ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ

আজ পহেলা বৈশাখ, স্বাগত বাংলা ১৪৩২

 

আজ সোমবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ ১৪৩২-এর প্রথম দিন। জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে দেশের সব মানুষ আজ নতুন বছরকে বরণ করছে নানা আয়োজনে, সুর-সংগীত, লোকজ মেলা, রঙিন শোভাযাত্রা এবং সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধারণ করে। নববর্ষের আনন্দ শোভাযাত্রা, সুর-সংগীত আর লোকজ মেলায় উৎসবমুখর হবে চারপাশ। নববর্ষকে আবাহন জানিয়ে বহুকণ্ঠে ধ্বনিত হবে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো…।’

 

আহ্ পান্তা-ইলিশ!

 

গত জুলাই’২৪ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবার নতুন পরিবেশে বর্ষবরণ উদ্‌যাপন হচ্ছে। উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য তাই ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’। মূল প্রতিপাদ্য সামনে রেখে জাতীয়ভাবে রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদ্‌যাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে আগেই জানিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

 

প্রভাতেই ঢাকার রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে রাগ ভৈরবীতে ‘মুক্তির গান’ দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণের প্রভাতি অনুষ্ঠান, যেখানে আলোর পথে মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এবারের আয়োজনে নেই ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জীদা খাতুন, যাঁর শূন্যতা অনুভব করেছে সবাই। প্রায় দেড় শতাধিক শিল্পীর পরিবেশনায় এ আয়োজন হয়ে উঠেছে বাঙালির মাটির সুর ও মানবপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রকাশ।

 

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন। ওই বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আসুন, আমরা বিগত বছরের গ্লানি, দুঃখ-বেদনা, অসুন্দর ও অশুভকে ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যয়ে, নতুন উদ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে চলি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান আমাদের সামনে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছে।’

 

পাহাড় ও সমতলের সব জনগোষ্ঠী এবার একসঙ্গে বৈশাখী উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। বর্ষবিদায়ে পাহাড়ে উৎসবের আমেজ লেগেছে আগেই। গতকাল রাজধানীতেও ছিল চৈত্রসংক্রান্তির নানা আয়োজন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবিদায়ের কনসার্টে গান গেয়েছে পাহাড় ও সমতলের বেশ কয়েকটি ব্যান্ডদল।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত ‘নববর্ষের আনন্দ শোভাযাত্রা’ এবার আরও বৈচিত্র্যময়। আগের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র জায়গায় নতুন নাম ও নতুন প্রেরণায় এটি রূপ পেয়েছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন পাহাড় ও সমতলের ২৮টি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা, যাঁরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও প্রতীক নিয়ে হাজির হন। আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল—‘নববর্ষে ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’, যা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রতিফলন।

 

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা, যা চলবে ৭ বৈশাখ পর্যন্ত। একইসঙ্গে একাডেমির নজরুল মঞ্চে চলেছে সংগীত, বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দিনভর বিভিন্ন জায়গায় চলছে ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ, লোকসংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য, ব্যান্ড শো এবং চীনা প্রযুক্তির ড্রোন শো।

 

বাংলা নববর্ষের উৎসব আজ শুধু রাজধানীতেই নয়, ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশ ও প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যেও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেসব অনুষ্ঠানের লাইভে দেশবাসী পাচ্ছেন এক অভিন্ন উৎসবের স্বাদ। রাষ্ট্র, সংস্কৃতি আর সমাজে এই উৎসব এখন আর কেবল একটি দিন নয়—এটি হয়ে উঠেছে জাতীয় ঐক্যের এক গর্বিত প্রতীক।

জনপ্রিয়

এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর

আজ পহেলা বৈশাখ, স্বাগত বাংলা ১৪৩২

আপডেট : ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫

 

আজ সোমবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ ১৪৩২-এর প্রথম দিন। জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে দেশের সব মানুষ আজ নতুন বছরকে বরণ করছে নানা আয়োজনে, সুর-সংগীত, লোকজ মেলা, রঙিন শোভাযাত্রা এবং সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধারণ করে। নববর্ষের আনন্দ শোভাযাত্রা, সুর-সংগীত আর লোকজ মেলায় উৎসবমুখর হবে চারপাশ। নববর্ষকে আবাহন জানিয়ে বহুকণ্ঠে ধ্বনিত হবে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো…।’

 

আহ্ পান্তা-ইলিশ!

 

গত জুলাই’২৪ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবার নতুন পরিবেশে বর্ষবরণ উদ্‌যাপন হচ্ছে। উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য তাই ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’। মূল প্রতিপাদ্য সামনে রেখে জাতীয়ভাবে রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদ্‌যাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে আগেই জানিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

 

প্রভাতেই ঢাকার রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে রাগ ভৈরবীতে ‘মুক্তির গান’ দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণের প্রভাতি অনুষ্ঠান, যেখানে আলোর পথে মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এবারের আয়োজনে নেই ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জীদা খাতুন, যাঁর শূন্যতা অনুভব করেছে সবাই। প্রায় দেড় শতাধিক শিল্পীর পরিবেশনায় এ আয়োজন হয়ে উঠেছে বাঙালির মাটির সুর ও মানবপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রকাশ।

 

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন। ওই বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আসুন, আমরা বিগত বছরের গ্লানি, দুঃখ-বেদনা, অসুন্দর ও অশুভকে ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যয়ে, নতুন উদ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে চলি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান আমাদের সামনে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছে।’

 

পাহাড় ও সমতলের সব জনগোষ্ঠী এবার একসঙ্গে বৈশাখী উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। বর্ষবিদায়ে পাহাড়ে উৎসবের আমেজ লেগেছে আগেই। গতকাল রাজধানীতেও ছিল চৈত্রসংক্রান্তির নানা আয়োজন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবিদায়ের কনসার্টে গান গেয়েছে পাহাড় ও সমতলের বেশ কয়েকটি ব্যান্ডদল।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত ‘নববর্ষের আনন্দ শোভাযাত্রা’ এবার আরও বৈচিত্র্যময়। আগের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র জায়গায় নতুন নাম ও নতুন প্রেরণায় এটি রূপ পেয়েছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন পাহাড় ও সমতলের ২৮টি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা, যাঁরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও প্রতীক নিয়ে হাজির হন। আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল—‘নববর্ষে ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’, যা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রতিফলন।

 

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা, যা চলবে ৭ বৈশাখ পর্যন্ত। একইসঙ্গে একাডেমির নজরুল মঞ্চে চলেছে সংগীত, বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দিনভর বিভিন্ন জায়গায় চলছে ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ, লোকসংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য, ব্যান্ড শো এবং চীনা প্রযুক্তির ড্রোন শো।

 

বাংলা নববর্ষের উৎসব আজ শুধু রাজধানীতেই নয়, ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশ ও প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যেও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেসব অনুষ্ঠানের লাইভে দেশবাসী পাচ্ছেন এক অভিন্ন উৎসবের স্বাদ। রাষ্ট্র, সংস্কৃতি আর সমাজে এই উৎসব এখন আর কেবল একটি দিন নয়—এটি হয়ে উঠেছে জাতীয় ঐক্যের এক গর্বিত প্রতীক।