নীলফামারীর জলঢাকায় কাগজে-কলমে সারের কোনো সংকট নেই। সরকারি হিসাব অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নির্ধারিত দামও স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এ চিত্র ভিন্ন। গত কয়েক সপ্তাহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও এলাকা ঘুরে লক্ষ করা যায় মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা!সরকারি দামে সার না পেয়ে অনেকটা দিশেহারা হয়ে পরেছে কৃষকরা।
অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছে।ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদনের মৌসুমে ডিলাররা ইচ্ছাকৃতভাবে সারের ঘাটতির অজুহাত দেখান। অথচ গোপনে বেশি দামে খুচরা বিক্রেতার কাছে সার বিক্রি করা হচ্ছে। নজরদারির অভাবে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের চক্রটি পুরো উপজেলায় সারের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকার নির্ধারিত মূল্যে এক বস্তা ডিএপি সার ১০৫০ বিক্রির কথা থাকলেও বাস্তবে বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। একই অবস্থা টিএসপি ও এমওপি সারের ক্ষেত্রেও। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনছেন, কেউ আবার পর্যাপ্ত সার না পেয়ে চাষাবাদে ঝুঁকি নিচ্ছেন।
উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মবিন বলেন, “ডিলারের কাছে গেলে বলে সার নেই। কিন্তু খুচরা দোকানে গেলে পাওয়া যায়, তবে দাম অনেক বেশি।পৌর শহরের কৃষক মহুবর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ডিলারের পিছনে ঘুরেও সার পাই না।উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তা পাইনা কিন্তু বেশি দাম দিলে ঠিকই সার পাওয়া যায়। সার এখন সোনার হরিণ হয়ে গেছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রধান ধান উৎপাদনের বড় অংশ আসে বোরো মৌসুমে। এ সময়ে সারের বাজারে অনিয়ম চলতে থাকলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে চালের বাজারে। ফলে শুধু বরাদ্দ ও মজুতের হিসাব দিলেই হবে না—মাঠ পর্যায়ে কার্যকর তদারকি ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের কাছে সারের সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আশীষ বিশ্বাস, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ 



















