ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ ত্রিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রয়োজনে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে হামলা চালাবে ভারত: জয়শঙ্কর

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর | সংগৃহীত ছবি

 

ইউরোপ সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সোমবার (৯ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে পাকিস্তানের আরও ভেতরে ঢুকে হামলা চালানো হবে।

 

জয়শঙ্কর বলেন, ‘সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসী হামলা হলে ভারত পাকিস্তানের যেকোনো স্থানে আঘাত হানবে। আমরা এভাবে বসে থাকব না। তাদের কাছে আমাদের বার্তা স্পষ্ট— ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামের মতো বর্বরোচিত হামলা যদি তারা (পাকিস্তান) চালায়, তাহলে প্রতিশোধ নেয়া হবে। বিশেষকরে সন্ত্রাসী সংগঠন ও তাদের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।’

 

তিনি যোগ করেন, ‘তারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, আমাদের কিছু যায় আসে না। পাকিস্তানের গভীরে থাকলেও আমরা সেখানে ঢুকে আঘাত হানব।’

 

জয়শঙ্কর বর্তমানে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় ব্যস্ত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তান খোলাখুলিভাবে হাজার হাজার সন্ত্রাসীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতের মধ্যে অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

 

জয়শঙ্কর বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারে পাকিস্তান খুবই অভ্যস্ত। এটাই মূল সমস্যা। তিনি মে মাসের ১০ তারিখে ভারতের বিমান হামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেদিন পাকিস্তানের আটটি প্রধান বিমানঘাঁটি অকার্যকর করা হয়েছিল, যার ফলেই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব হয়েছিল।’

 

ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে ফিগারো-কে দেয়া আরেক সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আসল সমস্যা কাশ্মীর নয়, সমস্যা সন্ত্রাসবাদ। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে লালন ও সমর্থন করায় এটি ভারত-পাকিস্তানের ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীরা যেখানেই থাকুক, ভারত তাদের খুঁজে বের করবে—এমনকি পাকিস্তানের ভেতরেও।

 

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কে জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারত কোনো পক্ষের সমর্থন করে না।’ তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মস্কো ও কিয়েভ উভয় স্থানেই সফর করেছেন এবং ভারত উভয় দেশকেই সহায়তা দিয়েছে। তিনি যুদ্ধের অবসান ও সরাসরি আলোচনার ওপর জোর দেন।

 

জয়শঙ্কর বলেন, ‘এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোটা বিশ্ব চায় যুদ্ধ যেন শেষ হয়। ভারত ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর পক্ষ থেকে কথা বলছে।’

 

প্রসঙ্গত, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে সীমান্তবর্তী ও নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির অঞ্চলে অভিযান চালায়। নয়াদিল্লির তথ্য অনুযায়ী, এ অভিযানে ৭০ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। পাকিস্তানের দাবি, নিহত হয়েছেন ১১ সেনাসহ মোট ৫১ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৭৮ জন।

 

৯ মে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ান উম মারসুস’ নামে পাল্টা অভিযান চালায়। এতে ভারতে অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ৪৬ জনের বেশি আহত হন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ মে থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনও প্রবল।

জনপ্রিয়

উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট

প্রয়োজনে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে হামলা চালাবে ভারত: জয়শঙ্কর

আপডেট : ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর | সংগৃহীত ছবি

 

ইউরোপ সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সোমবার (৯ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে পাকিস্তানের আরও ভেতরে ঢুকে হামলা চালানো হবে।

 

জয়শঙ্কর বলেন, ‘সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসী হামলা হলে ভারত পাকিস্তানের যেকোনো স্থানে আঘাত হানবে। আমরা এভাবে বসে থাকব না। তাদের কাছে আমাদের বার্তা স্পষ্ট— ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামের মতো বর্বরোচিত হামলা যদি তারা (পাকিস্তান) চালায়, তাহলে প্রতিশোধ নেয়া হবে। বিশেষকরে সন্ত্রাসী সংগঠন ও তাদের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।’

 

তিনি যোগ করেন, ‘তারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, আমাদের কিছু যায় আসে না। পাকিস্তানের গভীরে থাকলেও আমরা সেখানে ঢুকে আঘাত হানব।’

 

জয়শঙ্কর বর্তমানে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় ব্যস্ত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তান খোলাখুলিভাবে হাজার হাজার সন্ত্রাসীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতের মধ্যে অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

 

জয়শঙ্কর বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারে পাকিস্তান খুবই অভ্যস্ত। এটাই মূল সমস্যা। তিনি মে মাসের ১০ তারিখে ভারতের বিমান হামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেদিন পাকিস্তানের আটটি প্রধান বিমানঘাঁটি অকার্যকর করা হয়েছিল, যার ফলেই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব হয়েছিল।’

 

ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে ফিগারো-কে দেয়া আরেক সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আসল সমস্যা কাশ্মীর নয়, সমস্যা সন্ত্রাসবাদ। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে লালন ও সমর্থন করায় এটি ভারত-পাকিস্তানের ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীরা যেখানেই থাকুক, ভারত তাদের খুঁজে বের করবে—এমনকি পাকিস্তানের ভেতরেও।

 

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কে জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারত কোনো পক্ষের সমর্থন করে না।’ তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মস্কো ও কিয়েভ উভয় স্থানেই সফর করেছেন এবং ভারত উভয় দেশকেই সহায়তা দিয়েছে। তিনি যুদ্ধের অবসান ও সরাসরি আলোচনার ওপর জোর দেন।

 

জয়শঙ্কর বলেন, ‘এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোটা বিশ্ব চায় যুদ্ধ যেন শেষ হয়। ভারত ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর পক্ষ থেকে কথা বলছে।’

 

প্রসঙ্গত, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে সীমান্তবর্তী ও নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির অঞ্চলে অভিযান চালায়। নয়াদিল্লির তথ্য অনুযায়ী, এ অভিযানে ৭০ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। পাকিস্তানের দাবি, নিহত হয়েছেন ১১ সেনাসহ মোট ৫১ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৭৮ জন।

 

৯ মে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ান উম মারসুস’ নামে পাল্টা অভিযান চালায়। এতে ভারতে অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ৪৬ জনের বেশি আহত হন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ মে থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনও প্রবল।