ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ ত্রিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সংরক্ষিত বনে ১০ ফুট দেয়াল, হুমকিতে টেকনাফের বন্যপ্রাণী

 

সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে অবকাঠামো নির্মাণ সাধারণত কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে কক্সবাজারের টেকনাফ-এ বনের ভেতর প্রায় ১০ ফুট উঁচু ও দীর্ঘ দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নতুন করে পরিবেশগত উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফ রেঞ্জের মুচনী বিটের নয়াপাড়া এলাকায় ২৬নং শালবাগান ক্যাম্পসংলগ্ন সংরক্ষিত বনের ভেতরে এই নির্মাণকাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেয়ালটির দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজার ফুট পর্যন্ত হতে পারে।

 

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের অংশ হিসেবে UNDP-এর বাস্তবায়নে এবং World Bank-এর অর্থায়নে কাজটি এগোচ্ছে। তবে প্রকল্পের নকশা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) বা অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বনের ভেতরে এ ধরনের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচলের পথ সংকুচিত করবে। বিশেষ করে খাদ্য অনুসন্ধান, প্রজনন ও আবাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।

 

বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফ গেম রিজার্ভ-সহ শালবাগান ও ন্যাচারপার্ক এলাকায় প্রায় ২৮৬ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাস রয়েছে। অতীতে এসব এলাকায় প্রাণীদের অবাধ বিচরণ থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানববসতি ও অবকাঠামো বিস্তারের কারণে তাদের গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে।

 

পরিবেশবিদদের ভাষ্য, সংরক্ষিত বনের ভেতরে এ ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। এতে কিছু প্রজাতির স্থানান্তর, সংঘর্ষ বৃদ্ধি কিংবা বিলুপ্তির ঝুঁকিও তৈরি হয়।

 

অন্যদিকে, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কয়েকজন প্রতিনিধির আশঙ্কা—দেয়াল ঘিরে বিচ্ছিন্ন বা নিয়ন্ত্রণহীন এলাকা তৈরি হলে তা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অবস্থান জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে স্বচ্ছতা, পরিবেশগত যাচাই এবং জনস্বার্থ বিবেচনা জরুরি। অন্যথায় তা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও মানুষের জন্য সমানভাবে ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয়

উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট

সংরক্ষিত বনে ১০ ফুট দেয়াল, হুমকিতে টেকনাফের বন্যপ্রাণী

আপডেট : ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

 

সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে অবকাঠামো নির্মাণ সাধারণত কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে কক্সবাজারের টেকনাফ-এ বনের ভেতর প্রায় ১০ ফুট উঁচু ও দীর্ঘ দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নতুন করে পরিবেশগত উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফ রেঞ্জের মুচনী বিটের নয়াপাড়া এলাকায় ২৬নং শালবাগান ক্যাম্পসংলগ্ন সংরক্ষিত বনের ভেতরে এই নির্মাণকাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেয়ালটির দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজার ফুট পর্যন্ত হতে পারে।

 

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের অংশ হিসেবে UNDP-এর বাস্তবায়নে এবং World Bank-এর অর্থায়নে কাজটি এগোচ্ছে। তবে প্রকল্পের নকশা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) বা অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বনের ভেতরে এ ধরনের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচলের পথ সংকুচিত করবে। বিশেষ করে খাদ্য অনুসন্ধান, প্রজনন ও আবাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।

 

বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফ গেম রিজার্ভ-সহ শালবাগান ও ন্যাচারপার্ক এলাকায় প্রায় ২৮৬ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাস রয়েছে। অতীতে এসব এলাকায় প্রাণীদের অবাধ বিচরণ থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানববসতি ও অবকাঠামো বিস্তারের কারণে তাদের গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে।

 

পরিবেশবিদদের ভাষ্য, সংরক্ষিত বনের ভেতরে এ ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। এতে কিছু প্রজাতির স্থানান্তর, সংঘর্ষ বৃদ্ধি কিংবা বিলুপ্তির ঝুঁকিও তৈরি হয়।

 

অন্যদিকে, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কয়েকজন প্রতিনিধির আশঙ্কা—দেয়াল ঘিরে বিচ্ছিন্ন বা নিয়ন্ত্রণহীন এলাকা তৈরি হলে তা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অবস্থান জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে স্বচ্ছতা, পরিবেশগত যাচাই এবং জনস্বার্থ বিবেচনা জরুরি। অন্যথায় তা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও মানুষের জন্য সমানভাবে ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।