সংগৃহীত ছবি
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের ফলে প্রায় ৫৩ বছরের পারিবারিক শাসনের অবসান ঘটেছে সিরিয়ায়। রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে সিরিয়ার কর্তৃত্ববাদী শাসক বাশার আল আসাদ বিদ্রোহীদের কাছে পরাজিত হয়ে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে অবশেষে দেশ ছেড়েছেন।
বিদ্রোহী যোদ্ধারা তৃতীয় বৃহত্তম শহর হোমস দখলের পর কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই দামেস্কে ঢুকে পড়েন। এরপর কয়েক ঘণ্টা না যেতেই তারা আসাদ সরকারের পতন ঘোষণা করেন। খবর রয়টার্স, এএফপি, আলজাজিরার, বিবিসি।
বাশার আল আসাদ শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ভাষণ তিনি আর দিতে পারেননি। এরপর রোববার সকালে দেশ ছাড়তে হয় টানা ২৪ বছর ক্ষমতায় থাকা বাশারকে।
বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স জানিয়েছে, ইসলামপন্থি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল শাম (এইচটিএস) দামেস্ক দখলের ঘোষণার মুখে পালিয়ে গেছেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। তিনি সিরিয়া থেকে পালিয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরাসহ তিনি মস্কোয় অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস ও রিয়া নভস্তির বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মস্কোয় পৌঁছেছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে রাশিয়া তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে।
এ বিষয়ে লন্ডনভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ছেড়ে গেছে। এতে বাশার আল আসাদ থাকতে পারেন। উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের পর বিমানবন্দর থেকে সেনা সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘাতে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর বেশ কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনার পরই সিরিয়া ছেড়েছেন বাশার আল আসাদ। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সিরিয়ার সব বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তিনি সিরিয়ার বিজয়ীদের সব জাতি ও সম্প্রদায়ের মতামতকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বাশার আল আসাদের ব্রিটিশ-সিরীয় স্ত্রী আসমা আসাদ এবং তাদের তিন সন্তান আগেই সিরিয়া ছেড়েছেন। সন্তানদের নিয়ে আসমা নভেম্বরের শেষদিকে রাশিয়ায় চলে যান। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তরের বরাতে মে মাসে রয়টার্স জানিয়েছিল, ৪৮ বছর বয়সি আসমার লিউকেমিয়া (রক্ত বা অস্থিমজ্জার ক্যানসার) শনাক্ত হয়েছে। এ কারণে তিনি জনসমক্ষে কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন।
বাশার আল আসাদ টানা ২৪ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। এর আগে তার বাবা হাফিজ আল আসাদ টানা ২৯ বছর সিরিয়া শাসন করেন। বাশার আল আসাদের পালানোর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় ৫৩ বছরের আল আসাদ পরিবারের শাসনের অবসান হলো।
বাশার আল আসাদ পালানোর পর বিদ্রোহী গোষ্ঠী সিরিয়াকে ‘মুক্ত’ ঘোষণা করেছে। তারা জানিয়েছে, স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ দেশ ত্যাগ করেছেন।
এইচটিএস রোববার টেলিগ্রাম বার্তায় জানিয়েছে, ‘বাথ শাসনের অধীনে ৫০ বছরের নিপীড়নের পরে, ১৩ বছরের অপরাধ ও অত্যাচার, (জোর করে) বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর আমরা আজ এই অন্ধকার সময়ের অবসান এবং সিরিয়ার জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা ঘোষণা করছি।’
বিদ্রোহীরা বলেছেন, আসাদের শাসনের অর্ধশতাব্দী যারা বাস্তুচ্যুত বা বন্দি হয়েছিলেন, তারা এখন ঘরে ফিরতে পারবেন। এইচটিএস বলেছে, এটি হবে একটি ‘নতুন সিরিয়া’, যেখানে ‘সবাই শান্তিতে বসবাস করবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, রেডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এইচটিএস। সিরিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সামরিক বাহিনীকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এইচটিএস প্রধান আবু মোহাম্মেদ আল জোলানি। তিনি বলেছেন, দামেস্কে অবস্থানরত সব বিরোধী বাহিনীকে সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করতে নিষেধ করা হয়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত সিরিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী আল জালালির অধীনেই থাকবে।
আসাদ সরকারের পতনের পর হোমস থেকে সেনাবাহিনী সরে যায়। এরপরই হাজারো বাসিন্দা উল্লাস করতে রাস্তায় নেমে আসে।

সংবাদ360 ডেস্কঃ 



















