ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ যখন রাজধানীজুড়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই সময়ে ঘটে গেল অপ্রত্যাশিত এক সহিংসতা। ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে বিজয়নগরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। রিকশাযোগে প্রচারণার পথে তিনি ছুটছিলেন নিজের এলাকার দিকে। হঠাৎ মোটরসাইকেলে আসা দুজন মুখোশধারী কাছে গিয়ে টানা গুলি ছোড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলিটি সরাসরি হাদির মাথায় লাগে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোশকাত আহমেদ বলেন, হাদি এখন গভীর কোমায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার আরেকটি বেদনাদায়ক দিক আছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার মাত্র তিন ঘণ্টা আগে নিজের ফেসবুকে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দিয়েছিলেন হাদি। সেখানে লিখেছিলেন, যেহেতু ঢাকা-৮ এ তার কোনো পোস্টার বা ব্যানার নেই, তাই ছেঁড়া বা নষ্ট হওয়ার দুঃশ্চিন্তাও নেই। সঙ্গে যোগ করেছিলেন, দুদক কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘জুম্মা মোবারক’। কথাগুলোতে ছিল প্রার্থীর নিজের প্রতি হতাশা, আবার ছিল রাজনৈতিক নিয়তির দিকে নির্ভার এক ইঙ্গিত।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন একটি প্রশ্ন—একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজধানীর বুকে দুপুরের আলোয় কীভাবে এভাবে হামলার শিকার হন। নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা কি সীমা ছাড়াচ্ছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গোষ্ঠীর পরিকল্পিত নাশকতা—সবই এখন তদন্তের দাবি তুলছে।
বিজয়নগর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ঘটনার আগে কোনো সতর্কতা ছিল না। হামলাকারীরা কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে গুলি চালিয়ে দ্রুত দৌড়ে মোটরসাইকেলে উঠে পালিয়ে যায়।
হাদির পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, রাজনৈতিক মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু প্রাণনাশের মতো সহিংসতার কোনো বৈধতা নেই।
নির্বাচনের ঠিক আগে এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, রাজনীতির মাঠ যত উত্তপ্তই হোক, সহিংসতার লক্ষ্য কখনোই একজন মানুষ হতে পারে না। এখন সব নজর ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে—হাদি বাঁচবেন কি না, সেই প্রার্থনায় স্থির হয়ে আছে পুরো দেশ।

মোঃ আনজার শাহ 



















