্যা করেছে। আরেক ছেলের অবস্থাও গুরুতর। এই হত্যার বিচার চাই।

 

এরপর হামলাকারীরা আতাউর ও সাইফুলের বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠান। পরে ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। ঢাকা যাওয়ার পথে পলাশের মৃত্যু হয়।

 

 

নিহত পলাশ সরদারের চাচাত ভাই জাফর সর্দার বলেন, মারামারির ঘটনা দেখতে গিয়ে পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন পলাশ। পলাশ কোন পক্ষের নয়।

 

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আতাউর ও সাইফুলের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে পাঠিয়েছে।

 

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকছেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাহিদা আক্তার বলেন, হাসপাতালে দুজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। এ ঘটনায় আহত আরও ৩ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

নিহতদের বোন হাফিজা বেগম বলেন, আমাদের সব শেষ করে দিল। আমাদের বংশ শেষ করে দিল। আল্লাহর ঘরে লুকিয়েও আমরা ভাইরা রক্ষা পেল না। তাদের আল্লাহর ঘর মসজিদের ভেতর থেকে বের করে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের বিচার আল্লাহই করবেন। হোসেন সরদার ও শাজাহান খা এর লোকজন আমাদের সব শেষ করে দিল।

 

 

মাদারীপুরের অতিরিক্ত সুপার চাতক চাকমা জানান, সংঘর্ষের পর নিহতদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

 

এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।