বরিশালের ১৫৮৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ব্যবহার ও সংরক্ষনের অভাবে ল্যাপটব অকেজো হয়ে পড়ায় এই অবস্থার সৃষ্ঠি হওয়ার কথা যানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কতৃপক্ষ। এসকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানান, সরবরাহের ৪ থেকে ৫ মাসের মধ্যেই সরবরাহ করা ল্যাপটব নষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। তবে জেলার কোন কোন বিদ্যালয়ের সপ্তাহে একদিন মাল্টিমিডিয়ার আওতাধীন ক্লাশ নেয়া হয় বলে দাবি করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা।
অভিযোগ রয়েছে মাল্টিমিডিয়া পদ্বতিতে সৃজনশীল পদ্বতিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের জন্য অধিদপ্তরের দেয়া ল্যাপটপ, প্রজেকটরসহ অন্যান্য সরঞ্জাদী বিদ্যালয়ে থাকলেও তা বেশির ভাগ সময় প্রশিক্ষকরা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। আর এসব দেখভালের জন্য থাকা সরকারী কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে গেলে নষ্ট বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। ফলে মাল্টিমিডিয়া পদ্বতিতে সৃজনশীল পদ্বতিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে। এ বিষয়ে সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষনাবেক্ষনের পাশাপাশি তদারকি না থাকলে সরকারের কোটি কোটি টাকার এই প্রকল্প ভেস্তে যাবে বলে দাবী শিক্ষার্থীর অবিভাবকদের।
বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যালয়
সূত্রে জানাগেছে, বরিশালের ১৫৮৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন ধাপে এই ল্যাপটপ, প্রজেকটর সহ অন্ন্যন্য সরঞ্জাদী সরবরাহ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রথম ধাপে ২০১৩, দ্বিতীয় ধাপে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সর্বশেষ এই সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে সর্ব শেষ ধাপে বরিশাল জেলার বরিশাল সদর উপজেলায় ১২৭, গৌরনদীতে ৪০, আগৈলঝাড়ায় ৪৭, বাবুগঞ্জে ৩৫, উজিরপুরে ৭৫, বানারীপাড়ায় ৪৫, হিজলায় ৫০, মুলাদীতে ৬৭, বাকেরগঞ্জে ৯৯ ও মেহেন্দিগঞ্জে ৯৪টি সরকারী প্রাধমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, প্রজেকটর সহ অন্ন্যন্য সরঞ্জাদী সরবরাহ করা হয়েছে। এর আগে বাকি সকল বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, প্রজেকটর সহ অন্ন্যন্য সরঞ্জাদী সরবরাহ করা হয়েছে। যার সবগুলোই অচল হয়ে পওে আছে বলে দাবী খোদ বিদ্যালয় প্রধানদের।
অভিবাবকরা অভিযোগ করেছেন, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ অর্থাৎ ল্যাপটপের ও প্রজেক্টর মাধ্যমে শৃজনশীল পদ্বতিতে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেন ২০১৮ সাল থেকে। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ না নিয়ে শিক্ষাদানের ঐ সব যন্ত্রপাতি অফিসের আলমারির ভিতরেই রাখায় তা এখন অকেজো হয়ে পরেছে। আর বিদ্যালয়ে অধিদপ্তরের কোন কর্তা এলেই ঐ দিনই মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ নিয়ে দেখায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে।
তবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষকরা জানিয়েছেন মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ নেওয়ার জন্য সংশ্লিস্ট ১২ থেকে ২৬ দিনের যে ট্রেনিং দেয়া হয়েছে তা শিক্ষার্র্থীদের পাঠদানের জন্য অপ্রতুল।
প্রশিক্ষরা জানিয়েছেন মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ নেওয়ার জন্য নিম্মতম ৬ মাসের ট্রেনিং প্রয়োজন।
বরিশাল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, তৎকালীন সরকার বাংলাদেশ ডিজিটাল দেশ গড়ার ঘোষনা দিয়ে ২০২৮ সালে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। সেই লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ ও প্রজেক্টরের এবং ইন্টারনেট পরিচালনার মাধ্যমে শৃজনশীল পদ্বতিতে শিক্ষাদানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ চালু করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২০১৮ সনে বরিশাল জেলার মোট একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ চালু করা হয়। আর ঐ সব বিদ্যালয়ে ৩/৪ জন শিক্ষককে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ নেওয়ার জন্য ১২ দিনের একটি প্রশিক্ষন প্রদান করা হয় যে কিভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ নেয়া হবে। পাশাপাশি ঐ সব শিক্ষকদের ট্রেনিং শেষে মাল্টিমিডিয়া আওতাধীন বিদ্যালয়ের জন্য লাপটপ, প্রজেকটর, ইন্টারনেট চালানো মডেম প্রদান করা হয়।
সরজমিনে মাল্টিমিডিয়া আওতাধীন বরিশাল নগরীর আমতলা মোড় এলাকার কিশোর মজলীস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় যাওয়া হয়। এ সময় অভিবাবকরা জানান, ল্যাপটপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ নেয়া হয় কিনা আমাদেও জানা নেই। অভিবাবকরা জানান, কোন ক্লাশ নেয়া হয় না। তবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আছসা পারভীন জানান, মাল্টিমিডিয়ার আওতায় ক্লাশ নেয়া হয় সপ্তাহে ২/৩ দিন। তিনি আরও জানান মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ নেওয়ার জন্য ১২, ১৫ ও ২৬ দিনের ট্রেনিং অপ্রতুল। আর জন্য তিনি ৬ মাসের কোর্সের দাবি জানিয়েছেন। তবে এখানকার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফিন বলেন, আমাদেও মাঝে মধ্যে প্রজেক্টরে ছবি দেখায়।
নগরীর ভাটারখাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিজা খন্দকার জানান, তাদের বিদ্যালয়ে ৪ জন শিক্ষিকা মাল্টিমিডিয়ার ক্লাশ নেয়। আর ভাটারখাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিম হোসেন বলেন, কোন দিনই এখানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেওয়া হয়নি। আমরা এই ক্লাস পাই নাই কখনও। তবে মাঝে মধ্যে ছবি দেখায়।

সাব্বির আলম বাবু 



















