ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ ত্রিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সেতুটি পারাপারে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সন্তানদের নিয়ে আমি বাবার বাড়ি যেতে পারি না!

 

রূপগঞ্জের বালু নদের ওপর নির্মিত চনপাড়া-ডেমরা সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ এলজিইডি সেতুর উভয় পাশে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে সাইনবোর্ড দিয়েছে। তারপরেও ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। এতে সেতু ধসে পড়ে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। তাতে প্রাণহানির আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

 

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জের যোগাযোগের সুবিধার্থে বালু নদের ওপর ডেমরা- রূপগঞ্জ-কালীগঞ্জ সড়কের চনপাড়া এলাকায় এ সেতু নির্মিত হয়।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতু থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। সেতুর পিলার ও রেলিংয়ের রড বেরিয়ে গেছে। সেতুর পিলার ঘেঁষে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল করছে। কখনো কখনো বাল্কহেডের ধাক্কায় পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারপরেও সেতু দিয়ে এখনো ভারী যানবাহন চলাচল করছে। গাড়ি পারাপারের সময় সেতু কেঁপে উঠে। সেতুটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

 

দীর্ঘদিন ধরে সেতুর এ অবস্থা হলেও তা মেরামত কিংবা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেতুর পাশে নতুন করে আরো একটি সেতু নির্মাণ করার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা আর হয়ে উঠেনি। নদীতে চলমান ট্রলারের ধাক্কায় সেতুর চারটি পিলার, ভিম ও রেলিংয়ের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়ছে।

 

১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এলজিইডির অর্থায়নে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১১০ ফুট এবং প্রস্থ ১২ ফুট।

 

ডেমরার মীরপাড়া এলাকার গৃহবধূ ছালেহা আক্তার বলেন, সেতুর পূর্বপাড় বড়ালু গ্রামে আমার বাবার বাড়ি। সেতুটি পারাপারে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সন্তানদের নিয়ে আমি বাবার বাড়ি যেতে পারি না। সেতুটি ভেঙে যদি নদীতে পড়ে যায়, এ ভয়ে আমার সন্তানরা নানার বাড়ি যায় না।

 

২০০০ সালের দিকে সেতুতে ফাটল দেখা দেয়। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ২০১২ সালে সেতুর পিলার, র‍্যালিং ও বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করে। এলজিইডি সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সাইনবোর্ড দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে।

 

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মেহমুদ মুরশেদ উল আল আমিন বলেন, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল নিষেধ করা হয়েছে।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি গোলাম ফারুক খোকন বলেন, বালু নদের চনপাড়া-ডেমরা সেতু বিএনপি সরকার নির্মাণ করেছিল। তাই গত ১৬ বছর এটাকে কেউ মেরামত কিংবা সংস্কার করেনি। সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় রূপগঞ্জের মানুষ প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে ঢাকায় তাদের মালামাল আনা-নেওয়া করছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতু অবিলম্বে নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন।

 

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, বালু নদের চনপাড়া-ডেমরা সেতু সম্পর্কে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে অবহিত করা হচ্ছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয়

উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট

সেতুটি পারাপারে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সন্তানদের নিয়ে আমি বাবার বাড়ি যেতে পারি না!

আপডেট : ০৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪

 

রূপগঞ্জের বালু নদের ওপর নির্মিত চনপাড়া-ডেমরা সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ এলজিইডি সেতুর উভয় পাশে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে সাইনবোর্ড দিয়েছে। তারপরেও ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। এতে সেতু ধসে পড়ে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। তাতে প্রাণহানির আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

 

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জের যোগাযোগের সুবিধার্থে বালু নদের ওপর ডেমরা- রূপগঞ্জ-কালীগঞ্জ সড়কের চনপাড়া এলাকায় এ সেতু নির্মিত হয়।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতু থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। সেতুর পিলার ও রেলিংয়ের রড বেরিয়ে গেছে। সেতুর পিলার ঘেঁষে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল করছে। কখনো কখনো বাল্কহেডের ধাক্কায় পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারপরেও সেতু দিয়ে এখনো ভারী যানবাহন চলাচল করছে। গাড়ি পারাপারের সময় সেতু কেঁপে উঠে। সেতুটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

 

দীর্ঘদিন ধরে সেতুর এ অবস্থা হলেও তা মেরামত কিংবা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেতুর পাশে নতুন করে আরো একটি সেতু নির্মাণ করার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা আর হয়ে উঠেনি। নদীতে চলমান ট্রলারের ধাক্কায় সেতুর চারটি পিলার, ভিম ও রেলিংয়ের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়ছে।

 

১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এলজিইডির অর্থায়নে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১১০ ফুট এবং প্রস্থ ১২ ফুট।

 

ডেমরার মীরপাড়া এলাকার গৃহবধূ ছালেহা আক্তার বলেন, সেতুর পূর্বপাড় বড়ালু গ্রামে আমার বাবার বাড়ি। সেতুটি পারাপারে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সন্তানদের নিয়ে আমি বাবার বাড়ি যেতে পারি না। সেতুটি ভেঙে যদি নদীতে পড়ে যায়, এ ভয়ে আমার সন্তানরা নানার বাড়ি যায় না।

 

২০০০ সালের দিকে সেতুতে ফাটল দেখা দেয়। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ২০১২ সালে সেতুর পিলার, র‍্যালিং ও বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করে। এলজিইডি সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সাইনবোর্ড দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে।

 

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মেহমুদ মুরশেদ উল আল আমিন বলেন, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল নিষেধ করা হয়েছে।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি গোলাম ফারুক খোকন বলেন, বালু নদের চনপাড়া-ডেমরা সেতু বিএনপি সরকার নির্মাণ করেছিল। তাই গত ১৬ বছর এটাকে কেউ মেরামত কিংবা সংস্কার করেনি। সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় রূপগঞ্জের মানুষ প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে ঢাকায় তাদের মালামাল আনা-নেওয়া করছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতু অবিলম্বে নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন।

 

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, বালু নদের চনপাড়া-ডেমরা সেতু সম্পর্কে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে অবহিত করা হচ্ছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।