সংগৃহীত ছবি
শিশু রামিসার মর্মান্তিক ও নির্মম পরিণতি মেনে নেওয়া কঠিন। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা যেন আর কোনো শিশুর জীবনে না ঘটে, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং শিশু সুরক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
একজন রামিসা নয় প্রতিদিন শত শত রামিসারা ঘরে বাইরে, স্কুল মাদ্রাসায় নির্যাতিত, ধর্ষিত ও খুন হচ্ছে। প্রথমত বাবা-মা এবং গার্জিয়ানের সতর্ক হওয়া উচিত। নিজের শিশুর প্রতি আরো যত্নবান হওয়া এবং নজরদারি রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে মায়েরা তার সন্তানের দিকে আরো যত্নবান হন। ছেলে শিশু হোক কিংবা মেয়ে শিশু হোক কেউই কিন্তু নিরাপদ নয়। অবশ্য আমরা অনেকে বলি আগের জামানা ভালো ছিল। মোটেও নয়। আগে হয়তো প্রচার মাধ্যম ছিল না তাই অনেক খবর খবরের পাতায় আসতো না। আবার এও ঠিক আগে আমাদের কাছে অনেক কিছুই সহজ লভ্য ছিল না।
আমার দু একটি কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে তাই কলম নিলাম বা শেয়ার করছি–
১। আমাদের নিজেদের বিবেককে জাগ্রত করা প্রয়োজন।
২। নিজের নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষাকে পরিপক্ক করা প্রয়োজন।
৩। আমাদের কেন এত অবক্ষয় হচ্ছে তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন। আমাদের মাঝে হতাশা ডিপ্রেশন বেশি তা থেকে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের অপরাধ অপকর্ম। আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন প্রয়োজন। আত্ম উন্নয়নের জন্য কাউন্সিলিং প্রয়োজন। জনস্বার্থে এ ব্যপারে সরকারি বেসরকারি যৌথ উদ্যোগেই এগিয়ে আসা দরকার।
৪। সোশ্যাল মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণে আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৫। শিশুর সুরক্ষার জন্য কোনো অ্যাপস তৈরি করা যাতে করে বাবা মা দেখতে পান তার বাচ্চাটি কোথায় যাচ্ছে বা আছে।
৬। সন্তানের জন্য নিজের বাবা-মাকে আরো সতর্ক থাকা ও যত্নবান হওয়া প্রয়োজন ।
৭। বাবা-মা এর উচিত সন্তানকে আরো বেশি বেশি সময় দেওয়া।
৮। শিশুর শরীরের প্রাইভেট পার্টগুলো বাইরের কেউ টাচ না করে সে ব্যাপারে গল্পের ছলে তাকে জানানো উচিত।
৯। প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনের কাছে একাকি শিশুকে না পাঠানো। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকেও সন্তানকে দূরত্বে রাখা ও নজরদারিতে রাখা। আপনজনের কাছ থেকে শিশু নির্যাতিত বেশি হয় কিন্তু আমরা সম্পর্ক ছিন্ন হবার ভয়ে কিংবা উদাসীনতায় এটি একদমই গুরুত্ব দেই না।
১০। স্কুল মাদ্রাসা কিংবা কোচিং সেন্টারে বা প্রাইভেট টিউটরের কাছে কী পড়ে বা কী করে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং সন্তানের থেকে সবকিছু সম্বন্ধে অবগত হওয়া।
১১। আমাদের আইনি ব্যবস্থাকে কঠোর করা প্রয়োজন।
১২। দ্রুত বিচার কাজ সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।
সব শেষে বলব, আমার সন্তানের সুরক্ষার জন্য আমাদের সন্তানদের সুরক্ষার জন্য, আসুন সবাই একাত্ম হই। আর কোন সন্তানের নির্যাতন ধর্ষণ চাই না আমরা।

নাজনীন তৌহিদ 


















