বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কমলেশ চন্দ্র রায়ের সংবাদ সম্মেলন | সংগৃহীত ছবি
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের সম্মাননা প্রত্যাখানের বিষয়ে জবাব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও বিজ্ঞান অনুষদের দুই ডিন।
শনিবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের শেষে শিক্ষার্থীদের এক দাবির জবাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম তার সম্মাননা প্রত্যাখ্যান করার ঘটনায় দুই ডিন প্রতিক্রিয়া জানান।
মঙ্গলবার (১৫অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কমলেশ চন্দ্র রায় জানান- সেদিনের ঘটনায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে এবং এর আগে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শফিকুর রহমান নাহিদের সম্মাননা প্রত্যাখান করার বিষয়টিকে নিয়ে বলেন- নাহিদের এ আচরণ শিশুসুলভ।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক কমলেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের একটি সুন্দর আলোচনা চলাকালীন প্রশ্ন উপস্থাপন করে কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমি মনে করি। এর মাধ্যমে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানহানি হয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি আমার শিক্ষকতা জীবনে অত্যন্ত অপমানজনক একটি ঘটনা।’
অধ্যাপক কমলেশ চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘বিগত সময়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা থাকলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের সময় ওই সংগঠনের সঙ্গে সকল কার্যক্রম হতে নিজেকে প্রত্যাহার করি। পাশাপাশি আমার বিভাগের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীকে যেকোনো রাজনৈতিক বিষয়ে সম্পৃক্ততার বিষয়ে সতর্ক করেছি। আমার শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ ২৩ বছরে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিলো না।’
বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয় প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন বলে আমি জানতাম। আমার সহকর্মী গণিত বিভাগের শিক্ষক ও আবু সাঈদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মশিউর রহমানের জোরাজুরিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি হয়েছিলাম।’
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শফিকুর রহমান এ ঘটনার প্রেক্ষিতে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য করে নিজের ফেসবুকে বলেন, ‘আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর সর্ব প্রথম কলা অনুষদ শোক প্রস্তাব জানিয়েছিলো। আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর কলা অনুষদের ডিন জানাজায় ছুটে গিয়েছিলো। আজকে কলা অনুষদের ডিনের দিকে আঙুল তুলে অসম্মান করা হলো। ব্যক্তি আর অনুষদের ডিন দুইটা আলাদা বিষয়।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘অনুষদের ডিনকে অসম্মান করা মানেই গোটা অনুষকে অসম্মানিত করা। আজকে কলা অনুষদকে মঞ্চে তুলে অসম্মানিত করা হয়েছে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তব্য শুনে কোনোরূপ যাচাই-বাছাই ছাড়াই উপদেষ্টা নাহিদের সম্মাননা স্মারক প্রত্যাখান করা অত্যন্ত শিশুসুলভ কাজ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা অনুষদের এই অসম্মানে আমি ভীষণ মর্মাহত।’
প্রসঙ্গত, শনিবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। একই মঞ্চে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন শফিকুর রহমান ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন কমলেশ চন্দ্র রায়কে সম্মাননা প্রদান করায় ওই ২ ডিনের বিষয়ে আপত্তি প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে নিজের সম্মাননা স্মারক প্রত্যাখ্যান করেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

সংবাদ360 প্রতিবেদক 



















