ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট মায়ানমারে পাচারকালে সেন্টমার্টিনে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯ আর কত রামিসাকে হারাতে হবে? রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই, ৫-৭ দিনের মধ্যে বিচার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জমকালো আয়োজনে গুরুর বাড়ি কিডস কমিউনিটির বৈশাখী কিডস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালী ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন টানা ৮ ঘণ্টার বেশি গণপরিবহন চালালেই লাইসেন্স বাতিল ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রস্তুত ২৫১ রেলকোচ ত্রিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে দুদকের অভিযান: দুই দালালের জেল

 

নানা অনিয়ম, ঔষধ ঘাটতি এবং রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসময় সেখানে বিভিন্ন অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার কথা জানান দুদক পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন।

 

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে দুদকের একটি দল জেলা হাসপাতালে প্রায় ৩ ঘন্টাব্যাপি এই অভিযান চালানো হয়।

 

 

দুদক কর্মকর্তা প্রথমেই তত্বাবধায়ককে সাথে নিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে, হাসপাতালের রান্না ঘরে অনিয়ম, রোগীদের খাবার কম দেওয়া, চিকিৎসকদের স্বেচ্ছাচারিতা ও সঠিক সময়ে হাসপাতালে না আসা, রোগীদের সাথে দূর্ব্যবহার, হাসপাতালে সুযোগ থাকা স্বত্তেও বেসরকারি ক্লিনিক ডায়গনস্টিক সেন্টারে রোগ নির্নয় পরীক্ষার জন্য চাপ প্রয়োগের সত্যতা পায় দুদক।

 

অভিযান শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন সূত্রে জানা যায়, সকালে নিজেদের পরিচয় গোপন করে জেলা সদর হাসপাতালে চলমান অভিযান পরিচালনা করে দুদক। এ সময় সরকারি কাজে বাধা প্রদান করার অভিযোগে রাজিব মন্ডল (২২) ও রাহাত রব্বানী (২৪) নামে দুই দালালকে আটক করা হয়। পরে দুদকের পাঁচ সদস্যের একটি দল হাসপাতালের রান্নার জায়গা, বিভিন্ন বিভাগ, ঔষধের স্টোর রুমে অভিযান পরিচালনা করে।

 

এসময় খাবারের পরিমাণ এবং ওষুধ মজুদে গরমিল পায় দুদক। দেখা যায়, খাবারে প্রতিদিন ১০০ জনকে জনপ্রতি ৬০ গ্রাম করে মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ৫০ গ্রাম করে দেওয়া হয় এবং নিম্নমানের চাল সরবরাহ করা হয়। শিশু বিভাগের ওষুধ সরবরাহ রেজিস্টারে কডসন (১০০ মিলিগ্রাম) নামের ৪০০ পিস ওষুধ এবং ট্রাইজেট (২৫০ মিলিগ্রাম) নামের ৩ হাজার ৭২৭ পিস ঔষধ থাকার কথা থাকলেও সেখানে কোনো ঔষদ পাওয়া যায়নি।

 

 

অভিযানে দেখা যায়, হাসপাতালে ওষুধ ও অন্যান্য মালামাল সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাউথ বাংলা কর্পোরেশন ওষুধ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে না পারায় ১ কোটি ৭৬ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকার একটি চেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রদান করলেও হাসপাতালের নথিপত্রে ওষুধের সঠিক সরবরাহ দেখানো হয়।

 

অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই দালালকে ১৫ দিনের কারাদন্ড, একইসঙ্গে ১০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই দিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন পিরোজপুরের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াজ মাহমুদ।

 

দন্ডপ্রাপ্ত রাজিব মন্ডল পিরোজপুর সদর উপজেলার উত্তর শোরগোলা গ্রামের রবিন মন্ডলের ছেলে এবং রাহাত রব্বানী সদর উপজেলার খামকাটা গ্রামের আজাদ রব্বানীর ছেলে।

 

