অঝোর ধারায় বৃষ্টি, কাঁদা-পিচ্ছিল পাহাড়ি পথ—সব কিছু উপেক্ষা করে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা রুহুল কবির রিজভী পৌঁছে গেলেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়িতে। এই সফর যেন পাহাড়-সমতলের মাঝে সম্পর্কের এক নতুন সেতুবন্ধন হয়ে উঠেছে।
ঋতুপর্ণা চাকমার নিজ এলাকায়, রাঙামাটির প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে রিজভীর আগমন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পাহাড়ি জনগণ—চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ অন্যান্য জাতিসত্তার মানুষ উচ্ছ্বসিত হয়ে জড়ো হন তাকে স্বাগত জানাতে। চারপাশে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
রিজভী আহমেদের এই সফর শুধুই একজন জাতীয় ক্রীড়াবিদের খোঁজখবর নেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল একান্তভাবে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার প্রকাশ। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সাথে একাত্ম হয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় দলকে যারা গর্বিত করেছে, তারা জাতির সম্পদ। পাহাড়ে জন্মালেও তারা এই দেশেরই সন্তান। তাদের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের মানবিক ও ঘনিষ্ঠ উদ্যোগ দীর্ঘদিন পর তারা প্রত্যক্ষ করলেন। এ সফর পাহাড়-সমতলের মাঝে ঐক্য ও সহাবস্থানের বার্তা পৌঁছে দিল বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
অনেকেই মনে করছেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে রিজভীর এ সফর হতে পারে এক যুগান্তকারী সূচনা। পাশাপাশি ফুটবলের মতো জাতীয় খেলায় পাহাড়ি মেয়েদের অংশগ্রহণও আরও উৎসাহ পাবে।
ঋতুপর্ণা চাকমা বলেন, “আজ আমি শুধু একজন ফুটবলার নই, আমি গর্বিত পাহাড়ি কন্যা হিসেবে সম্মানিত বোধ করছি।” তিনি রিজভীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এই সফর আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে।”
জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাহাড়ি অঞ্চলের জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা এবং ভালবাসা আগেও ছিল, এখনও আছে। ভবিষ্যতে উন্নয়ন, শিক্ষা ও খেলাধুলার প্রসারে দলের এই সংযোগ আরও বাড়বে বলেও জানানো হয়।
এই সফর প্রমাণ করে, রাজনীতি শুধু শহুরে বৈঠক বা বক্তৃতা কেন্দ্রিক নয়—এটি হতে পারে মাঠে-মাঠে, কাঁদা-পথে কিংবা দূর পাহাড়ি কোনো গ্রামে গিয়েও। আর সেখানে মানুষের হৃদয় জয় করাই হতে পারে সত্যিকারের নেতৃত্বের প্রমাণ।

মোঃ আনজার শাহ 



















