ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ১৬ বছরে জনপ্রশাসন থেকে অবসরে যাওয়া সাবেক ৭৬৪ জন কর্মকর্তাকে ‘ভূতাপেক্ষ’ পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত এই পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ১১৯ জন সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মশিউর রহমান | ফাইল ছবি
রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে। সচিব ছাড়াও গ্রেড-১ (সচিবের সমান বেতন গ্রেড) পদে ৪১ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ৫২৮ জন, যুগ্ম সচিব পদে ৭২ জন ও উপসচিব পদে ৪ জনকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা এক বা একাধিক পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির তারিখ হতে বিধি মোতাবেক প্রাপ্যতা অনুযায়ী সব আর্থিক সুবিধাদি পাবেন।
কর্মকর্তারা বর্তমান অর্থবছরে তাদের বকেয়া পাওনাদির ৫০ শতাংশ প্রাপ্য হবেন। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ তারা পরবর্তী অর্থবছরে (২০২৫-২৬) পাবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বয়স ৫৭ (সাতান্ন)/৫৯ (ঊনষাট) বছরপূর্তি পর্যন্ত সর্বশেষ পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে বহাল ছিলেন বলে গণ্য হবেন। অবসর উত্তর ছুটি/অবসর প্রস্তুতি ছুটি শেষে অবসরের জন্য নির্ধারিত তারিখে সরকারি চাকরি হতে অবসরগ্রহণ করেছেন মর্মে গণ্য হবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিধি মোতাবেক তাদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতাদি পেনশন ইত্যাদি সমন্বয়পূর্বক আর্থিক সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ইতোপূর্বে জারিকৃত পিআরএল/এলপিআর আদেশ এতদ্বারা বাতিল করা হলো। বেতন নির্ধারণের সময় অবসর উত্তর ছুটি/অবসর প্রস্তুতি ছুটি সমন্বয় করতে হবে। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পদোন্নতি বঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বঞ্চনা নিরসনে গঠিত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের আমলে ২০০৯ সাল থেকে গত ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সরকারি চাকরিতে নানাভাবে বঞ্চনার শিকার এবং এ সময়ের মধ্যে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গত ১৬ সেপ্টেম্বর এ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির প্রধান ছিলেন সাবেক অর্থসচিব এবং বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের সাবেক বিকল্প নির্বাহী পরিচালক জাকির আহমেদ খান। কমিটি ১০ ডিসেম্বর তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়।

সংবাদ360 ডেস্কঃ 



