সার্বিক বিষয়ে দুদক পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে আমাদের চলমান অভিযানে দুই দালালকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানে হাসপাতালে নিম্নমানের খাবার, ঔষদ এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে ১ কোটি ৭৬ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকার একটি গরমিল পাওয়া যায়। এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এ বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি গত অর্থবছরের ছিল, তখন আমি ছিলাম না। তবে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে গাফিলতির বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।

জনপ্রিয়

উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাগেরহাট

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে দুদকের অভিযান: দুই দালালের জেল

আপডেট : ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫

 

নানা অনিয়ম, ঔষধ ঘাটতি এবং রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসময় সেখানে বিভিন্ন অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার কথা জানান দুদক পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন।

 

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে দুদকের একটি দল জেলা হাসপাতালে প্রায় ৩ ঘন্টাব্যাপি এই অভিযান চালানো হয়।

 

 

দুদক কর্মকর্তা প্রথমেই তত্বাবধায়ককে সাথে নিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে, হাসপাতালের রান্না ঘরে অনিয়ম, রোগীদের খাবার কম দেওয়া, চিকিৎসকদের স্বেচ্ছাচারিতা ও সঠিক সময়ে হাসপাতালে না আসা, রোগীদের সাথে দূর্ব্যবহার, হাসপাতালে সুযোগ থাকা স্বত্তেও বেসরকারি ক্লিনিক ডায়গনস্টিক সেন্টারে রোগ নির্নয় পরীক্ষার জন্য চাপ প্রয়োগের সত্যতা পায় দুদক।

 

অভিযান শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন সূত্রে জানা যায়, সকালে নিজেদের পরিচয় গোপন করে জেলা সদর হাসপাতালে চলমান অভিযান পরিচালনা করে দুদক। এ সময় সরকারি কাজে বাধা প্রদান করার অভিযোগে রাজিব মন্ডল (২২) ও রাহাত রব্বানী (২৪) নামে দুই দালালকে আটক করা হয়। পরে দুদকের পাঁচ সদস্যের একটি দল হাসপাতালের রান্নার জায়গা, বিভিন্ন বিভাগ, ঔষধের স্টোর রুমে অভিযান পরিচালনা করে।

 

এসময় খাবারের পরিমাণ এবং ওষুধ মজুদে গরমিল পায় দুদক। দেখা যায়, খাবারে প্রতিদিন ১০০ জনকে জনপ্রতি ৬০ গ্রাম করে মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ৫০ গ্রাম করে দেওয়া হয় এবং নিম্নমানের চাল সরবরাহ করা হয়। শিশু বিভাগের ওষুধ সরবরাহ রেজিস্টারে কডসন (১০০ মিলিগ্রাম) নামের ৪০০ পিস ওষুধ এবং ট্রাইজেট (২৫০ মিলিগ্রাম) নামের ৩ হাজার ৭২৭ পিস ঔষধ থাকার কথা থাকলেও সেখানে কোনো ঔষদ পাওয়া যায়নি।

 

 

অভিযানে দেখা যায়, হাসপাতালে ওষুধ ও অন্যান্য মালামাল সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাউথ বাংলা কর্পোরেশন ওষুধ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে না পারায় ১ কোটি ৭৬ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকার একটি চেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রদান করলেও হাসপাতালের নথিপত্রে ওষুধের সঠিক সরবরাহ দেখানো হয়।

 

অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই দালালকে ১৫ দিনের কারাদন্ড, একইসঙ্গে ১০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই দিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন পিরোজপুরের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াজ মাহমুদ।

 

দন্ডপ্রাপ্ত রাজিব মন্ডল পিরোজপুর সদর উপজেলার উত্তর শোরগোলা গ্রামের রবিন মন্ডলের ছেলে এবং রাহাত রব্বানী সদর উপজেলার খামকাটা গ্রামের আজাদ রব্বানীর ছেলে।

 

সার্বিক বিষয়ে দুদক পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে আমাদের চলমান অভিযানে দুই দালালকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানে হাসপাতালে নিম্নমানের খাবার, ঔষদ এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে ১ কোটি ৭৬ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকার একটি গরমিল পাওয়া যায়। এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এ বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি গত অর্থবছরের ছিল, তখন আমি ছিলাম না। তবে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে গাফিলতির বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।