নীলফামারী সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তুলেছেন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চাপড়া সরমজানী ইউনিয়নের ২নং নতিব চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা (ভারপ্রাপ্ত) শিউলী বেগম তার বিদ্যালয়ের মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ পান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয়টি সংস্কারের এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
প্রধান শিক্ষিকার দাবি, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রাক্কলন অনুযায়ী তিনি সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বরাদ্দকৃত টাকা সোনালী ব্যাংক থেকে উত্তোলনের জন্য চেকের মাধ্যমে ৮০ হাজার টাকা (ভ্যাট ও আয়কর বাদে) ছাড় করানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চেকের বিপরীতে স্বাক্ষর নিতে গেলে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রধান শিক্ষিকাকে টাকা উত্তোলনের পর তার সাথে দেখা করতে বলেন। প্রধান শিক্ষিকা অভিযোগ করেন, টাকা উত্তোলনের পর ওই কর্মকর্তা তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। উপায় না পেয়ে তিনি সাখাওয়াত হোসেনকে নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করতে বাধ্য হন।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা শিউলী বেগম গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই অনিয়মের বিচার চেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাখাওয়াত হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একটি মাকড়সার জালের মধ্যে পড়ে গেছি আগে জাল থেকে বের হই তারপর রোববার জানাবো।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: জছিজুল আলম মন্ডল জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপনি রোববার আসেন আপনার সাথে কথা হবে।

আশীষ বিশ্বাস, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ 



















